প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লকডাউনের অজুহাতে তারাবীহ, ইফতারী, মসজিদ বন্ধ রাখলে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে: আওয়ামী ওলামা লীগ

সমীরণ রায়: [২] মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সরকারের পক্ষে ১৩টি সমমনা ইসলামি দল। এসময় বক্তারা বলেন, তথাকথিত লকডাউন জারি রাখলে ৭৪ এর ন্যায় দুর্ভিক্ষ হবে। বিএনপি-জামাত হেফাজত লকডাউনের উস্কানি দিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে চায়। দেশ জাতি ও সরকারের স্বার্থে তাই লকডাউন প্রত্যাহার করতে হবে।

[৩] তারা বলেন, লকডাউনের পক্ষে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের কথা প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র। বিএনপি জামাত এবং মুনাফেক কওমী মালানা গোষ্ঠী ও ধর্মব্যবসায়ী মালানাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে অবিলম্বে আত্মঘাতি লকডাউন তুলে দিতে হবে। লকডাউন কোনো সমাধান না। লকডাউন দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও জনগনের ক্ষতির কোনো মানে হয় না। লকডাউন দিয়ে কোনো সমাধানে পৌছানো যাবে না। বিএনপি জামায়াত-হেফাজত চায় লকডাউনের নামে দেশের মানুষকে না খাইয়ে মারতে। সর্বোপরি লকডাউনের মাধ্যমে দেশে মহাঅস্থিতিশীল পরিবেশ, অরাজকতা তথা বিশৃঙ্খলা তৈরী করে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের পতন ঘটাতে।

[৪] তারা আরও বলেন, লকডাউনের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষ ক্ষেপে উঠেছে। কারণ লকডাউনে তারা না খেয়ে মরছে। বাংলাদেশের দোকান মালিক সমিতির নিজস্ব হিসাবে সারা দেশে গত বছরের লকডাউনে ৫৩ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের দৈনিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক হাজার ৭৪ কোটি টাকা। এদের পুজির পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা। গত করোনায় লকডাউনে তারা সব পুজি নষ্ট করেছেন। এই ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতের উদ্যোক্তারা কোনোও প্রণোদনা পাননি। এবারো পাবেনা। দেশের গোটা জনসাধারণ লকডাউনের বিরুদ্ধে।

[৫] তারা বলেন, প্রতিদিন লকডাউনে দেশের ক্ষতি হয় ৫ হাজার কোটি টাকা। রফতানি সংশ্লিষ্ট খাত সব ধ্বংস হয়ে যায়। কাজেই জনগন ও দেশের স্বার্থবিরোধী লকডাউন এখনি উঠিয়ে দিতে হবে। লকডাউনে অতিষ্ট হয়ে এভাবে সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে বিএনপি জামায়াত হেফাজত দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করার বিশেষ সুযোগ নেবে। কাজেই সরকারকে সতর্ক হয়ে লকডাউন প্রত্যাহার করতে হবে।

[৬] বক্তারা বলেন, সারাদেশে লাখ লাখ হাফেজ রয়েছে খতমে তারাবীহ পড়িয়ে তাদের সারা বছর চলে। পাশাপাশি সাধারন মুসলমান মসজিদে খতমে তারাবীহ পড়ার মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শুনে থাকে। কিন্তু লকডাউনের নামে তা বন্ধ করলে সাধারণ মুসলমানের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত হানবে। বর্তমান সরকারকে ইসলাম বিরোধী ও বিদ্ধেষী প্রচার করতে বিএনপি, হেফাজত, জামাত-শিবির সুযোগ নিবে।

[৭] তারা বলেন, বিএনপি জামায়াতের সুরে সুর মিলিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক দুর্নীতিবাজ ডিজির আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান জামাতী মালানা, মুফতী, মুহাদ্দিস, মুনাফেক কওমী মালানা এবং ধর্মব্যবসায়ী মালানারা করোনাকে ছোঁয়াচে ও মহামারী বলে ফতোয়া দিয়েছে এবং সরকারকে লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য করেছে। অথচ খোদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফের বাংলা অনুবাদে উল্লেখ আছে সংক্রমণ বা ছোঁয়াচে রোগ বলতে যে কোন কিছু নেই।

[৮] মানববন্ধনে সমন্বয় করেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি- মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, আওয়ামী ওলামা লীগের সহ-সভাপতি হাফেয মাওলানা মুহাম্মাদ মোস্তফা হোসেন চৌধুরী (বাগেরহাটের হুজুর), সহ-সভাপতি মাওলানা মুহম্মদ শোয়েব আহমেদ গোপালগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল প্রমুখ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত