প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: এটা কী বিএনপির দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ নাকি গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসা!

দীপক চৌধুরী: ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়, সমালোচকরা বলে থাকেন যে, প্রকৃত পক্ষেই বিএনপি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৈরি হওয়া দল বিএনপির সঙ্গে এদেশের সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই। প্রায় বারো বছর ধরে নানারকম ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করার পর এটা অনেকে এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, বিএনপি নামক দলে স্পষ্টবাদী, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকের অভাব রয়েছে। অবশেষে দলটি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতা ও সহানুভূতি কামনা করেছে। অগণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও আইনের শাসনবহির্ভূত বিভিন্ন পদক্ষেপ, তথাকথিত মিছিল, বিক্ষোভ ও চক্রান্ত করার পর তারা বুঝতে সক্ষম হয়েছে দলটির জনবল এখন মারাত্মক হ্রাসের দিকে। অবশেষে তারা পুলিশের কাছে জোড়হাত করে সহযোগিতা চেয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটা বিএনপির দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য এটা হতেই পারে না। আমি বলি, এটাই সম্ভবত বাস্তবতা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদ। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ সদর দফতরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা বিএনপি প্রতিনিধি দলকে তিনি এ আশ্বাস দেন। আধা ঘণ্টা বৈঠক শেষে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ পুলিশপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত।’ বিএনপির কর্মসূচি পালনে পুলিশপ্রধান কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সালাম বলেন, ‘ যেহেতু করোনাকাল, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খল কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।’

এটা বোঝা যায়, বিএনপির এখন পায়ের নিচে মাটি নেই। পায়ের নিচে মাটি না থাকলে আন্তর্জাতিক বলয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশীয় ভিত কাঁপানো যায় না। আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে। এটা নাড়চাড়া করা ঠিক হবে না।

গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আইজিপির কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। আমাদের রাজনীতিতে চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের কাজটি শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভুলের মাশুল দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের কারণে করোনা সঙ্কট উত্তরণের পথে আজ বাংলাদেশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিচ্ছেন, তারা দেশকে আরেকটি মহামারীর দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। যারা উস্কানি দিচ্ছে তারা ছাত্রসমাজের তো নয়-ই, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এই ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে একটি ভয়াবহ মহামারীর দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দেশকে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়ন আর অযাত্রার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করছেন, স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে- ঠিক তখনই আবার ষড়যন্ত্রকারীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। বিভিন্ন ইস্যুতে উস্কানি দিচ্ছে। আজকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা বলা হচ্ছ তারা কারা! তবে একটু পরিবেশ ভাল দেখেই উৎফুল্ল হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত