প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক: পাকিস্তান আমলে ২১ ফেব্রুয়ারির যে চেতনা ছিলো, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা হারিয়ে গেছে

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক: পাকিস্তান আমলে ২১ ফেব্রুয়ারির যে চেতনা ছিলো, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর রচিত সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংবিধানের মূলনীতির অন্যতম একটি বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য কথা বলা এবং কাজ করা। কিন্তু মুজিব সরকারের পতনের পর যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা সেই গতিটি আর রক্ষা করেনি। নানাভাবে সংবিধানে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে ও কর্মনীতিতে বাংলা ভাষার সেই গতিকে রক্ষা করা হয়নি। এরশাদ সরকার কিছুটা চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাংলা ভাষার উন্নতির চেষ্টা তার শাসনামল পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। এরপর আর কোনো সরকার বাংলা ভাষা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখেনি।

বিএনপি সরকারে সময় তারা ইংরেজি ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরাকরের আমলেও সেই নীতির পরিবর্তন ক্রমেই অবহেলিত হচ্ছে। একসময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন করে বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সন চালু করা হয়। এক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমই প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, কিন্তু বাংলা ভাষা ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা করা এবং বিচার বিভাগ, ব্যাংকিং খাত, উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় বাংলা ভাষা ক্রমান্বয়ে অবহেলিত হচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি এলে সীমাহীন দরদ দেখানো হয়, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেই দরদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেতনা দিনদিন ঝরে পড়ছে।

পাকিস্তান আমলে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন করা হতো। তখন লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সকলে আন্তরিকভাবে বাংলা ভাষার উন্নতি ও বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা চাইতেন। উচ্চশিক্ষায়, গবেষণায়, বিচার বিভাগ, ব্যাংকসহ সর্বস্তরে বাংলাভাষা ব্যবহারের কথা খুব জোর দিয়ে বলা হতো। কিন্তু ১৯৯১ সালে বিদেশি সহায়তায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের রীতি আসে। তৎকালীন নির্বাচিত সরকারের পর থেকে এখন পযর্ন্ত বাংলা ভাষার উন্নতি ও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা প্রায় ব্যর্থ।

একটানা প্রায় ১৩ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে কিন্তু তারা বাংলাভাষার জন্য কিছু মৌখিক কথা ছাড়া কার্যকর কোনো কিছু করতে পারছে না। বিচারব্যবস্থায় বাংলাভাষা ব্যবহারে সরকার বাস্তবসম্মত সার্কুলার জারি করে, তাহলে আগামী ৫ বছরে বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, লোয়ার কোর্ট সব জায়গায় বাংলা চালু হবে। বিচার বিভাগে বাংলায় রায় দেওয়া, আইন-কানুন প্রণয়নসর্বস্তরে বিচার ব্যবস্থায় যোগ্যতাসম্পন্ন লোক আছে। তবে সরকারে পক্ষ থেকে ভাষার জন্য প্রণোদনা দেয় হলে আগামী সময়ে বিচার বিভাগে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হবে। যা মানুষ ও রাষ্ট্রের জন্য খুব উপকারি হবে। বর্তমান সরকারের সেদিকে উল্লেখযোগ্য কোনো ভ‚মিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

ইংরেজি ভার্সনের নামে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ বাংলাবিরোধী। ইংরেজি ভার্সনের মাধ্যমে সমাজকে বিভক্ত করা হচ্ছে, এগুলো সর্ম্পকে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীরা কোনো কথা বলছে না এবং এটি বাস্তবে স্বীকৃত হয়ে গেছে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তবে দেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা হিসেবে  ইংরেজি এবং অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে শেখার জন্য সু-ব্যবস্থা করা দরকার। বাংলাদেশকে উন্নতিশীল রাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে প্রতিষ্ঠিত ও বিকাশশীল রাখতে হবে। পরিচিতি : শিক্ষাবিদ। অনুলেখক : আব্দুল্লাহ মামুন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত