প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীনবিরোধী কোয়াডে অংশ নিলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে : চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুনিয়িং

ডেস্ক রিপোর্ট : বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুনিয়িং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুনিয়িং বলেছেন, বাংলাদেশের কোয়াডে যোগ না দেওয়ার প্রশ্নে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করছে না বেইজিং। কারণ তারা মনে করে, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলাদেশ ও চীন সব সময় পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বুধবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাংলাদেশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অনানুষ্ঠানিক জোট কোয়াডে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেন। কোয়াডে অংশ নিলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লি জিমিংয়ের বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর বুধবার পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ মিন মোমেন চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে সোমবারের বক্তব্যের ব্যাখা চান। পরে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে লি জিমিং বলেন, তার বক্তব্য সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি ‘আউট অব কনটেক্সট’ সোমবার ওই বক্তব্য দিয়েছেন।

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর একজন সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হুয়া ছুনিয়িং বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই, বাংলাদেশ ও চীন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে। আমরা সব সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতায় বিশ্বাস করি। দুই দেশ সব সময় দুই দেশের মূল স্বার্থ সুরক্ষা ও প্রধান উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে একে অন্যকে জোরালোভাবে সমর্থন করি।’

তবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি কোয়াড কী ধরনের কাঠামো। কয়েকটি দেশ বিশেষ একটি জোট করে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর যে সংঘাত উসকে দিতে চায়, চীন সেটার বিরোধিতা করে।’

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে হুয়া ছুনিয়িং বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার যে, চীন সব দেশকে সমভাবে মূল্যায়ন করে। যেটা আমি বলেছি, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে। আমরা সব সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতায় বিশ্বাস করি। দুই দেশ সব সময় একে অন্যের মূল স্বার্থ সুরক্ষা ও প্রধান উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে একে অন্যকে জোরালোভাবে সমর্থন করি। দক্ষিণ এশিয়ায় অবশ্যই চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘কোয়াডের অভিপ্রায় কী, সেটা আমাদের চেয়ে ভারত ভালো করেই জানে। এটা কি চীনবিরোধী একটি ছোট জোট নয়? এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতার মানে কিন্তু হস্তক্ষেপ নয়। বরং তা ছোট জোট আর গোষ্ঠীবদ্ধ রাজনীতির বিরোধিতা।’
সূত্র-সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত