প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্তিত্ব রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণে হাজারো মানুষ

নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত খুলনার কয়রা উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ অস্তিত্ব রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে স্বেচ্ছায় কাজ করেছেন। রবিবার ভোর ৬টা থেকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়ায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ করেছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।

জানা যায়, আগে থেকেই মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালীয়ায় বেড়িবাঁধ বাঁধার ঘোষণা দেওয়া ছিলো। ফলে এদিন দূর-দূরান্ত থেকে কেউ হেঁটে, কেউ নৌকা বা ট্রলারে করে নিজ নিজ দায়িত্বে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ বাঁধতে চলে আসেন। নদীতে ভাটা চলাকালে দল-মত নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করেছেন স্থানীয় মানুষ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেড়িবাঁধ ভেঙে এ এলাকায় লোনা পানি প্রবেশ করে মানুষের বসতঘর ও রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি ফসলি জমি, মৎস্য ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে বসতঘর হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। সবকিছু হারিয়ে মানুষ শেষ অস্তিত্ব রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করছেন। তবে এ এলাকার কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের ভাঙন আটকাতে পারলেও এখনও কয়েকটি আটকানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি থাকায় কয়রা উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের অনেক বাড়িতেই পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ এলাকায় শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া এবং সর্দি-জ্বর পানিবাহিত অনেক রোগে।

 

কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন লোনা পানির মধ্যে দিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করায় সারা শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাড়ির সকলের চর্ম রোগের পাশাপাশি পাতলা পায়খানা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, মানুষ গত কয়েকদিন পানিবন্দি থাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আমরা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। পাশাপাশি আমাদের মেডিকেল টিম পানিবন্দি এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেছে।

কয়রা উপজেলায় বসবাসরত মানুষের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় আইলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ১২ বছর পার হলেও এ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যখনই বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে, তখনই এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করে। এরপর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য আগত বরাদ্দের টাকা দিয়ে সেই স্থানে আরেকটু কাজ হয়। তবে যেটুকু কাজ হয় তা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার মতো টেকসই নয়।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তাই দশহালিয়ার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজে কয়রা সদর ইউনিয়ন, বাগালি ইউনিয়ন ও মহারাজপুর ইউনিয়নের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন।

 

তিনি আরো বলেন, বার বার বেড়িবাঁধ ভাঙায় মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ কাজ হচ্ছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হয় না। ফলে ঠিকাদারদের নির্মাণকৃত দুর্বল বেড়িবাঁধ ঘূর্ণিঝড়- জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করতে পারছে না।

বেড়িবাঁধে স্বেচ্ছায় কাজ করতে আসা আব্দুস সাত্তার বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে ভিতরে লোনা পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজে এসেছি। বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে না পারলে এ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। সরকারের কাছে ত্রাণ চাই না, আমরা টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ চাই। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা সেটাও যাচাইয়ে অনুরোধ করছি।

 

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম আব্দুল্লাহ আল মামুন (লাভলু) বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে বস্তা ও মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করেছি। পাশাপাশি ভেতর দিয়ে রিং বাধ দেওয়ারও চেষ্টা করেছি। তবে জোয়ারের পানি চলে আসায় সম্পূর্ণ বাধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আরো কয়েকদিন সকলে মিলে কাজ করতে পারলে ভাঙা বেড়িবাঁধ আটকানো সম্ভব।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এসএম ইসলাম বলেন, প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ একসঙ্গে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করেছি। তবে জোয়ারের পানি চলে আসায় সম্পূর্ণ কাজ করা সম্ভব হয়নি। আরো ২-৩দিন কাজ করলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকানো সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত