প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারা দেশে ৬৪ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ, উৎপাদন বাড়বে ১০ লাখ টন

নিউজ ডেস্ক: হাওরের শতভাগ ও সারা দেশের শতকরা ৬৪ ভাগ বোরো ধান এরই মধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান কাটা শেষ হবে। সারা দেশে এ বছর ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ বছর বোরো উৎপাদন বাড়বে ১০ লাখ টন।

বোরো ধান নিয়ে এসব তথ্য দিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি। গতকাল সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বোরো ধানের উৎপাদন পরিস্থিতি ও কৃষির সমসাময়িক বিষয়’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

হাওরের শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও স্বস্তির উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাওরভুক্ত সাতটি জেলায় এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে, যা দেশের মোট আবাদের প্রায় ২০ শতাংশ। আর শুধু হাওরে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে।

ধান কাটা মেশিন দ্রুত মাঠে দেয়া এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে শ্রমিকের সময়মতো যাতায়াত সুগম করার ফলেই এ বছর দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর একই সময়ে সারা দেশের মাত্র ৩৩ ভাগ ধান কাটা সম্ভব হয়েছিল। ধান কাটার মেশিন ও শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। এ বছর শুধু হাওরভুক্ত সাত জেলায়ই বহিরাগত শ্রমিক আনা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার (৪৯ হাজার ১০৮ জন)। এছাড়া এ বছর ধান কাটতে ২ হাজার ৬২০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৭৮৯টি রিপার মাঠে চলমান আছে।

ধান কাটা মেশিনের সুফল নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে একদিকে শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের দেয়া হচ্ছে। এটি সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা।

বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত না এলে বোরো ধান উৎপাদনে আর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা যায়। গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১০ লাখ টন উৎপাদন বেশি হবে।

বোরো ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বোরো ধান দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগের বেশি আসে এ বোরো থেকে। বছরে যে পরিমাণ (দুই কোটি টনের মতো) বোরো উৎপাদন হয়, তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, গত আউশ-আমনের ক্ষতি পোষাতে এ বছর বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদের দেয়া হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ হেক্টর বেশি (২ দশমিক ৭২ শতাংশ) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ বেড়েছে। হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে দুই লাখ হেক্টর জমি আবাদে ৭৬ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ বিনা মূল্যে দেয়া হয়।

এ বছর গড় ফলনের পরিমাণও বেশি হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর দেশে বোরো ধানের গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৯৭ টন, এ বছর গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ১৭ টন। অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বেড়েছে এ বছর শূন্য দশমিক ২০ টন (৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ)। তবে সারা দেশের শতভাগ ধান কাটা হয়ে গেলে গড় ফলনের পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

হিট শকে ক্ষতিগ্রস্ত বোরোচাষীদের জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ১০৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার কথায়, এ বছর ১৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার টন চাল।

গতকাল মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলরঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। – বণিক বার্তা

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত