প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুইচ দিলেই মসজিদের উপর চলে আসে গুম্বুজ

ইসলাম ডেস্ক: মুসলিমদের অন্যতম প্রিয় মসজিদ পবিত্র মসজিদে নববী। রাসুল (সা.)-এর শহর মদিনায় অবস্থিত ওই মসজিদের নামে ময়মনসিংহে দৃষ্টিনন্দন এক মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নামও রাখা হয়েছে ‌‘মদিনা মসজিদ’। মসজিদটির অবস্থান জেলা সদরের চরখরিচা গ্রামে।

অত্যাধুনিক এই মসজিদটি ময়মনসিংহ তথা দেশের ইতিহাসে এক অনন্য স্থাপনা। বিশেষত্ব হচ্ছে- বৈদ্যুতিক গম্বুজের সংযোজন। সুইচ অন করলেই সরে যায় গম্বুজটি। আর মসজিদের ভেতর থেকেই দেখা যায় পুরো ঝকঝকে নীল আকাশ।

বৈদ্যুতিক গম্বুজ ছাড়াও এখানে রয়েছে আরও আটটি স্থির গম্বুজ। রয়েছে দুটি উচু মিনার। মিনার দুটির উচ্চতা নিচ থেকে ১৬০ ফুট করে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে— মারবেল পাথর আর কাঠের কারুকাজ। কাঠগুলো আনা হয়েছে মিয়ানমার থেকে। মসজিদে মুসল্লিদের ওঠানামার সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে একটি চলন্ত সিঁড়িসহ মোট পাঁচটি সিঁড়ি। রয়েছে ছোটবড় মোট ছয়টি দরজা।

দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় দুইশো কোটি টাকা। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

চরখরিচা গ্রামের জামিয়া মাহমুদিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার কম্পাউন্ডে সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশে ২০১১ সালে এই মদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর উদ্যোক্তা ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান। স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিত্তবানদের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহযোগিতায় তিনি এ মসজিদের নির্মাণ শুরু করেন।

নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০১৭ সালের ৩ মার্চ জুমা আদায়ের মাধ্যমে নামাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি খুলে দেওয়া হয়। ৪ তলা বিশিষ্ট এ মসজিদের ভেতরে কাতারের সংখ্যা ১৭টি। প্রতি কাতারে ১১০ জন মুসল্লি নামাজের জন্য দাঁড়াতে পারবেন।

মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। আর এলাকাবাসী বলছেন, বিশেষত্ব, সৌন্দর্য ও নান্দনিকতায় মসজিদটি সহজেই স্থান করে নেবে ইতিহাসের পাতায়।

বাকের হোসেন নয়ন নামে একজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখনো পর্যন্ত মদিনা যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তবে আমাদের এলাকায় মসজিদে নববীর আদলে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। যেখানে আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়তে পারছি। এটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসে। সবাই দেখে মুগ্ধ হয়। এজন্য আমরাও তৃপ্ত ও গর্বিত। আমরা আশা করি ও দোয়া করি, এই মসজিদকে কেন্দ্র করে মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের কবুল করেন এবং আমাদের ক্ষমা করে দেন।

নির্মাণপ্রতিষ্ঠান সুবাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে জানান, মসজিদটির প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে বৈদ্যুতিক গম্বুজ। যা মসজিদে নববীর আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এই সৌন্দর্যের কারণে মসজিদটি দেশে এক অনন্য নজির।

তিনি আরও বলেন, এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। একটি মিনারের কাজ বাকি আছে। তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়াও মোট ৭ একর জায়গা নিয়ে সীমানা প্রাচীরও করা হবে। আমরা আশা করছি,
আগামী এক বছরের মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।

সর্বাধিক পঠিত