প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হা-মীম কামরুল হক: বাংলা ভাষা গরিব লোকের ভাষা তো, তাই যা ইচ্ছা করা যায়!

হা-মীম কামরুল হক: বাংলা ভাষা গরিব লোকের ভাষা তো, তাই যা ইচ্ছা করা যায়! ইংরেজিতে নিজের মতো বানান লিখে দেখাক না কেউ! ইংরেজি ফরাসি জার্মান সব ক্ষমতার ভাষা। তাহলে  জগতের উন্নত দেশগুলোতে এতো বিচিত্র বিষয়ে লাখ লাখ অভিধান ছাপা হতো না। চীনা ভাষায় কোনো অক্ষর দিয়ে ইচ্ছামতো শব্দ বানানো যায় না, যেমন আমরা বানাই ‘কীয়েক্টাবস্তা’, ‘এগ্লা’ বা ‘মুঞ্চায়’। (কী দুর্ভাগ্য চিনাদের, তাদের বানান ‘চীন’ ছিল, আমরা বদলে নিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশকে তারা যে নামে ডাকে চিনা ভাষায় ‘মানজায়ালা’ তা মনে হয় না বদল করার সাধ্য কোনো চিনার আছে। ইংরেজি ফরাসি জার্মান বা যেকোনো ভাষায় কেউ ইচ্ছামতো বানান লিখতে পারে না।)

হায়, সেসব দেশের মানুষ আমাদের তুলনায় কত্ত পরাধীন, আর আমরা কী স্বাধীন, আমরা বানান বানাই, নিজের ইচ্ছামতো ‘খবর’ বানাই। (মুনিয়াদের ‘বেশ্যা’ বানাই, এদিকে কিন্তু আনবীরদেরকে ‘বেশ্য’ বানাতে পারি না। কারণ তারা ক্ষমতাবান, তাদের বেলায় নতুন কোনো বাংলা শব্দ যেমনটা বললাম ‘বেশ্য’ বানানো যাবে না।) তারা কতো পিছিয়ে আছে। তারা ভাষার জন্য রক্ত দেয়নি, তাই ভাষাকে ‘ইচ্ছামতো ব্যবহারের স্বাধীনতা’টি অর্জন করেনি। তারা তাদের ভাষাকে কঠোরভাবে সংরক্ষণ করে আজ সব দিকে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে! তাই না? বলা হয়, ৫২ সালের আগের লেখকেরা ‘রক্ত দিয়ে’ বাংলা লিখতো, এখন আমরা সবাই ‘কালি দিয়ে’ বাংলা লিখি। এজন্যই আমাদের ভাষা আজ এতো উন্নত, যা দিয়ে উচ্চতর জ্ঞান-বিজ্ঞান কি উচ্চামানের সাহিত্যচর্চাও সম্ভব হচ্ছে। বাংলা ভাষায় দুপাতা যা খুশি লিখেই কেউ লেখক হয়ে যাচ্ছে। কী ভাগ্য যে সেই ভাষায় আমরাও লিখতে পারছি।  আহা কী কপাল। বলো বলো কী হে গোপাল। বাংলাভাষাতে যা খুশি “বানান” লেখার স্বাধীনতার জয় হোক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তবে আমি কিন্তু বাংলা ভাষা নিয়ে এদেশে আমাদের মতো ‘উঠতি-শিক্ষিত’দের (আর্ট-কালচারকরিয়েদের) বিপুল স্বাধীনতাভোগ আর তেলেসমাতি দেখে বিস্ময়ে বোকা বা ‘নিত্য নতুন বাংলা ভাষা-সৃষ্টিকারদের ভাষা’য় ‘হাব্লা’ মদন হয়ে গেছি! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত