শিরোনাম
◈ মিয়ানমারে বিয়ের অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলে জান্তার বিমান হামলা: নারী-শিশুসহ নিহত ২৭ ◈ আমেরিকা তাঁকে ১৫ মিনিট দিয়েছিল সিদ্ধান্ত নিতে – কথামতো চলো, নয়তো মরবে: ভিডিও ফাঁস ◈ যুক্তরাষ্ট্র-চীনের কূটনৈতিক লড়াই বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে? ◈ বিদেশে কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় বাধায় বিপর্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি ◈ দিল্লি থেকে অডিও বার্তায় বাংলাদেশ রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য শেখ হাসিনার ◈ হাসিনা আপার কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে রেখে গেছেন, আমরা তাদের পাশে আছি : মির্জা ফখরুল ◈ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকা‌পে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ ◈ আইসিজেতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের দাবি নাকচ বাংলাদেশের ◈ বিসিবির আপিল বাতিল, কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন জয় শাহ ◈ পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণে নির্দেশনা জারি ইসির

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০২১, ০৪:১৭ সকাল
আপডেট : ০৫ মার্চ, ২০২১, ০৪:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

<small style='color:red;font-size:16px'>সিপিডির সংলাপ</small> <br/> এলডিসি থেকে উত্তরণ: সবচেয়ে বেশি শুল্ক দিতে হবে বাংলাদেশকে

ইত্তেফাক: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তুলনামূলক বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বেশি শুল্ক দিয়ে রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যে হারে শুল্ক দিতে হবে সেটি অন্য ১২টি দেশের তুলনায় বেশি হবে। প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটান এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও তাদের শুল্ক বাড়বে। কিন্তু তাদের মূল বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে। ফলে তারা এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও তেমন প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে খরচ কমিয়ে আনতে হবে। উত্পাদন খরচ কমিয়ে আনাসহ সরকারের বিভিন্ন ধরনের নীতি-সহায়তার মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। তাছাড়া বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্কছাড় বা শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের ব্যবস্থা করতে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘মুভিং আউট ফরম দ্য এলডিসি গ্রুপ:স্ট্রাটেজিস ফর গ্রাজুয়েশন উইথ মোমেন্টাম’ শিরোনামে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এতে অতিথিরা সংযুক্ত ছিলেন।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান এতে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে মেধাস্বত্বের কারণে ওষুধের উপাদান আমদানির খরচ বাড়বে। ইনসুলিনের দাম বাড়বে আট গুণ পর্যন্ত। যদিও বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে ছাড় পাবে। কিন্তু পরবর্তী প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরো তিন বছর শুল্ক সুবিধা দেবে। ২০২৬ সালে সকালে উঠে যেন এমন মনে না হয়, অনেক কিছুই করা হয়নি। তাহলে বিপাকে পড়তে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে এলডিসিভুক্ত হওয়ার জন্য জোরাল ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। তিনি সেসময় পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জাতিসংঘে বিষয়টি তুলে ধরেন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ হবে। তখন বাংলাদেশ, ভারত পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা সবাই এক কাতারে চলে আসবে।

তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হকের মতে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এখনই কৌশল ঠিক করতে হবে। বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। রপ্তানিমুখী শিল্পেও বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। দ্বিতীয় বৃহৎ গার্মেন্ট রপ্তানিকারক দেশ হওয়ার পরেও কেন বাড়তি সুবিধা চাওয়া হচ্ছে, অধ্যাপক রেহমান সোবহানের এমন প্রশ্নের জবাবে রুবানা হক উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যে দামে এখন পণ্য তৈরি করছে ভিয়েতনাম তার অর্ধেক মজুরিতে সেই পণ্য তৈরি করছে। প্রতিযোগী সক্ষম হয়ে উঠতে এই সহায়তা প্রয়োজন।

এলডিসি থেকে বের হলে অর্থায়নের কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, সে বিষয়ে বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়। তিনি বলেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ মিলবে না। এছাড়া অন্য বিদেশি ঋণ পাওয়ার খরচ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়