প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খোশরোজ সামাদ: ইজরাইল, হামাস লড়াই- কে জিতলো, কে হারলো? 

খোশরোজ সামাদ: [১] ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিনিরা গণহত্যা চালিয়েছিলো। জিতেছিলো কে? পরাজয়ের গ্লানি মেখে তাদের ভিয়েতনাম ছাড়তে হয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদারেরা ৩০ লাখ বাঙালি নিধন করলেও পৃথিবী দেখেছে পাকিস্তানিদের পরাজয়ের দৃশ্য। [২] অধিকাংশ শিশু আর নারীসহ প্যালেস্টাইনের প্রায় ২৫০ জনকে হত্যা করলেও  মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইজরাইল  যুদ্ধবিরোধী চুক্তিতে সাক্ষর করতে বাধ্য হয়। প্রশিক্ষিত  সেনাবাহিনী, অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যোগবিয়োগ উল্টে ফেলে হামাস। মুহুর্মূহু রকেট হামলা তাদের ডোম, মিসাইল প্রতিরক্ষার ব্যুহকে বিপর্যস্ত করে দেয় হামাস। ইজরাইলের বুকের ভেতর খোদ তেল আবিবকে  হামাসের রকেটের স্বাদ নিতে হয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইজরাইলকে তাদের আশঙ্কার চেয়ে অধিক রক্ত আর ধ্বংসযজ্ঞ দিয়ে তাদের জাত্যাভিমানের মূল্য দিতে হতো।

[৩] ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ইজরাইল এক কপট এবং ভন্ড রাষ্টের নাম। হিটলার একাই পৃথিবীকে প্রায় ইহুদিশূন্য করে ফেলেছিল। হাজারো শরণার্থীকে সরলমনা প্যালেস্টাইনিরা আশ্রয় দিয়েছিল। তারা কূটকৌশল আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের শাখা প্রশাখা বিস্তার করে প্যালেস্টাইনদের নিজ বাসভূম থেকে ভৌগলিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবের উৎখাতের যে দীর্ঘ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল তারই অংশ হিসেবে আল আকসা মসজিদে তারাবী নামাজ পরতে আসা  প্যালেস্টাইনীদের ওপর নির্যাতন চালায়। বছরের পর বছর টানা নির্যাতনের বাঁধ ভেঙে হামাস ইজরাইলে রকেট ছোঁড়ে। এটিকে‘পুঁজি’ করে আক্রমণের ছুঁতো খোঁজা  যুদ্ধবাজ ইজরাইলিরা আকাশ এবং স্থল পথে হামলা শুরু করে।

[৪] মার্কিন রাষ্ট্র যথারীতি ইহুদি তোষণ নীতি  চালিয়ে গেলেও খোদ আমেরিকার বুক ইজরাইলের বিরুদ্ধে এবং প্যালেস্টাইনের  নিরীহ জনগোষ্ঠীর পক্ষে করোনাকে উপেক্ষা করেও মিছিলে রাজপথ সয়লাব হয়ে যায়। ইউরোপের অধিকাংশ দেশের হাজার শান্তিকামী মানুষ প্যালেস্টাইনের পক্ষে প্ল্যাকার্ড ধারণ করেন।দুনিয়ার বিভিন্ন  ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বিভিন্ন সমীকরণে জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট করে।

[৫] দুঃখজনক হলেও সত্যি মুসলিম দুনিয়ার অনেক রাষ্ট্রকে প্রত্যাশিতভাবে প্যালেস্টাইনের পক্ষে  অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। [৬] ইজরাইলের জনগোষ্ঠী এক কোটিরও কম। এই হামলা এবং শান্তিচুক্তিকে শতধা বিভক্ত ইজরাইল জনগোষ্ঠী এবং মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট নিতানিয়াহুর গ্রহণ্যযোগ্যতাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যুদ্ধ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচের ভয়াল থাবা ইজরাইলের রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা কৃষ্ণ গহবরকে আরও উদগ্র করে তুলেছে।

[৭]এই যুদ্ধে হামাসের রকেট হামলার  হতবিহবলতা আরও গভীর হয় যখন লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ারও রকেট ছুঁড়তে থাকে। সাইরেনের ভয়াল শিৎকারে ইজরাইলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কেঁপে কেঁপে উঠে। ছবিতে জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে ওয়েস্টার্ন সাহারায় কাজ করবার কিছু ছবি সংযুক্ত করা হলো।

[৮]এটি নিছক ধর্ম নিয়ে লড়াই নয়। প্রতিটি নিক্ষিপ্ত রকেটে লেখা আছে  নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা প্যালেস্টাইন বীরদের নাম। আছে নিজ বাসভূম থেকে উৎখাতকৃত ভয়ার্ত আর্তনাদকরা নিরীহ শিশু ও নারীর কান্না।  ইতিহাসের নির্মোহ রায়  সবসময়  লড়াই সংগ্রাম করা নির্যাতিতদের  বিজয়ীর বরমাল্য পরিয়ে দেয়। যেমন ভিয়েতনাম অসম প্রতিপক্ষ মার্কিনীদের পরাজিত করেছিল, পাকিস্তানকে বাংলাদেশ তেমনই আরব দুনিয়ার এই লড়াইয়ে  হাজার হাজার রকেট শুধু  নিক্ষেপ করেই নয়  মনস্তাত্ত্বিক বা নৈতিক দিক দিয়ে প্যালেস্টাইনিদের বিজয় হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত