প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংক-বীমা আর্থিক খাতের দাপট ডিএসইর লেনদেন দুই হাজার কোটি ছাড়িয়েছে

মাসুদ মিয়া: যত দিন যাচ্ছে ততই দেশের শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে। আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার ব্যাংক বীমা আর্থিক খাতের দাপটে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে বাজারটিতে দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছিল। সেই হিসেবে চলতি মাসে দুই কার্যদিবস ডিএসইতে দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। তার আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেননেদ হয়েছিল।

এবিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বিএসইসি শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই থেকে শেয়ারবাজারে প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেনও চলবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। এটা বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়িয়েছে।

গতকাল মূল্য সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয়। তবে প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় এক পর্যায়ে ডিএসই প্রধান সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

বীমা খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও কোনোভাবেই থামানো যায়নি এ খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধি।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো অন্য খাতের তুলনায় ঈর্ষণীয় লভ্যাংশ দেয়ার পরও দর বৃদ্ধি না পাওয়ায় হতাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের। সেই হতাশা এখন অনেকটাই কেটে গেছে ব্যাংকের শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে।

মাঝে দুদিন মূল্য সংশোধনে সূচকের পতন হলেও ঢালাও শেয়ার বিক্রি করেননি বিনিয়োগকারীরা। আগে টানা সূচক বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক থাকত, এখন সূচকের পতন হবে। আর যখনই সূচকের পতন হতো, তখন টানা অব্যাহত থাকত সেই পতন।

এমন অবস্থা থেকে বের হয়ে এখন বিনিয়োগকারীরা খাতওয়ারি বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। কোনো একটি খাত থেকে মুনাফার বিপরীতে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়লেও সেদিনই অন্য একটি খাতের উত্থান হয়। ফলে সূচকে বড় ধরনের কোনো প্রভাব দেখা যায় না।

গতকাল লেনদেনে ব্যাংক খাতের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮টির; কমেছে দুটির, দর অপরিবর্তিত থাকে একটির। বীমা খাতের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির দর কমেছে ছয়টির দর অপরিবর্তিত থাকে তিনটির। নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১২টির; দর কমেছে সাতটির; অপরিবর্তিত থাকে চারটির।

লেনদেনের পাশাপাশি ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেইসঙ্গে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। মূল্যসূচকের এই উত্থানে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক ও বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। দুই বাজারেই সিংহভাগ ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে।

এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২০ পয়েন্টের ওপরে বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও বাড়ে। দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকের পতন হলেও প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পিছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক ও বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। ডিএসইতে সব খাত মিলে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫০টির এবং ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৮২০ কোটি ৭ লাখ টাকা। সেই হিসেবে লেনেদেন বেড়েছে ১৮৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে প্রাইম ব্যাংক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, সাইফ পাওয়ার, কনফিডেন্স সিমেন্ট, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৩৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৯টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সম্পাদনা : রেজা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত