প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: পাশের দেশে মৃত্যুর উৎসব দেখেও কি আপনার উৎসবটা সীমিত করা যায় না ভাই?

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না- এই প্রবাদ সত্যি হতে দেখা কেমন ভয়ংকর জানেন? গার্ডিয়ান রিপোর্ট করেছে, ভারতের উত্তর প্রদেশে বিজেপির এমপি পরিবহন মন্ত্রী বিজয়কুমার সিং তার ভাইয়ের জন্য বেড না পেয়ে টুইটারে পোস্ট দিয়েছেন। অথচ এই জানুয়ারি মাসেই বিজেপির তারা দল বেঁধে করোনার বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। দিল্লির অনেক হসপিটাল দরজায় লিখে রেখেছে, অক্সিজেন সাপ্লাই নেই বলে রোগী ভর্তি নিতে পারবে না। শ্মশানে ঠাঁই না পেয়ে লাশ পোড়াতে হচ্ছে ফুটপাতে। এমনকি মুসলমানদের অনেকে জাত-পাত ভুলে লাশ পোড়াচ্ছে। পুরো দুনিয়ার গণমাধ্যম ধুমায়ে গালাগালি দিচ্ছে মোদির ইন্ডিয়াকে৷ অবস্থা কতোটা ভয়ংকর হইছে তা কি বুঝতে পারছেন? নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের প্রচারণা করেছেন মাস্ক ছাড়া, সেই প্রচারণায় তিনি বলেছেন, এতো মানুষের ভিড় তিনি আগে দেখেননি। অথচ সেদিন ভারতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে। অমিত শাহ আর মোদী যেদিন জনসভা করেছেন সেদিন একাই পশ্চিমবঙ্গে কেস ধরা পড়েছে ৭৭১৩টা। সারা ভারতে মারা গেছে ১৩৪১ জন আর নতুন ২,৩৪,০০০ জন পজিটিভ। ২৫ এপ্রিল মারাই গেছে ২৬০০। শনাক্ত বেড়ে গড়ে হয়েছে ৩ লাখ। অন্ধত্ব আর লোভ কোথায় নিয়ে যায় মানুষকে তা কী বুঝতে পারছেন?  ভিসুভিয়াস যখন লাভা উদগীরণ শুরু করে তখন পম্পেই নগরীতে উৎসব চলছিলো শহর ধ্বংসের কয়েক মিনিট আগেও। অথচ কয়দিন আগেই কুম্ভমেলায় ভারতের ৫০ লাখ মানুষ এক হয়েছেন এবং হিন্দুত্ববাদী সরকার হওয়ায় সেটা ঠ্যাকাবার চেষ্টাও করেনি। সেসব ছবি দেখে শিউরে ওঠতে হয়, বেশির ভাগই মাস্ক পরেনি৷ ধরে নিয়েছে ভগবান বাঁচাবে। এখন তারা অক্সিজেনের জন্য কাতরাচ্ছে কেন বলতে পারেন?

কয়দিন পর ঈদ, দয়া করে আল্লাহ বাঁচাবে ধরে নিয়েন না। ঈদের জামায়াতটা বাদ দেন, জুম্মাসহ সকল নামাজ বাসায় পড়েন। অন্ধ বিশ্বাসী হলেও ধরে নেন ঈশ্বর আপনার বুদ্ধির পরীক্ষা নিচ্ছেন। বরং আশেপাশের গরিবদের নিজে কিছু সাহায্য করেন পারলে৷ ঈদের ইবাদত আর আনন্দ হোক সাহায্য করায়, মাস্ক পরায়, হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঘষায়। এই রাষ্ট্র অসুস্থ হলে আপনাকে হাসপাতালে সিট দিতে পারবে না, সেটা মেনেই শপিং মলে যান৷ দোকানপাট খুলে দেওয়া মানে অন্যের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ তুলে নেয়া নয়। গরিবের রিকশা না উল্টে নিজেদের স্বভাব উল্টো না করলে, তাদের বাড়িতে খাবার না পৌঁছে দিলে আগামী ঈদ হবে নতুন কুম্ভমেলা।

যেকোনো সংকটে ধর্ম, জাতীয়তাবাদের মুখোশ খুলে যায়, বেরিয়ে আসে মানুষের আসল পরিচয়। ভারতীয় মুসলমানরা মসজিদে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলছেন, হিন্দুরা মন্দিরের প্রার্থনা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সেবাকে। এখন টুইটারে পাকিস্তানের এক নম্বর ট্রেন্ড- #Indianeedsoxygen। চিরদিনের শত্রু পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ আর এনজিওগুলো সাহায্য পাঠাতে চাইছে,  দরকার হলে সেইসব ছবি দেখে আসেন। দেখে আসেন মানুষ কী অসহায় হয়ে রাস্তায় অক্সিজেন সিলিন্ডার জাপটে ধরে আছে পড়ে আছে। ভারতের ট্র্যাজেডি কেমন- সেটা বুঝতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ছবি দেখেন।  #Bdneedsoxygen লেখার জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে সামান্য সচেতন হন৷ দরকার না পড়লে বাইরে বের হবেন না। ভারতের হরিয়ানা রাজ্য তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের বর্ডারও কাল থেকে বন্ধ থাকবে৷ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে ভারত৷ চিকিৎসা করতে ভারত যাওয়া পাবলিকরা মনে রাখেন- এতো উন্নত চিকিৎসা নিয়েই যেখানে ভারত পারছে না, সেখানে ঈদের শপিং করতে বেরিয়ে পড়বেন না প্লিজ। এতো ভালো চিকিৎসা খাত নিয়েও ভারত যে বিপদে পড়েছে তা দেখে শেখেন। নিজেকে বলেন- পরের ঈদ করার জন্য এই ঈদটা বিসর্জন দিলাম। পাশের দেশে মৃত্যুর উৎসব দেখেও কী আপনার উৎসবটা সীমিত করা যায়না ভাই? মরা বাড়ির পাশে বিয়েবাড়ির গান কি না বাজালেই হয় না? ঈদ গেলেতো ঈদ পাবেন, প্রাণ গেলে কী প্রাণটা ফেরত পাবেন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত