প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হেফাজতের তাণ্ডবের ৪৯ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি ৮ বছরেও

মাসুদ আলম : [২] ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে বিশাল সমাবেশ করে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিলো হেফাজতে ইসলাম। ১৩ দফা দাবিতে ওই কর্মসূচি থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ বায়তুল মোকরাম ও পল্টন এলাকায় বেপরোয়া তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫৩টি মামলা দায়ের করে। আসামি করা হয় হেফাজতের শীর্ষ স্থানীয় নেতাসহ কয়েক হাজার কর্মীকে। মামলাগুলোর মধ্যে ৪টির অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও তদন্ত আটকে আছে ৪৯টি।

[৩] মামলার এজাহারে নাম ছিলো বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতারও। কিন্তু সে সময় অল্প কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আইনের আওতায় আসেনি বেশিরভাগই। আট বছর পর হেফাজতের সেই সব নেতাকর্মীকে আইনের আওতায় আনছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

[৪ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাগুলোর অভিযোগপত্র খুব দ্রুত আদালতে দাখিল করা হবে। অন্যদিকে,হেফাজতের আইনজীবীরা বলেন, দীর্ঘ আট বছরেও এ মামলায় তদন্ত শেষ না হওয়া খুবই দুঃখজনক। যে ৪৯টি মামলা তদন্তে আটকে আছে তার মধ্যে ১৭টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং ৩২টি পল্টন ও মতিঝিল থানা পুলিশের হাতে রয়েছে।

[৫] গত মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ ও পরবর্তী সময়ে যে নাশকতা হয়েছে সেসব ঘটনায় নতুন করে হেফাজতের বিরুদ্ধে আরও ১২টি মামলা হয়েছে। ফলে হেফাজতের বিরুদ্ধে মোট ৬৫টি মামলার মধ্যে ৬১টি মামলা তদন্তাধীন এখন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এত দিন মামলাগুলোর তদন্ত থমকে ছিলো। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার কারণে পুরানো মামলাগুলো আবারও সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

[৬] গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত দুই ডজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত নেতা মামুনুল হকও রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় হেফাজতের উদ্দেশ্য ছিলো নাশকতা চালিয়ে ক্ষমতা দখল করা। তাদের পেছনে তৃতীয় শক্তি কাজ করছে। হেফাজতের অর্থদাতাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে।

[৭] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, হেফাজতের মধ্যে যারা সহিংসতায় জড়িয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।

 

সর্বাধিক পঠিত