প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফ জেবতিক: লকডাউন করতে হবে একেবারে কারফিউ সিস্টেমে

আরিফ জেবতিক : ৭ দিনের লকডাউন আদতে কোনো কাজে আসবে না। ১৫ দিন যদি কোয়ারিন্টাইন থাকার নিয়ম থাকে তাহলে ১৫ দিনের লকডাউনই করতে হবে। ২১ দিন করতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু পেটের দায়ও বড় দায়। অফিস আদালত ২১ দিন বন্ধ রেখে শ্রমিক শ্রেণি জন্য ১৫ দিনের লকডাউন রাখা যায়। এই লকডাউন করতে হবে একেবারে কারফিউ সিস্টেমে। দরকার হলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ইনাদের সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্টে লাগানো দরকার যাতে ফুড সাপ্লাই স্টেবল থাকে। সরকার কি বুদ্ধিতে ইউরোপ বন্ধ রেখে ইংল্যান্ডের সাথে ফ্লাইট রক্ষা করে চলছিল, এর ব্যাখ্যাটা আমি জানতে আগ্রহী। রাজায় বলেছে, দির ভাই, সেই আনন্দে ফ্লাইট চালাই। ইংল্যান্ড কিন্তু উল্টো আমাদের ব্লক করে দিয়েছে।
আর জাতির স্বার্থে ওকা’র ফেসবুক একাউন্টটাও লকডাউনের আওতায় আনা দরকার। সারাদেশে আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না আর এই লোক একটু গাছের পাতা ধরে ২১টা ছবি আপলোড করেছে! ছবি আপলোডে করোনা ছড়ায় না জানি, কিন্তু এতে করে সরকারের অসংবেদনশীল, দায়িত্বজ্ঞানহীন চরিত্রের একটা ছবি ফুটে ওঠে। রমজানের আগে আগে মুখ ভরে গালি দিয়ে আমরা যে গুণাহগার হবো, এর বিরুদ্ধেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
[২] কিশোর বেলা থেকে আমার বরযাত্রা মিস যায়নি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের আত্মীয় স্বজন, পাড়াতুতো তালুইতুতো সব ভাই বেরাদারদের বিয়েতে আমাকে স্পেশাল দাওয়াত দিয়ে বরযাত্রায় নিয়ে যায়। এর বিশেষ কারণ হলো, আমি বিভিন্ন ধরনের মুলামুলি করে গেটের টাকা প্রায় না দিয়ে বা অত্যল্প দিয়ে বরকে গেটের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে পারি (আমার নিজের বিয়েতে আমি একদম বিনাটাকায় গেট পার হয়ে ঢুকে গিয়েছিলাম, পরে দরিদ্র শালাশালীদের আর্ত চিৎকারে হৃদয় ভেঙে গেলে কিছু টাকাপয়সা দিয়েছিলাম বটে)।
তো, এইবার আমার আত্মীয়-স্বজনের মাঝে যেসব মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার্থী আছে, তারা আমারে বরযাত্রা না নিয়েই পরীক্ষা দিতে চলে গেছে! ছবি দেখে যা বুঝলাম, প্রত্যেক পরিক্ষার্থীর সাথে ৩/৪ জন করে গেছে। আমারে কেউ সাথে নেয়নি কেন জানি না। অবশ্য এটা নতুন চল হয়েছে। আমরা ক্লাস ফাইভের পরীক্ষা দিতেও একা একা গেছি। এসএসসি পরীক্ষার সময় এক পরিক্ষার্থীর বাসা থেকে দুই পরীক্ষার মাঝে ডাব নিয়ে এসেছিল, সেটা নিয়ে তাকে ব্যাপক হাসিঠাট্টায় পড়তে হয়েছে। সুতরাং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীর সাথে একাধিক অভিভাবক যাওয়া নিয়ে আমরা যারা যাওয়ার সুযোগ পাইনি, তারা হিংসা করে হাসিঠাট্টা করছি।
কিন্তু আমাদের আসলে প্রশ্ন তোলা উচিত সরকারের এফিশিয়েন্সি নিয়ে। পরীক্ষার্থী সোয়া লাখ, কেন্দ্র মাত্র ৫৫টি। ঢাকায় ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র মাত্র ১৫টি। দেশজুড়ে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ২২০০ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন নিতে হবে এই মহামারীরকালে। সারাদেশে যদি ৩০০ কেন্দ্র করা হতো, তাহলে গড়ে জেলাপ্রতি কেন্দ্র পড়ত ৪.৫ টা। প্রতি কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী হতো ৪শ মাত্র। মুরগির খাঁচার মতো করে হাতে গোনা কয়েকটা কেন্দ্রে সবাইকে জড় করবে সরকার, কিন্তু সরকারের এই ফাতরামির দিকে আঙুল না তুলে, কেন্দ্রে কেন অভিভাবক যাবে, সেটা নিয়ে আহাজারি করার কিছু নেই। সরকারের যেসব ভোদাই এই সিস্টেম তৈরি করেছে, সেই ভোদাইদের জোরে গালি দেওয়া দরকার।
লেখক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত