প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমিনুল ইসলাম: হাজার হাজার ছেলেপেলে আপনাকে হুজুর মানে, সেই আপনি তাদের ধর্মের কথা বলে মিথ্যাকে জায়েজ করে দিচ্ছেন

আমিনুল ইসলাম: আমি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি সেই ছোটবেলা থেকে। রাতে যদি কখনো নামাজ না পড়ে বিছানায় যাই, আমার কেন যেন মনে হয় কিছু একটা করার বাকি আছে। ছোট বেলায় আমাদের সকল ভাই-বোনকে পাড়ার মসজিদের ইমাম এসে পড়াতেন। আমাদের সকল ভাই-বোনকে কোরআন তিনিই শিখিয়েছেন। হুজুর মারা গিয়েছেন বেশ অনেক বছর হয়। অথচ আমরা পুরো পরিবার আমাদের হুজুরকে আজও মনে রেখেছি। কারণ তিনি একজন চমৎকার মানুষ ছিলেন।

আমি ধার্মিক কিনা সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। কারণ আমি জানি, আমি এমন অনেক কাজ করি, যেটা হয়তো একজন পরিপূর্ণ ধার্মিক মানুষ করবে না। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অন্তত আমার কখনো বাদ যায় না এবং আমি চেষ্টা করি আমার দ্বারা যেন কারো ক্ষতি না হয়। খানিক আগে মামুনুল হুজুরের লাইভ ভিডিওটা দেখলাম। সেখানে তিনি নিজ মুখে বলেছেন টেলিভিশনে যে সব অডিও রেকর্ড এসছে, সেগুলো তার। এই জন্য তিনি দেশের প্রচলিত আইনে মামলা করবেন। এতে তার ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা হয়েছে। আমি তার এই মতের সঙ্গে একমত। তার ব্যক্তিগত বিষয় এভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়। তিনি এই জন্য দেশের প্রচলিত আইনে বিচার চাইতেই পারেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি এবং আপনার সমর্থকরা যে এতো দিন বলেছেন এসব রেকর্ড মিথ্যা, সেটার কি হবে?

অবশ্য আপনি তো বলেছেন বউকে খুশি রাখার জন্য মিথ্যা বলা জায়েজ আছে। তো, টেলিফোনে তো আপনি আপনার প্রথম স্ত্রীকে বলেছিলেন সে আমার স্ত্রী না। শহিদুল ভাইর স্ত্রী। এমন মিথ্যা বলাও কি জায়েজ আছে? আমি খুব ধার্মিক মানুষ না। সেই আমারও বুক কেঁপে উঠেছে আপনার এই কথা শুনে। হাজার হাজার ছেলেপেলে আপনাকে হুজুর মানে। সেই আপনি তাদের ধর্মের কথা বলে মিথ্যাকে জায়েজ করে দিচ্ছেন। আপনারা যারা হেফাজত করেন কিংবা ধর্মভিরু মানুষ, আপনরা কি এখনও বুঝতে পারছেন না। এই মানুষটা কীভাবে আমাদের শান্তির ধর্মকে ব্যবহার করছে? তিনি বলেছেন এসব তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা তার মানবাধিকার। আমি তার এই মতের সঙ্গে একমত। কিন্তু আপনি তো আমাদের ধর্মকে ব্যবহার করে মিথ্যাকে জায়েজ করে দিয়েছেন। আপনার যা ইচ্ছে করুন। আপনি মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ান কিংবা মিথ্যা বলুন।

কিন্তু এই জন্য আমাদের ধর্মকে কেন আপনার ব্যবহার করতে হচ্ছে? আপনারা যারা এই লোকের সমর্থক, আপনারা আপনাদের ধর্ম পালন করুন। হেফাজত করুন। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে মিথ্যাকে জায়েজ করে দেওয়া কাউকে নেতা মনে করে নিজেদের আর ছোট কইরেন না। আমার ধারণা আমার হুজুর যদি আজ বেঁচে থাকতেন,  তিনিই সবার প্রথম এর প্রতিবাদ করতেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত