প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টিকা উৎপাদন সক্ষমতা নেই অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানির

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনের জন্য দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাই করেছে ওষুধ প্রশাসন। তাতে করে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এগিয়ে থাকলেও আরেক কোম্পানি হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস তালিকার পেছনে পড়েছে। আর বেশিরভাগ কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতায় নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত টিকাবিষয়ক কোর কমিটির একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘অবকাঠামোগত বিষয়াদি যাচাই করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তিনটি ফার্মাসিউটিক্যালসের। তারা হলো ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। আমাদের দেশে এটা তৈরি করা যায় কিনা সে বিষয়ে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ইতোমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলেছে।’

দেশে টিকা উৎপাদনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত টিকাবিষয়ক কোর কমিটি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিগুলোর দ্রুত টিকা উৎপাদনের ক্ষমতা, কী পরিমাণ তৈরি করতে পারবে, টিকার মান বজায় থাকবে কিনা, কোম্পানির পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা এবং তাদের জনবল ও অবকাঠামো কতটুকু রয়েছে—এই পাঁচটি ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে কোম্পানি যাচাই করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন কোম্পানি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে তাদের সক্ষমতার কথা জানায়। প্রোফাইল চেক করে তাদেরই শর্টলিস্টেড করা হয়।

চাইলেই কেউ এই দৌড়ে নেমে পড়তে পারে না। এর প্রস্তুতি ভিন্ন। টিকা উৎপাদনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা বাড়তি যোগ্যতা বিবেচিত হয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস বর্তমানে ১৪টি ভ্যাকসিন তৈরি করছে। সেসব ভ্যাকসিন বিদেশে রফতানিও হয়।’

গত ৩ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে সভাপতি করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে সদস্য সচিব করে গঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহ বিতরণবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সভায় দেশের তিনটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। সেই সক্ষমতা যাচাইয়ের তালিকায় ছিল ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথ কেয়ার ফার্মা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছে, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনের জন্য দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে প্রস্তাব করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল পাঁচটি ইনডিকেটর, তথা শর্ত। ওই শর্তের ওপর ভিত্তি করেই কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আর তা মেনে নিয়ে এগিয়ে আসে ইনসেপটা, পপুলার ও হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

টিকা উৎপাদনের জন্য কিসের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাদের টিকা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে তাদেরই এখানে নেওয়া হয়েছে। টিকা তৈরির ল্যাব, টিকা তৈরির সক্ষমতা পুরোটাই ভিন্ন। এই সক্ষমতা সবার নেই। এ তিন কোম্পানির রয়েছে বলেই তাদের প্রাথমিক তালিকাতে রাখা হয়েছিল।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের টিকাবিষয়ক কমিটির এক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে কতগুলো কোম্পানির ভ্যাকসিন তৈরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটা আমাদের জানা। ভ্যাকসিন তৈরির অবকাঠামো যাদের রয়েছে তাদেরই এ তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

বড় কোম্পানিগুলো এই যাচাই পরীক্ষায় নেমেছিলেন কিনা সেই প্রশ্নে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তাদের মূলত ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটিস নেই। তাই তারা এ বিষয়ে কিছু ভাবেননি।

একই কথা জানান আরেক বড় দেশীয় কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আতিকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে টিকা তৈরি করার জন্য যে ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটিস থাকা দরকার, আমাদের এই মুহূর্তে সেই ফ্যাসিলিটিস নেই, এটা সবচেয়ে বড় ড্র ব্যাক।’

উল্লেখ্য, যে পাঁচ প্যারামিটারের ভিত্তিতে স্কোরিং করা হয়েছে সেখানে ইনসেপটা এবং পপুলার সার্ভাইভ করেছে। সূত্র জানায়, ইনসেপটা ২১ আর পপুলার ১২ পেয়েছে ২৫ এর মধ্যে। হেলথ কেয়ার পেয়েছে পাঁচ। অন্য কেউ অভিজ্ঞতা না থাকায় এই যাচাইয়ের আওতায় পড়ার কোনও সুযোগ নেই।

দেশে জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড দিয়ে দেশে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও চুক্তি অনুযায়ী এই টিকা দিতে পারছে না সেরাম ইনস্টিটিউট।

অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়ার অনিশ্চিয়তার মধ্যেই গত ২৮ এপ্রিল চীনের সিনোফার্ম এবং রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি বাংলাদেশে উৎপাদনের অনুমতি দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি। বাংলা ট্রিবিউন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত