স্পোর্টস ডেস্ক : সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় এই ফুল ম্যারাথনে তিনি ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিটে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল কলকাতার রাস্তায় পুরো দৌড়টাই তিনি শেষ করেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে।
আয়োজকরা জানান, এবারের কলকাতা ম্যারাথনে প্রায় ২০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি বয়সভিত্তিক তিনটি ক্যাটাগরিতে (১৮-৩০, ৩১-৪৯ এবং ৫০ ঊর্ধ্ব) বিভক্ত ছিল। পাশাপাশি ৫ কিলোমিটারের ফান ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার দৌড়, ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন এবং পূর্ণ ৪২ কিলোমিটারের ফুল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। চারটি মূল বিভাগ মিলিয়ে এটি ছিল পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন। ---- সময়নিউজ
এই বিপুল প্রতিযোগিতার ভিড়ে ৫০ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরিতে শিবশঙ্কর পালের জয় নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তবে তার এই সাফল্য শুধুই সময় বা পদকের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর প্রতীকী অর্থ। শিবশঙ্কর পাল নিজের জয়ে যেমন খুশি, তার চেয়েও বেশি তৃপ্ত এই কারণে যে যে শহরে বাংলাদেশকে ‘হেয়’ করার অভিযোগ উঠেছিল, সেই শহরের বুকেই লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে তিনি সেরা হয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেয়ার অভিযোগে কলকাতাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে শিবশঙ্করের এই জয় অনেকের কাছেই একটি ‘মধুর কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ’ হিসেবে ধরা দিয়েছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিবশঙ্কর বলেন, ‘এই শহরেরই একজন ক্রিকেটার হয়েও যদি বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা হয়, তাহলে সেই শহরের রাস্তায় নিজের দেশের পতাকা হাতে দৌড়ে প্রথম হওয়াটা আমার কাছে শুধু জয়ের আনন্দ নয়, এটা সম্মানের প্রশ্ন।’
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু বাংলাদেশির আবেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
কলকাতা ম্যারাথন শহরের ক্রীড়া সংস্কৃতির বড় উৎসব। সেই মঞ্চে একজন বাংলাদেশি দৌড়বিদের শীর্ষস্থান দখল এবং জাতীয় পতাকা হাতে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করা নতুন প্রজন্মের দৌড়বিদদের জন্য
অনুপ্রেরণার বার্তা দেয়।
খেলার মাঠে রাজনীতি বা বিতর্ক থাকলেও, রাজপথে পরিশ্রম আর পারফরম্যান্সই শেষ কথা, কলকাতার বুকে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শিবশঙ্কর পাল যেন সেই বার্তাই দিলেন।