প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ: নীতিগতভাবে আমি অবাধ তথ্য-প্রবাহ চাই

ইমতিয়াজ মাহমুদ: আমি নীতিগতভাবে অবাধ তথ্য প্রবাহ চাই আর মানুষের কথা বলার অবাধ স্বাধীনতা চাই। আমি চাই যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো কথা যেন স্পষ্ট করে বলতে পারে। কথা ভুল হতে পারে, কথা ঠিক হতে পারে। কথা আমার পছন্দ হতে পারে, আমার অপছন্দ হতে পারে। কথা রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হতে পারে, প্রচলিত প্রথা প্রতিষ্ঠান সবকিছুকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক হতে পারে। কথাগুলো একদম কথা হতে পারে, সিনেমা হতে পারে, ছবি হতে পারে, কার্টুন হতে পারে, হতে পারে নৃত্য গীত বক্তৃতা কবিতা বয়া নিতান্ত চিৎকার।

কিন্তু সকলেই যার যেটা ইচ্ছা সেটা যেন বলতে পারে। রাষ্ট্র মানুষকে কথা বলতে পারে কেবল তখনই, যখন কথাটিতে কোনো মানুষের তাৎক্ষণিক বা আশু বিপদের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ দিই। রাঙ্গামাটিতে ফিশারিঘাট থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত (এখন নাকি ওটা দোয়েল চত্বর হয়েছে) এ রাস্তাটায় তখন অনেক কৃষ্ণচ‚ড়া গাছ ছিলো। সেদিকে তাকিয়ে আমরা বলতাম, ওই যে দেখো আগুন লেগেছে। আমরা এ আগুন বলতাম যৌবনের আগুন বিদ্রোহের আগুন ইত্যাদি। কিন্তু একজন পুলিশ যদি আমাদেরকে টুটি টিপে ধরে বলতো, এই ব্যাটা মিথ্যা কথা কেন বলিস, এগুলো তো ফুল, আগুন কোথায় পেলি ইত্যাদি, এটা কী ঠিক হয়? না।

কিন্তু একই কথাটা,‘আগুন লেগেছে’ এ কথাটা যদি আমি একটা অন্ধকার সিনেমা হলে চিৎকার করে বলি তাহলে কী হবে? অনেক মানুষের ক্ষতি হতে পারে। সেখানে যদি কেউ আমাকে মুখ চেপে ধরে সেটা সম্ভবত ঠিক আছে। আরেকটা উদাহরণ দিই। মনে করেন একজন মোল্লা প্রতিদিন বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছে নাস্তিকরা খুব খারাপ, খ্রিস্টানরা খুব খারাপ, বৌদ্ধরা খুব খারাপ, বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করে এ দেশে নাস্তিকতা এবং খ্রিস্টান ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্ম সব নিষিদ্ধ করতে হবে, নাস্তিকদের কাছে চাল ডাল তেল নুন বিক্রি করা গুনাহর কাজ ইত্যাদি। এগুলো সবই বলার অধিকার মোল্লার আছে। তিনি স্বাধীন।

কিন্তু একদিন কাকরাইল চার্চের পাশে একটা জমায়েত করে তিনি যদি লোকজনদেরকে উত্তেজিত করতে থাকেন, মসজিদের শহর ঢাকায় খ্রিস্টান নাসারাদের গির্জা থাকতে পারে না, ঈসা নবীর মূর্তি থাকতে পারে না, মূর্তি ধ্বংস করা ফরজ, গির্জা ধ্বংস করা ওয়াজেব, আসেন আমরা গির্জা ভাঙ্গি ইত্যাদি- সেটা হবে অপরাধ। পার্থক্যটা কি স্পষ্ট নয়? অর্থাৎ আমার কথাটার কন্টেন্ট বিবেচনা করে, বা আমার কথাটা সত্যি কী মিথ্যা সেটা বিবেচনা করে বা আমার কথাটা ভালো কী মন্দ সেটা বিবেচনা করে আমার বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা নির্ধারণ করা হবে না।

যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি আমি- আক্ষরিক অর্থেই যা ইচ্ছা তাই- যতোক্ষণ না অন্যের কোনো ক্ষতি হচ্ছে। এ নীতিটা আমি ঠিক মনে করি এবং আমি মনে করি আমাদের সংবিধানেরবাক ও চিন্তার স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিধানটিও (মোটামুটি) এটাই- ঠিকমতো ব্যাখ্যা করলে বরং আরও একটু উদার। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত