প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিরপুরের সেই ভূতের বাড়ির রহস্য!: রিতা-মিতা দুই বোন কেমন আছেন?

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় ১৬ বছর আগে মিরপুরের একটি ভৌতিক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় উচ্চশিক্ষিত দুই বোন আইনুন নাহার রিতা ও নুরুননাহার মিতাকে। এর মধ্যে রিতা চিকিৎসক এবং মিতা প্রকৌশলী। রহস্যময় জীবন-যাপনের কারণে মানসিক রোগী হিসেবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকেট্রিক বিভাগে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন তারা। অনেকটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও তারা কয়েক বছর পর আবার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তারা বগুড়ায় বড়বোনের বাসায় আছেন। তাদের মানসিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। এখন তারা একটি রুমে থাকছেন এবং তাদের দেখাশোনার জন্য এক নারীকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

 

২০০৫ সালের ৭ জুলাই ১৬ ঘণ্টার চেষ্টায় মিরপুরের ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বাড়ি থেকে এই দুই বোনকে উদ্ধার করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আইনজীবী এলিনা খান। এর আগে আট থেকে নয় বছর তারা ওই বাড়িতে অস্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। উদ্ধারের পর চিকিৎসায় তারা অনেকটা সুস্থ হন। রিতা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এবং মিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিও পান। তাদের বাড়িটি সংস্কার করতে দেয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন দুই বোন। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ তারা কাউকে কিছু না বলে বগুড়া চলে যান। সেখানে হোটেলে ওঠেন। পরে খোঁজ পেয়ে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে বড়বোন কামরুন্নাহার হেনার জিম্মায় দেয়া হয়। সেই থেকে তারা সেখানেই আছেন। মাঝে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও দেয়া হয়।

রবিবার দুপুরে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে বড় দেকানটি বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও ছোট একটি চা-বিস্কুটের দোকান এবং একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকান রয়েছে। তাদের বাড়িটি দেখাশোনার করার জন্য মো. আশিক রানা নামের একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন। তাদের বড়বোন কামরুন্নাহার হেনা এবং তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এসে বাড়িটি দেখাশোনা করেন। এছাড়াও তারা প্রতি মাসে ভাড়া তুলে নিয়ে যান।

 

কেয়ারটেকার মো. আশিক রানা বলেন, ‘আমি এখানে দুই মাস কাজ করি। প্রতি মাসে ম্যাডাম ও স্যার এসে ভাড়া নিয়ে যান। আমি একাই এখানে থাকি। বাড়ির মধ্যে পানির লাইন নেই, আমি মসজিদের গিয়ে জরুরি কাজ সারি। এখানে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করি, যখন বিদ্যুৎ না থাকে তখন লাকড়ির চুলায় রান্না করে খাই। উনাদের ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না।’

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে রিতা-মিতার বড়বোন কামরুন্নাহার হেনা এসেছিলেন তাদের জায়গাটা দেখাশোনা করার জন্য। তখন তাকে একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপারা কেমন আছেন? তখন হেনা তাদেরকে বলেছিলেন, রিতা-মিতা মোটামুটি ভালো আছে।

বড়বোন হেনা জানান, রিতা-মিতাকে একটি রুমের মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের দেখাশোনা করার জন্য একজন নারী রয়েছেন। তারা সাধারণত ঘর থেকে বের হন না। ঘরের মধ্যে থেকেই কাপড় সেলাই, গল্পগুজব, গান গেয়ে ও শুনে তাদের সময় কাটে। বিভিন্ন সময় তারা নানা ধরনের বায়না ধরেন বলেও জানান বড়বোন।

রিতা-মিতাকে উদ্ধার করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট এলিনা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শুনেছি রিতা-মিতাদের বাড়িটিতে একটি পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আর রিতা-মিতা তাদের বড়বোনের বাসাতেই রয়েছেন।’

 

রিতা-মিতাকে চিকিৎসা করানো হতো জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কমিউনিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগে। তখনকার ওই বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি এখন বদলি হয়ে অন্য কোথাও গেছেন। ফলে তার সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র- ঢাকা টাইমস

সর্বাধিক পঠিত