প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. লেলিন চৌধুরী: লেখকের মৃত্যু এবং কতিপয় প্রশ্ন?

ডা. লেলিন চৌধুরী: ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে মারা গেলেন জেলবন্দী লেখক মুশতাক আহমদ। ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল আইনে তাকে আটক করা হয়। তিনি কীভাবে মারা গেলেন? যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘মুশতাক কীভাবে মারা গেছেন তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে ছিলেন, তার দায়িত্ব নিয়েছিলো সরকার- এই মৃত্যুর-হত্যার দায় সরকারের...’। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার জামিন আবেদন বারবার প্রত্যাখাত হয়েছে। দেশে চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, ভয়ংকর খুনিরা জামিন পায়, লেখক, কার্টুনিস্টের জামিন হয় না। কী প্রচণ্ড ভয় লেখক শিল্পীকে! লেখক হিসেবে মুশতাক আহমদ কি খুব জনপ্রিয় ছিল?

আমার ধারণা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মুশতাককে খুব বেশি মানুষ জানতো না বা পড়তো না। গ্রেপ্তারের পর তাঁর পাঠক সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারের কারণ অনুধাবন করার জন্য প্রচুর পাঠক মুশতাকের লেখা খুঁজতে শুরু করে। তাঁর মৃত্যু/হত্যার পর এই সংখ্যা লাখ লাখ হয়ে যাবে। শারীরিকভাবে একজন লেখক বা শিল্পীকে নিশ্চিহ্ন করা হলে/করার চেষ্টা হলে সে লক্ষগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। এটা প্রমাণিত সত্য। যে-আইনে লেখক-শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা হয় সে-আইন সভ্যতাবিরোধী। সেটি জারি থাকতে পারে না। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সাতদিনের মধ্য তদন্ত-রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যায় শুধু অন্যায়ের বিস্তার ঘটায়। প্রতিটি অন্যায়ের প্রতিকার বিধানের মধ্য দিয়েই কেবল ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা সম্ভব। লেখক : প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত