শিরোনাম
◈ মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি, তদন্তের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দ্রুতই আলোচনা: দীনেশ ত্রিবেদী ◈ আসিয়ান কাপ থেকে আগেই বাংলা‌দে‌শের বিদায়, এবার ইন্দোনেশিয়া ম্যাচে সান্ত্বনার লড়াই  ◈ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠাতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ◈ গঙ্গা পানি চুক্তি কারিগরি আলোচনা চলছে: ভারত ◈ মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, তিনটি গাড়িতে আগুন (ভিডিও) ◈ অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজির ঘাটতি নেই, আসছে ১৯ কার্গো: পেট্রোবাংলা ◈ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ ◈ কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ও জনসেবায় ড্রোনে এগোচ্ছে ভারত, উচ্চ দাম ও জটিলতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ! ◈ রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪০১ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৫:৫৩ সকাল
আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৫:৫৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা: জোড়াতালি দিয়ে একজন মামুনুল হকের সম্মান রক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো হুজুর শ্রেণি

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা: সরকারের সমালোচনার বাইরে অন্য যেকোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করলেই অনেকের মধ্যে সেটার বিরোধিতা করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। এতে নাকি সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। এতে নাকি ফ্যাসিবাদ আরও দৃঢ়ভাবে কায়েম হয়। কথাটা জেনারেলি সত্য। কিন্তু বিপরীতে লেসার ইভিল ইজ অলসো ইভিল। শুধু ফ্যাসিবাদের বিরোধিতার জন্য আপনি দুনিয়ার আর কোনো অন্যায়েরই সমালোচনা করতে দেবেন না- ব্যাপারটার মধ্যে কিছুটা শাহবাগের বাংলা পরীক্ষার গন্ধ আছে। এটা সত্য সরকার সব সময়ই চেষ্টা করে আলোচনার ফোকাস সরিয়ে দিতে। এবং সেজন্য চোখকান অবশ্যই খোলা রাখা উচিত। কিন্তু তাই বলে সত্যি সত্যিই সিরিয়াস কিছু, ভবিষ্যতে যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে, এরকম কিছু ঘটলেও সেটা নিয়ে আলোচনার বিরুদ্ধে কথা বলাটা হচ্ছে মূলত সরকারকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অন্যায় ঢাকার চেষ্টা করা।

প্রসঙ্গ মামুনুল হক। হ্যাঁ, এটা সত্য মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনার কারণে মোদি-বিরোধী আন্দোলন, ১৭টা লাশ থেকে আলোচনা সরে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আলোচনা জারি থাকলেও কিছু হতো না। আন্দোলনের মোমেন্টাম এমনিতেই শ্লথ হয়ে পড়েছিলো এবং হেফাজত নিজেও আন্দোলন থেকে সরে লাশের বিনিময়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে দেন-দরবার শুরু করেছিলো। সুতরাং মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা না করলেই যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিশাল কিছু হয়ে যেতো, এটা ভুল ধারণা এবং এটা মূলত মামুনুল হকের দোষকে চেপে রাখারই একটা প্রচেষ্টা। মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনাটা খুবই জরুরি এই কারণে যে, এর প্রভাব ব্যাপক। এই মুহূর্তে দেশের প্রধান ইসলামিক দল, যারা দাবি করে তারা ইসলামের ‘হেফাজত’ করে, তার প্রধান একজন নেতা যদি এরকম দুশ্চরিত্র এবং মিথ্যাবাদী হয় এবং তার বিরুদ্ধে যদি দলের ভেতর থেকেই কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সেই দলের নৈতিকতা বলতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

প্রশ্ন তুলবেন, মামুনুল হক দুশ্চরিত্র প্রমাণিত হয়েছেন কিনা? টেকনিকালি এখনও হয়নি। কিন্তু প্রতারক এবং মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়েছে নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই এবং প্রথমদিকের সবগুলো রেকর্ডিং যেহেতু তিনি সত্য বলে মেনে নিয়েছেন, কাজেই ‘প্রমাণিত’ না হলেও পরের রেকর্ডিং, ছেলের লাইভ এবং ডায়েরিগুলোকেও মানুষ সত্য বলেই বিশ্বাস করবে এবং সেগুলো যদি সত্য হয়, তার অর্থ হচ্ছে, মামুনুল হক শুধু প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণাই করেননি, তিনি ব্যাভিচার এবং সম্ভবত আরও বেশি কিছুও করেছেন। এর ফলে পুরো ক্ষতিটা হবে বিশেষভাবে হেফাজতের এবং সাধারণভাবে গড়ে হুজুর শ্রেণির।

আগামী কয়েক বছর বা কয়েক দশক পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় যেকোনো হুজুরের বিরুদ্ধে সামান্যতম অভিযোগ ওঠলেও শুনতে হবে - এসব হুজুরদের চরিত্র আমাদের জানা আছে। এটা আপনি কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না। না, ভুল বললাম। একভাবে পারবেন। যদি আপনি দেখাতে পারেন যে, হ্যাঁ একজন মামুনুল হক অন্যায় করেছে, কিন্তু সেটা ফাঁস হওয়ার পর অন্য হুজুররা, তার দলের সমর্থকরা, নেতারা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাকে বহিষ্কার করেছে। সেটা না করে যদি তার সমালোচনাকে চাপা দিয়ে রাখতে চান, তার পক্ষে যদি সাফাই গান, তাহলে জোড়াতালি দিয়ে একজন মামুনুল হকের সম্মান রক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো হুজুর শ্রেণি। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ