প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একমুখীতা নিয়ে উদ্বিগ্ন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

লিহান লিমা: [২] করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ও বিশ্বজুড়ে পুনরায় লকডাউন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করতে এই সপ্তাহে ভার্চুয়াল বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকরা। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই ভার্চুয়াল বৈঠক ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। থাকবে জি-২০সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি সহ অন্যান্য দেশ ও আর্থিক সংস্থা। ফক্স বিজনেস

[৩] অনেক ধনী দেশে টিকা দান কর্মসূচীর প্রসার ও যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে পূর্বানুমানের চাইতে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখেছে বিশ্ব। বুধবার প্রকাশিতব্য নতুন প্রতিবেদনে আইএমএফ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৫.৫ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখাতে যাচ্ছে। যা কি না ২০২০ সালে ছিলো ৩.৫ ভাগ। আইএমএফ জানিয়েছে, ধনী দেশগুলোতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেয়ায় এই পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ৫.১ ভাগ (বেসরকারী পর্যবেক্ষকদের মতে ৭ ভাগ বা তার বেশি) ও চীনের প্রবৃদ্ধি ৮.১ ভাগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে।

[৪] তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে যা মহামারীর পুনরুদ্ধারকে আশঙ্কার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। পুনরায় লকডাউনের কারণে প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়েছে, অনেক নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশ কম সম্পদের কারণে পিছিয়ে রয়েছে।

[৫] তবে নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পূর্বেও নীতি নির্ধারকরা বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে কোভিড সংকটের কারণে মোট দেশীয় পণ্যের মাথাপিছু আয় এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর লোকসানের দ্বিগুণ। আইএমএফ বলেছে, গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১০ কোটির বেশি চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়েছেন, যাদের দৈনিক আয় ১.৯০ ডলারেরও কম। বিশ্বজুড়ে ৬০ লাখের বেশি এবার স্কুল ছাড়তে পারে।

[৬] আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্তালিনা জর্জিগ্রিভা বলেন, ‘সুযোগের দ্বার খুব দ্রুত বন্ধ হচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পদের একমুখীতার কারণে সব স্থানে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না, অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন এ ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের মুখে পড়ছেন। অনেক দেশ পিছিয়ে পড়ছে।’

[৭] ইন্টারন্যশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিন্যান্স বলছে, ‘বড় অর্থনৈতিক দেশগুলো নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করায় দরিদ্র্য দেশগুলোকে দেয়া সহায়তা সীমিত করা হয়েছে।’

[৮] জি-২০ দেশগুলো স্বল্প আয়ের ৪০টি দেশকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ ছাড় দিলেও বেসরকারি খাত গুলো থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। স্বল্প আয়ের দেশগুলোর বহিরাগত ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে।

[৯] অক্সফামের ওয়াশিংটন অফিসের প্রধান নাদিয়া দার বলেন, ধনী দেশগুলো ব্যবসায়ের জন্য কোটি কোটি ডলার উদ্দীপনা প্যাকেজ অনুমোদন দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের অর্থ সহায়তা, টিকা, শিক্ষার জন্য নিম্ন মধ্য আয়ের দেশগুলো কি করতে পারছে?

[১০] আইএমএফ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার স্পেশাল ড্রয়িং রাইটে (এসডিআর) বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যা থেকে সদস্য দেশগুলো সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।

সর্বাধিক পঠিত