প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবদুন নূর তুষার: আমাদের নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই আমরা জিতি-হারি

আবদুন নূর তুষার: যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক মনে করেন আইসিইউ বেড বাড়ানো মানে করোনা চিকিৎসার সুবিধা বাড়া, তিনি একটি ভুলের মধ্যে আছেন।

[১] করোনার কোনো সরাসরি চিকিৎসা নেই। আমাদের নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই আমরা জিতি-হারি। আইসিইউ বেডে রোগী বাড়া মানেই মৃত্য বাড়া ও সংক্রমণ বাড়া। কোনো ওষুধ সরাসরি চিকিৎসা করে না। ঘুরপথে করে।

[২] সংক্রমণ বাড়া মানে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এবং প্রতিরোধ কার্যকর হচ্ছে না।

[৩] বেড বাড়ালে লাভ নেই যদি ক্রিটিক্যাল কেয়ার নেওয়ার চিকিৎসক ও জনবল না থাকে। ভালো জনবল না থাকলে আইসিইউ মানে খরচ করে মরণ।

[৪] কোভিড সংক্রমণজনিত মহামারী নিয়ন্ত্রণ হয়ে গেলে এতো আইসিইউ বেড কাজে লাগবে না। সেটা তখন আরেক ধরনের খরচের চাপ বাড়াবে।

[৫] মহামারীর ফলে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলায় পরিকল্পনাহীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যতো বেশি আইসিইউ বেড ততো বেশি রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা।

[৬] যে দেশে বা এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি সেখানে সংক্রমণের সংখ্যা কমাতে না পারলে কোনোভাবেই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

[৭] লকডাউন হাজার বছরের পরীক্ষিত পদ্ধতি। এটা দিয়ে ছোট জনসংখ্যার দেশে মহামারী বন্ধ করা যায়। বড় জনসংখ্যার দেশেও সংক্রমণ কমিয়ে মহামারীকে আয়ত্বে রেখে টেস্ট আইসোলেশন কোয়ারেন্টিন ও ভ্যাকসিনেশন করে মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

[৮] লকডাউন একটি অস্থায়ী ঘটনা। তবে এটা ঠিকমতো না করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বাড়ে। কারণ মানুষ হলো এই রোগের বাহন। লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষে মানুষে সংস্পর্শ কমিয়ে রোগটিকে আটকানো। লকডাউনে রাস্তায় লাইন দিয়ে জিলাপি বেচাকেনা করলে এটা সম্ভব না।

[৯] হয় ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা হিসেব করে পূর্ণ লকডাউন দিতে হবে অথবা অর্থনীতি পুরো চালু করে দিতে হবে। মাঝামাঝি কিছু করলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের রোগীর মতো হঠাৎ সব মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

[১০] লকডাউনে কারখানা খোলা রাখলে বা অফিস আদালত খোলা থাকলে কেবল লাভ হয় ধনীদের। তারা পূর্ণ লকে থেকে জীবাণুর হাত থেকে নিজেকে বেশি সুরক্ষিত রাখতে পারে আর কাজ যারা করে তারা অরক্ষিত থাকে। তাতে সংক্রমণ কমে না। আইসিইউ বেডে যেতে পারার সামর্থ্য আছে যাদের তাদের ইনফেকশন কম হয় আর গরিব ওখানে যেতে না পেরে ভাগ্যকে মেনে নেয়।

[১১] করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন কিনা এটার জন্য বিদেশি পত্রিকার বাহবা দরকার নেই। রোগ নিয়ন্ত্রণ করলে আপনারা নিজেরাই টের পাবেন। না পারলে সেটাও বুঝবেন।

[১২] জনগণকে করোনা রোডম্যাপ জানিয়ে দিয়ে তাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে; সব কাঁচাবাজার হাসপাতাল হলেও লাভ হবে না।

[১৩] আইসিইউ যে কোনো মৃত্যপথযাত্রী মূমুর্ষ রোগীর জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা মাত্র। এটাকে করোনার চিকিৎসা ভাবা ঠিক না। বরং করোনায় আপনার জীবনের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার সময় শেষ চেষ্টা হলো আইসিইউ। সেখানে যখন করোনা ছিল না তখনো অন্য রোগী যেতো। কিন্তু এভাবে সংকট হতো না কারণ এক রাতে ৪০০০ লোকের হার্ট অ্যাটাক হয় না।

কিন্তু করোনা হয় ও তাদের মধ্যে ৪০০ জনের আইসিইউ লাগতে পারে। একেকজন চারদিন আইসিইউতে থাকলে। মোট ১৬০০ আইসিইউ বেড দরকার। তাই রোগী বাড়লে আইসিইউ পাবে না।

[১৪] এতো কথা বললাম যাতে জনস্বার্থে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বেহুদা সমালোচনা বন্ধ করেন। তারা সাহায্য করার জন্যই বলেছেন। দেশের সব লোক রোগী বানিয়ে বেডের পাশে দাঁড়াতে যাতে না হয়। কথাগুলো শুনলে লাভ হতো।

[১৫] তাদের কথা সময়মতো শুনলে এবং আমাদের করোনা হয় না, আমাদের ইম্যনিটি ভেজাল খেয়ে শক্তিশালী; আমরা পেরে গেছি বলে বগল না বাজালে আজকে এই অবস্থা হতো না।

[১৬] তথ্য সেন্সরশীপেও লাভ হয় না। উল্টো মানুষ ভয় না পেয়ে তখন আইনকানুন স্বাস্থ্যবিধির পরোয়া করে না কারণ তারা সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেয়।

[১৭] রোগ ঠেকাতে সাফল্যের বাহবা নিলে এখন ঠেকাতে না পারার দায় এই স্বাস্থ্যব্যবস্থার হর্তাকর্তাদের নিতে হবে।

[১৮] সময় থাকতে এই ডিনায়াল থেকে বের হয়ে সঠিকভাবে কাজ করলে এখনো ড্যামেজ কন্ট্রোল সম্ভব। যদি না হয় তবে এরপর আস্থার সংকটে এসব কর্তাব্যক্তিদের কেউ বিশ্বাস করবে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত