প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোজাফ্ফর হোসেন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ১৯৭২ এবং ২০২১!

মোজাফ্ফর হোসেন: আমরা জানি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবাদী আন্দোলন বিশ্বে এখন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা যিনি আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তিনি তার ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনে পরিবেশের দিকেও দৃষ্টি দিয়েছেন। একদিকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন, অন্যদিকে জাতি পুনর্গঠনে কাজ করছেন, পাশাপাশি তার দূরদর্শী কর্মকাণ্ড থেকে বাদ যায়নি বৃক্ষরোপণের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা বজায় রাখতে তিনি বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিয়েছেন। সদ্য স্বাধীন দেশে তিনি সবাইকে বৃক্ষপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গণভবন, বঙ্গভবন ও বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ লাগিয়েছিলেন। তার স্মৃতিবিজড়িত কয়েকটি গাছ আছে জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায়। ১৯৭২ সালে রমনা মাঠে  ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে জুয়াখেলা বন্ধ করে তিনি নারকেলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে একটি উদ্যান তৈরির উদ্বোধন করে উদ্যানটির নামকরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন রাজধানীর ফুসফুস। ১৯৭২ সালে তিনি খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে তিনি একটি নারকেল গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃক্ষরোপণের কাজ করেছেন।

তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে শুধু জীবন ও সম্পদই নষ্ট হয়নি, দেশের বৃক্ষ ও বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা থেকে উত্তরণের জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। ১৯৭৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বাণীতে বলেন : ‘বনাঞ্চলগুলোতে সরকারি পর্যায়ে উন্নয়ন ও অধিক উৎপাদনশীল করার জন্য সরকার উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারি বনাঞ্চল-বহির্ভূত এলাকার ও জনসাধারণের সহযোগিতায় অধিক গাছ লাগিয়ে বৃক্ষসম্পদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের সময় এবং পরে অধিক বৃক্ষরোপণ করে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলা।’  ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত