প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রিটেনে ৩ অপরাধে মূল্য দিতে হয় ৯৫ বিলিয়ন পাউন্ড

রাশিদ রিয়াজ : ব্রিটেনের অর্থনীতিতে সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, ডাকাতির মত অপরাধের জন্যে গত বছর ৯৫ বিলিয়ন পাউন্ড খেসারত দিতে হয়। ২০১৫ সাল থেকে ব্রিটেনে এসব অপরাধ প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পুলিশ বলছে তা দেশটির অর্থনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। ২০১৫ সালে এধরনের অপরাধের অর্থমূল্য ছিল ৫৯ বিলিয়ন পাউন্ড। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সরকার এসব অপরাধ রোধে কারণগুলো খুঁজে বের করতে এক প্রতিবেদন তেরি করে। এমন অপরাধ যাতে না ঘটে সেজন্যে বাসা বাড়িতে বার্গলার এ্যালার্মসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা খরচ বৃদ্ধি করতে হয়। পুলিশ ও বিচারবিভাগেও এসব অপরাধের বিচারের নিষ্পত্তির জন্যে খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৭২ বিলিয়ন পাউন্ড যা ২০১৫ সালে ছিল ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধের ব্যয় যেমন চুরি এবং ডাকাতির জন্যে অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ডেইলি মেইল

ব্রিটিশ পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে এধরনের অপরাধ শুধু ব্রিটিশ অর্থনীতি নয় ব্যক্তিগত পর্যায়েও খেসারত দিতে হচ্ছে। কারণ অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের সংখ্যা ও কার্যক্রম বাড়াতে হচ্ছে এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এবং এসব খাতে ব্যয়ের চাহিদা বাড়ছে। ৬ বছর আগে খুনের কারণে তদন্ত, বিচার সহ অন্যান্য খরচ যেখানে ব্রিটিশ সরকারের ছিল ১.৬ বিলিয়ন সেখানে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। সহিংস ঘটনার কারণে খরচ ২০.৬ বিলিয়ন থেকে বেড়েছে ২৮.৯ বিলিয়ন পাউন্ড। ধর্ষণের মত অপরাধের কারণে ৪.৮ বিলিয়ন থেকে তা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। ডাকাতির কারণে ব্রিটিশ সরকারের খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ।

২০১৫ সালে এ অপরাধের জন্যে খেসারত দিতে হত ২.২ বিলিয়ন এবং গত বছর এ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড। বাণিজ্যিক অপরাধ গত ৬ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ড। একই সঙ্গে ডাকাতি বেড়েছে ৪ গুণ। এবং বাণিজ্য খাতে চুরি বেড়েছে দ্বিগুণ। ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্যে পুলিশ সময় ব্যয়, জনগণকে কারাগারে বন্দী করা এবং তাদের দোষী সাব্যস্ত করা এবং কারাগারে রাখার ব্যয় নয় বরং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যয়ও বেড়েছে দ্বিগুণ। নিরাপত্তা রক্ষী, সিসিটিভি ক্যামেরা ও যন্ত্রাংশ, কার অ্যালার্মসহ ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম খরচও বেড়ে গেছে। এসব খরচের মধ্যে মানুষের অপরাধের পরিণতিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যেমন মানসিক ও শারীরিক সঙ্কটের কারণে স্বাভাবিক কাজ ফেলে রেখে বা গাঁটের পয়সা খরচে বাড়তি ঝামেলার মত বিষয়গুলো রয়েছে। পুলিশ বলছে শুধু অর্থনীতি নয় যারা অপরাধ করেন তাদের সম্প্রদায়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চুরি ও ডাকাতি বেড়ে এসব অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আর্থিক ছাড়াও মানসিক ক্ষতির পরিমানও কম নয়। গত বছর এক প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৯ সালে লন্ডনে সহিংস ঘটনায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ব্রিটিশ পুলিশের রেকর্ড বলছে ১১ বছরে লন্ডনে সহিংস ঘটনায় ১৪৯ জন মারা গেছে এবং এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪২০.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। এ খরচের মধ্যে জরুরি সেবা, পুলিশ তদন্ত, অপরাধের বিচার কার্যক্রম এবং মৃত্যুর কারণে আর্থিক ক্ষতি ধরা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে ১ লাখ ৬০ হাজারটি ছুরিকাঘাত, আঘাত ও সহিংস অপরাধ ঘটে যার জন্যে আর্থিক খেসারত দিতে হয় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড। ব্রিটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি অব লন্ডন পুলিশ ও অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিক্স ডাটা বলছে ৩২ হাজার ডাকাতির কারণে ৩৯১ মিলিয়ন পাউন্ড, ৮ হাজার ৩শ ধর্ষণের কারণে ৩৩৫ মিলিয়ন ও ১২ হাজার ২শ যৌন হয়রানির কারণে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এসব অপরাধ সামাল দিতে ২০ হাজার নতুন পুলিশ অফিসার নিয়োগ, তহবিল বরাদ্দ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। সর্বশেষ পুলিশের খরচ বেড়েছে ১.১ বিলিয়ন পাউন্ড এবং সড়ক অপরাধ মুক্ত রাখতে অতিরিক্ত ২০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত