প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিসেম্বরে উৎপাদনে যাবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

বাশার নূরু:[২]আগামী জুন মাসে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে প্রথম ইউনিট চালুর কথা ছিল তা হচ্ছে না। পিছিয়ে থাকা কাজ শেষ করে ডিসেম্বরে এক ইউনিট উৎপাদনে যেতে পারবে।

[৩]২০১২ সালে খুলনার রামপালে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারি- কাটাখালী ও কৈর্গদাশকাঠী এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মান প্রক্রিয়া ২০১৪ সালে শুরু হয়। ১ হাজার ৮৩৪ একর জমির ওপরে নির্মিত হওয়া কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ- ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড যৌথভাবে নির্মাণ করছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

[৪]মূল কাজ শেষ করতে দেরি হলেও ভূমি উন্নয়ন কাজ, সীমানা প্রাচীর ও স্লোপ প্রোটেকশন কাজ, মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফেন্সিং কাজ, নির্মাণ কাজের বিদ্যুৎলাইন, নির্মাণ কাজের পানিসহ বেশ কিছু কাজের পুরোটাই শেষ হয়েছে। সূত্র: সারাবাংলা

[৫]গত সাত বছরে ৬৪ শতাংশের মতো কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কোম্পানি বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি- বিআইএফপিসিএল। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুতে পিছিয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনকল্যাণমূলক কাজেও এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের জন্য তারা বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, বিনামূল্যে ওসুধ বিতরন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো কাজগুলো নিয়মিত করছে।

[৬]জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরেই বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রীর অন্যতম প্রধান স্মারক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

[৭]রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আফসার উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, গত বছর করোনার কারনে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ কাজে ভীষণ ক্ষতি হয়। কাজ পিছিয়ে যায়। অনেক কর্মচারী-কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে। যা ফের শুরু করতে তিন মাস সময় লেগে যায়। তাই আসছে জুনে প্রথম ইউনিট চালু করা সম্ভব না।

[৮]প্রায় সাত বছর আগের নেওয়া এ প্রকল্প নানা কারনে বার বার বাধাগ্রস্থ হয়েছে। প্রকল্প শুরুর আগে থেকেই রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে দেশের পরিবেশবাদীদের ঘোর আপত্তি ছিল। তাদের বক্তব্য, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কারনে রামপাল প্রকল্প পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং নিকটবর্তী সুন্দরবনে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনবে। সরকার এর বিপক্ষে যুক্তিও দেখিয়েছে যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারনে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি করবে না। নষ্ট হবে না সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। ওই সময়ে কয়েক দফা সময়সূচি পিছিয়ে ২০২১ সালের জুনে প্রথম ইউনিট চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় তা আরো পিছিয়ে এ বছরের ডিসেম্বরে চালুর দিন ঠিক করা হয়।

[৯]রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আফসার উদ্দীন আহম্মেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে যেসব কাজ বাকি রয়েছে তা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ওই সময়ে আমরা প্রথম ইউনিট চালুতে যেতে পারব। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে ২০২২ সালের মে মাসে। সব মিলিয়ে এখন ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত