প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপেক্ষিত বগুড়ার আলু রফতানির অপার সম্ভাবনা, ফায়দা নিচ্ছে ভারত

নিউজ ডেস্ক: এক সময়ে প্রচারিত হওয়া একটি বিজ্ঞাপনের লাইন ছিলো ‘বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান’। ইদানিং এই বিজ্ঞাপনের ভাষা আর তেমনভাবে শোনা না গেলেও বিষয়টি এখনও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ চালের কেজি ৫৪-৬৪ আর প্রকারভেদে আলুর কেজি ১৮-২০ টাকা। এমন অভিমত বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের একজন শিক্ষকের।

তার মতে আলুর জন্য বিখ্যাত বগুড়া জেলা বা বগুড়া কৃষি অঞ্চলের দিকে সরকারিভাবেই আলাদা নজর দেয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কারণ দেশের উৎপাদিত আলুর একটা সিংহভাগই উৎপন্ন হয় বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায়। এখানকার উৎপাদিত বিখ্যাত ফাটা পাকড়ী, লাল পাকড়ী আলু সারা দেশের সবজির বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভ‚মিকা রাখে। গত এক দশক ধরেই নীরবে রফতানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বগুড়ার আলুর নাম।

বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাকে নিয়ে গঠিত বগুড়া কৃষি অঞ্চলে আলু চাষাবাদের খবর নিয়ে জানা গেল বিগত ১৯-২০ অর্থবছরে ৯৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৬ মেট্রিক টন। চলতি ২০-২১ অর্থ বছরে এই অঞ্চলে আলু আবাদের টার্গেট ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৬২০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এবার আলু চাষের জমির পরিমাণ বাড়লেও কৃষি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ফলন হয়েছে ২২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন। গত মৌসুমের তুলনায় কম আলু উৎপাদন হয়েছে ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

কারণ জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, গত বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবজি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে আলুর দাম বেড়ে হাফ সেঞ্চুরি করে। জানুয়ারী থেকেই চাষিরা বেশি দামের আশায় কাঁচা আলুই বাজারে এনে বিক্রি করে লাভবান হয়। মূলত প্রি-ম্যাচিউরড আলু বাজারে তোলায় ফলনে ঘাটতি হয়েছে তবে এতে আলু চাষিরা লাভবান হয়েছে।

বগুড়া কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরে বগুড়া কৃষি অঞ্চলের আওতাভূক্ত ৪ জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এতে বগুড়ায় ৫৮৫২৫, জয়পুরহাটে ৪০৩১৫, সিরাজগঞ্জে ২৯৫৫ এবং পাবনায় মাত্র ৫৬০ হেক্টর জমি ধরা হয়েছে। বগুড়া কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমানের মতে মূলত বৃহত্তর বগুড়ায় হল উৎকৃষ্ট মানের আলু চাষের উপযুক্ত স্থান।

বগুড়া কোল্ডস্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং হিমাগার মালিক ও নিত্যপণ্যের আমদানিকারক আব্দুল গফুর মনে করেন, বগুড়ার উৎপাদিত উৎকৃষ্টমানের আলু নিয়ে যে অবহেলা করা হচ্ছে তাতে করে আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত হবে, রফতানিকারকরা উৎসাহ পাবে না। দুঃখ করে তিনি বলেন, হতাশায় অনেক হিমাগার মালিক ব্যবসা পরিবর্তনের চিন্তায় আছেন। কেউ কেউ হিমাগার বিক্রি করে দিয়েছেন। অথচ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, নেপাল, ভ‚টান, এমনকি পাকিস্তানে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই আলু রফতানীর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ প্রতিবেশি ভারত উল্লেখিত দেশগুলোতে আলুসহ সব ধরনের সবজি রফতানি করে এককভাবে আয় করছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। – ইনকিলাব

সর্বাধিক পঠিত