প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে এক বছরে নতুন ১০ হাজার কোটিপতি

ডেস্ক রিপোর্ট: ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা মহামারির এক বছরে বেড়েছে ১০ হাজারের বেশি। এখন কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারী ৯৩ হাজারের বেশি, ১৯৭১ সালে যা ছিল মাত্র ৫ জন। অদৃশ্য এক জীবাণুতে বিপর্যস্ত সবকিছু। উৎপাদন এবং চাহিদা না থাকায় অর্থনীতিতে কমছে সাধারণ মানুষের আয়। তবে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশে দ্রুত হারে বাড়ছে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ। মহামারির এক বছরে বেড়েছে কোটিপতির সংখ্যা।newsbangla24

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি বা তার বেশি টাকা আমানত আছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৫১টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত বছর শেষে মোট কোটিপতি ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭৯০টি। ২০১৯ সালে কোটিপতি হিসাব ছিল ৮৩ হাজার ৮৩৯টি।

২০২০ সালের কোটিপতি হিসাবধারীদের মোট আমানতের পরিমাণ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে মহামারীতেও কেন বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশে কোটিপতি সংখ্যা বাড়ার এই হার ইঙ্গিত দেয় যে, করোনা মহামারিতে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আর গরিবেরা হচ্ছে আরও গরিব। ফলে বাড়ছে বৈষম্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬টি। এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট আমানতের প্রায় ৪৪ শতাংশ টাকাই তাদের দখলে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৩ হাজার ৮৭৫টি। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭ হাজার ৯৫৬টি।

৫ কোটি ১ টাকা থেকে ১০ কোটির মধ্যে হিসাব রয়েছে ১০ হাজার ৪৭২টি। এর আগে ২০১৯ সালে যা ছিল ৯ হাজার ৪২৬টি। ১০ কোটি ১ টাকা থেকে ১৫ কোটির মধ্যে হিসাব ৩ হাজার ৫০৭টি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ হিসাবধারী ছিল ৩ হাজার ১৮৪ জন।

১৫ কোটি ১ টাকা থেকে ২০ কোটির হিসাবধারী ১ হাজার ৬৩২ জন। আগে যা ছিল ১ হাজার ৪৭২ জন। ২০ কোটি ১ টাকা থেকে ২৫ কোটির মধ্যে হিসাব রয়েছে ১ হাজার ১৩৩ জনের। ২০১৯ সালে যা ছিল ৯৯৭ জন। ২৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৩০ কোটির মধ্যে ৭২৫ জন। এর আগের বছর এ হিসাবধারী ছিল ৫৮৮ জন। ৩০ কোটি ১ টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে হিসাবধারী ৩৮৪ জন। এর আগের বছর যা ছিল ২৪৬ জন।

৩৫ কোটি ১ টাকা থেকে ৪০ কোটির মধ্যে হিসাবধারীর সংখ্যা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে এমন হিসাবের সংখ্যা ২৯৪টি। আগের বছর এমন হিসাবধারী ছিলেন ৩৮৪ জন। গত এক বছরে ৪০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৮টি, যা ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিল ৩৫৮টি। এই সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে যা ছিল ১ হাজার ২৮৩ জন।

অর্থাৎ এক বছরে ৫০ কোটি টাকার বেশি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ১০৭ জন। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৫ জন, যা ১৯৭৫ সালে ৪৭ জনে উন্নীত হয়।

দেশে কোটিপতিদের সংখ্যা ১৯৮০ সালে ছিল ৯৮ জন, ১৯৯০ সালে ৯৪৩ জন, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২ জন, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩ জন। গত ১২ বছরে দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাজে বৈষম্য ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়ছে। কোটিপতির সবাই অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করেছে এমন নয়। তবে এসব অর্থের উৎস খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, মহামারির বছরেও কোটিপতির সংখ্যা বাড়ার এই পরিসংখ্যান সমাজে বেড়ে চলা বৈষম্যের চিত্রকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ দেশের মোট অর্থ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের কাছে পুঞ্জিভূত হয়ে আছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি মানে টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৯৩ হাজার হলেও বাস্তবে কোটিপতির সংখ্যা আরও বেশি।’

চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো ব্যাংকে যে কোনো পরিমাণ অর্থ জমা রাখলেও কোনো প্রশ্ন করা হবে না, এমন বিধান রাখা হয়েছে। এর প্রভাবেও কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত