প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মারুফ কামাল খান: করোনা-কূটনীতি, ব্যাপারটা দারুণ ইন্টারেস্টিং!

মারুফ কামাল খান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে, তিনি করোনা ভাইরাসের উৎস খুঁজে বার করবার জন্য তাঁর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে হুকুম দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে অনুসন্ধান আরও অনেক বেশি জোরদার করতে বলেছেন। এ ব্যাপারে ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট রিপোর্ট চান গোয়েন্দাদের কাছে।

ভাইরাস ও মহামারির উৎস খোঁজা মূলত মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের কাজ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব দিলেন গোয়েন্দাদের। কাজেই ব্যাপারটাকে আর ব্যাধিসংক্রান্ত গবেষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। গোয়েন্দাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণের এই রাজনৈতিক ঘোষণা দাঁড়াচ্ছে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ বা চাপ হিসেবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, এই মহামারীর ভাইরাস কোনো ল্যাবরেটরিতে দুর্ঘটনাজনিত লিক-এর কারণে ছড়িয়েছে, নাকি অন্য কোনো প্রাণি থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে তা নিয়ে গোয়েন্দা সমাজ এখনো একমত হতে পারেনি।

করোনা ভাইরাস থেকে কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ।

প্রথম চীনের উহান শহরে সনাক্ত হয়। পরে তা ছড়াতে ছড়াতে দুনিয়াজোড়া এক ভয়ানক অতিমারীর রূপ নিয়েছে। চীনারা জানায়, একটি সি-ফুড মার্কেট থেকে মানবদেহে প্রথম এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। অন্য কোনো প্রাণী থেকেই এ ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হয় বলেই চীন দেশের দাবি। তবে এর বিপরীতে একটি অভিযোগ উঠে যে, চীনা একটা ল্যাবরেটরিতে এসব ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপযুক্ত ছিল না, তাই একটি দুর্ঘটনাজনিত লিক-এর ফলে এ ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমিত হয়। কেউ কেউ এ ভাইরাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে উদ্ভাবিত বলেও অভিযোগ তোলে। অবশ্য এসব অভিযোগ সবই অপ্রমাণিত। চীন গোড়া থেকেই এই ল্যাবরেটরি তত্ত্বকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে।

ল্যাবরেটরি থিয়োরি ছাড়াও চীনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে, তারা অখণ্ড মানবজাতির কল্যাণে এই অতিমারী ও ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বকে যথাসময়ে যথাযথ তথ্য দেয়নি। প্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীল অনেক তথ্য তারা লুকিয়েছে। এতে সতর্কতা অবলম্বন ও জরুরি অনেক পদক্ষেপ নেয়া যায়নি। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বিস্তৃত হয়েছে। চীন এ অভিযোগও নাকচ করে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই আদেশের কথা প্রচারিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, আবারও ফিরে এসেছে কলঙ্ক আরোপ ও দোষ চাপাবার প্রচারণা। আবার নতুন করে উদ্ভব ঘটেছে সেই ‘ল্যাব লিক’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বের। বিশ^সভ্যতা ও মানব সমাজ এখনো করোনা জয় করতে পারেনি। এই মহামারী বিশ্বের নানা প্রান্তে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে এখনো মূর্ত আতঙ্ক হয়ে বিরাজ করছে। অসহায় মানুষ মরছে। এখন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ নিবেদিত হবার কথা করোনা জয়ের যুদ্ধে ও সাধনায়। কিন্তু বিশ্বের শাসকেরা সূচনা করলেন করোনা নিয়ে নতুন এক কূটনৈতিক যুদ্ধের। দুঃখজনক! ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত