শিরোনাম
◈ মার্চে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  ◈ বিশ্বকাপ থে‌কে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া ক্রিকেটের জন্য বাজে দৃষ্টান্ত : এ‌বি ডি ভিলিয়ার্স ◈ ভোলা এলএনজির বিকল্প প্রস্তাব, সাশ্রয় হবে ৯ হাজার কোটি ◈ পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে হাইকোর্টের হুঁশিয়ারি ◈ যুক্তরাজ্যে অতিদারিদ্রের সংখ্যা ৬৮ লাখ, ৫৩ শতাংশ বাংলাদেশি ◈ ভুয়া তথ্যে কানাডার ভিসার আবেদন: বস্তায় ভরে ৬০০ বাংলাদেশির পাসপোর্ট ফেরত ◈ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী পেপ্যাল ◈ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে যুবরাজ সালমানের নিষেধাজ্ঞা ◈ যুক্তরাষ্ট্রে গুলি করে হত্যার জন্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ◈ ৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত সিদ্ধান্ত, কিন্তু শেয়ার বিনিয়োগকারীরা রয়ে গেল অনিশ্চয়তায়

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ০২:২৭ রাত
আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ০২:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল: ৩০ বছরেও অরক্ষিত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ

নিউজ ডেস্ক: ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সন্দ্বীপের উপকূলীয় গ্রামগুলো লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মৃত্যু ঘটে নানা বয়সের হাজারো মানুষের। সেইসাথে গৃহপালিত পশু ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় মানুষের রক্ষাকবচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ।

ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় তান্ডবের পর ৩০ বছর কেটেছে। কিন্তু উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলো বছরের পর বছর অরক্ষিত থাকায় এখনো নিশ্চিত হয়নি সামাজিক নিরাপত্তা। এতদিনেও ভাগ্য বদল হয়নি অত্র অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম উৎস হচ্ছে আশ্রয়ণ কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড়ের ৩০ বছরেও দুই উপজেলায় আজও নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়ণ কেন্দ্র। এ দুই উপজেলার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ এখনো ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে রয়েছেন।

উপকূলীয় জনপদে এখনো বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী। তারা বলেন, '৫৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যে ১৮ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে যাতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা যায়, সেইজন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পরিপত্র পাঠানো হয়েছে।'

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় ১৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। চকরিয়া-পেকুয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমে কোনো এলাকা যাতে বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজও চলছে। বর্তমানে ৩১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ ও মাতামুহুরী নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় কাজ হচ্ছে।'

প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় এখনো নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার। বেড়িবাঁধগুলোও পুরোপুরি মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি বছরের পর বছর ধরে। ফলে এখনো উপকূলীয়বাসী অরক্ষিত ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

তবে আমাদের আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রচেষ্টায় উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৫ শত ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে পাথরের কাজসহ তিনটি প্রকল্পের ৬৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে বুধবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পরুয়াপাড়ার ফুলতলী (পারকি সৈকত), বার আউলিয়া, উত্তর গহিরা, দক্ষিণ গহিরা, মধ্যম গহিরা, ঘাটকূল, বাইন্নার দিঘী, ফকিরহাট, এলাকাসহ উপকূলে চলছে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে উপকূলবাসীর জীবনচিত্র। তবে যেসব এলাকায় পাথর বসানো হয়নি সেসব এলাকা নিয়ে শঙ্কিত বাসিন্দারা।

স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রবীণ শিক্ষক মৌলানা আবদুর রহিম বলেন, 'আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। আজ এ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।'

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, 'উপকূল রক্ষায় ভূমিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সরকারের বরাদ্দকৃত কাজ যথাযথ বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন হলে ইউনিয়নের অর্ধ লাখ মানুষের শঙ্কা দূর হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দয়াল কুমার ত্রিপুরা জানান, আনোয়ারা উপকূলের সাগর, নদী ও খালের বাঁধ নির্মাণে ৫শ' ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। তিনটি প্রকল্পে পাথর বসানোসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের পথে। ইতিমধ্যে পুরো প্রকল্পের ৬৬% কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। - যায়যায়দিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়