প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুনমুন শারমিন শামস্: কালো রঙ নিয়ে এদেশের মানুষের মনে বহুত যন্ত্রণা!

মুনমুন শারমিন শামস্: এইটা একটা পুরানা জিনিস। বহুতবার লিখসি। ‘তুমি কালা হৈলেও সুন্দর আছো’। ঠিক ওই রকম- ‘উনি মহিলা হৈলেও ম্যালা সাহসী। উনি মাইয়া মানুষ হৈয়াও এই কষ্টের কামডা করেন’। আহা! কি ছিরি! ভাষা নিয়া খুব বিতর্ক চলতেসে। হ্যাঁ, ভাষা এভাবেই বিদ্বেষময় হয়ে উঠতে পারে। ভাষা এভাবেই কাউকে ছোট কাউকে বড় বানায়ে দেয়। ভাষা এভাবেই কাউরে প্রশংসা কইরাও আসলে করুণা করতে পারে, নিচু চোখে দেখাইতে পারে। ভাষা এভাবেই শ্রেণিতে শ্রেণিতে ভাগজোক করার খেল দেখাইতে পারে। ভাষার তো দোষ নাই। দুনিয়ার সব ভাষাই সুন্দর। কিন্তু যখন আপনি ভাষারে ব্যবহার করবেন কোনো চতুর উদ্দেশ্যে, তখন ভাষাও ভাষাহীন। ভাষা তখন রাজনীতি, ভাষা তখন বর্ণ বিদ্বেষ, ভাষা তখন পুরুষতান্ত্রিক। কালা রঙ নিয়া এই দেশের মানুষের মনে বহুত যন্ত্রণা। কালা মাইয়াদের বিয়া হয় না। আমি নিজের আত্মীয় বন্ধু সহকর্মীদের ভেতরেও এইসব যন্ত্রণার কাহিনি শুনসি। আবার কালা ছেলেদেরও বিবাহ হয় না। এমনকি অনেক জায়গায় কালাদের চাকরিও হয় না।

শত বছর ধইরা ইংরেজের পা টিপাটিপি কইরা এই উপমহাদেশের লোকের মাথায় ঢুকে গেসে যে সাদা হইলো অভিজাত, সাদা মানে সুন্দর। আমার সাদা বিড়াল মিউমিউ আর টিনটিন ছিলো অ্যাশ। উনাদের দেখেও পর্যন্ত একদিন একজন কইছিলো, ‘তোমার সাদা বিড়ালটাই সুন্দর, ফর্সা’। বুঝেন তাইলে। ফর্সা  কতো গুরুত্বপূর্ণ। বিলাইকেও ফর্সা কালার পরীক্ষা দিতে হয়। যতো অভিজাত, যতো বড়লোক, যতো উচ্চ বংশ- উনাদের বাড়ির বউরা ততো ফর্সা। উনারা অর্ডার দিয়া ফর্সা রঙের বউ নিয়া আসেন যাতে বাচ্চাকাচ্চাও সাদা হয়।

আমি অন্তত পাঁচজন নারীর গল্প জানি, যাদের গায়ের রঙের জন্য ডিভোর্স হয়ে গেছে। কালো বলে এতো অপমান গঞ্জনা সহ্য করতে হইসিলো যে আর টিকতে পারেন নাই। আমার শ্বশুর বাড়ির এক প্রতিবেশী বুড়া আমার সামনেই কইছিলো, ‘এই বউটা কালা।’ আমারে উনার ভালা লাগে নাই। আমার রঙ শ্যামলা। তবুও জীবনে বহু বহুবার গায়ের রঙের খোঁটা শুনসি। এমনকি এইসব খোঁটাদানকারীদের ভেতরে নারীও আছেন, যাদের গায়ের রঙ টকটকা ফর্সা। উনারা বুঝে গেছেন যে, এই সমাজ তাদের মাথায় তুলে রাখেন। তাই উনাদের বর্ণের বাইরে যে কেউ শুদ্র বংশজাত আর উনারা ব্রাহ্মণ। প্রথম আলো লিখবে, ‘কালো তবু সুন্দর।’ প্রথম আলো সমাজেরই প্রতিনিধি। এই সমাজের লোকজনই ওইখানে সাংবাদিকতা করে। উনারা কেউ নিজেদের আত্মিক সংকট কাটায়ে উঠতে পারেন নাই। মনের মধ্যে আছে- কালা মানেই কুচ্ছিত।

এখন ফিচার লিখতে হবে যে কালাদের সৌন্দর্য নিয়া। তো উনারা বহু কষ্টে কষা হাগার মতো কইরা কষ্টেসৃষ্টে কলম দিয়া বাইর করসেন যে কালা হৈলেও চেহারা ভালাই। কালা তবু সুন্দর। মেয়ে তবু প্রতিভা আছে। নারী হইয়াও এতো বড় কাজ করেন- এইসব বাক্য নিয়া মনোযোগ দিয়া কাজ করার কথা গণমাধ্যমেরই। এগুলারে ঝাটায়ে বিদায় দেয়া কথা উনাদেরই। কিন্তু উনারা নিজেদের অশিক্ষিত মন নিয়া দিকবিদিক জ্ঞান হারায়ে ঘুত্তেসেন। ফ্যাশন করবেন নাকি মনের কথা শুনবেন? যুগের সঙ্গে আগাবেন, নাকি মনের ভেতরে থাকা অসভ্য মনটারে শাসন করে আলোয় ভরবেন, সেইটাই ঠিক কইরা উঠতে পারেন নাই। উনাদের উচিত আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া কইরা নেয়া। এরপর সমগ্র জাতির উপ্রে সৌন্দর্যের জ্ঞান ঝাড়া। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত