প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: এ গ্লোবাল ট্রেন-২

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: ইজেল রোজ- ফেডারেল ব্যাংক অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। সময়ের কাটা হেরফের হতে পারে কিন্তু ইজেল চলেন সময়ের দশ বছর আগে। তার অফিসের দরজায় একটা কথা-ই লেখা ‘don’t enter till I call’. ইজেল বিশ্বাস করেন এই নোটিশকে অগ্রাহ্য করার সাহস খোদ আমেরিকান প্রেসিডেন্টেরও নেই। বহুবার তিনি এর প্রমানও দিয়েছেন। আল আকসা মসজিদের পাশে সোয়া কিলোমিটার এরিয়ায় তাবু ঢাকা অংশে গত পাচ বছর ধরে ইসরাইলিরা ঠিক কি করছে এ প্রশ্ন করেছিলেন আমেরিকার সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মিস্টার বারাক হুসেন ওবামা। ইজেল তার হাতে থাকা কাগজটি ওবামার হাতে ধরিয়ে দিলেন। সেখানে স্পষ্ট লেখা- গত পাচ বছর অবিরাম চেষ্টা করেও আমাদের তাবুর ভিতরে কি হচ্ছে তা বের করতে না পেরে এনএসএ শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে ওবামা গাধাটাকেই বলির পাঠা বানাবে। কাগজের নিচে ইজেলের সই আর স্বাক্ষরের যে তারিখ শো করছে তখনো ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে ইউএস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। ‘একটা বন্দুক, একটা ঘোড়া আর কিছু কার্তুজ ব্যাবহার করে মানুষের যতটা উন্নতি হতে পারে তারচে হাজার গুন বেশি উন্নতি করেছে আমেরিকা শুধুমাত্র ইহুদিদের দয়ায়- ইজেলই বাকি কথাগুলো বলছিলেন তাচ্ছিল্যের সুরে। শুনুন মি প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেন ওবামা, – নেক্সট ইলেকশনে আপনাদের প্রার্থী হচ্ছেন হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটন। পপুলার ভোটে আশা করছি মিসেস ক্লিনটন তিন মিলিওন ভোট বেশি পাবেন । তবু তিনি প্রেসিডেন্ট অব ইউ এস হচ্ছেন না। ইফ ইউ নট মাইন্ড, প্লিজ লেট মি গো টু মাই বাংলা লেসন ক্লাস। তোমার কাকুতিমিনতি শোনার চেয়ে বাংলা শেখা আমার জন্য বেশি জরুরী।

– ওহ হো, সর‍্যি। ইট ওয়াজ এ ভেরি নাইস টাইম বোথ ফর আস। উই শ্যাল মিট এগেইন……… থমথমে গলায় কথা গুলো বলে যাচ্ছিলেন সদ্য বিদায়ী আমেরিকান রাষ্ট্রপতি মি বারাক ওবামা।

: উই উন্ট মিট এগেইন- বলে গটগট পায়ে মি ইজেল যখন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন কে বলবে তার বয়স আটাত্তর ? ওবামা ভাবছিলেন, জন ম্যাককেইনের পরাজয় ছিল রিপাবলিকানদের প্রতি ইহুদিদের একটা শাস্তি। রিপাবলিকানরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ইজেলদের পায়ে ধরেছে। ইজেলের কথামত তিন মিলিয়ন কেন, দশ মিলিওন ভোট বেশি পেলেও হিলারি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন না। এত বড় পৃথিবীতে ক’জনা জানে, জনগনের ভোটে এখানে কেউ নির্বাচিত হয়না !! রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন তার হোমওয়ার্ক করে থাকে মাত্র আটটি পরিবার, কিছু মাফিয়া, কিছু সিনেটর আর তাদের চলমান আভ্যন্তরিন অর্থনীতি। যে আটটি পরিবারের কথা বললাম তারা সহ বিশ্বে মাত্র গোটা দশ পরিবারের হাতে রয়েছে পৃথিবীর নব্বই আনা সম্পদ। ফেডারেল রিজার্ভ একদিন মাত্র বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ ছাড়া সভ্য রাষ্ট্রগুলোর কমপক্ষে দশজন সরকার প্রধানের পতন হবে।

এদিকে তেল আবিব বিমানবন্দরে আজ মানে ০০:০০ আওয়ার থেকে এখন পর্যন্ত যেন পা ফেলার জায়গা নেই। প্রতি কুড়ি সেকেন্ড একটি করে বিমান নামছে। আটটি রানওয়ের সাতটিতেই বিমান নামানো হচ্ছে। সারা বিশ্বের সকল ইহুদিকে দেশে ফেরার গোপন নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে এও নিশ্চিত করা হয়েছে ইসরাইলে তারা নিজেদের বিপন্ন মনে করলে বিকল্প স্টেট গঠন করা যাবে বিশেষ বন্ধু দেশের সহায়তায়। ওরা এ কাজটা নিজ থেকে করে দেবে। কেন দেবে ? ইজরায়েলের পর ওই দেশটিতেই ২য় সর্বোচ্চ সংখ্যক ইহুদির বাস। শুধু ইহুদি থাকার কারনেও পাকিস্তান সেখানে হাই পে লোড ক্ষমতা সম্পন্ন মিজাইল ছুড়তে পারে বলে জোড় বিশ্বাস তাদের। দক্ষিন এশিয়ার প্রচন্ড জনবহুল একটি দেশের তিনটি পার্বত্য জনশুন্য প্রায় জেলা দখল করতে সময় লাগবে ঘন্টাখানিক । সো ভয়ের কিছু নেই। দুটো কারনে এতবড় ঘটনা ঘটছে। দুটোই গোপন। ইসরাইল একই দিনে বিশ্বের কয়েক হাজার প্রত্নতত্ত্ববিদ আমন্ত্রন করেছে কিছু একটা দেখাতে। ডেলিকেটদের বিমান নামছে। ইহুদিদের আজ বিশেষ বিশেষ দিন। তাদের প্রভু ত্রাণকর্তা শীঘ্রই তাদের মাঝে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আকাশ, নৌ আর স্থল সীমান্তের প্রতিটি প্রতিট ইঞ্জিতে শুধু নজরদারিই বাড়ায়নি ইসরায়েল বরং কাটতারের বেড়ার আশ পাশেও মাটিতে লুকিয়ে রেখেছে হিট সেন্সর। ফলে মানুষ কেন একটা ইদুরের পক্ষেও ইসরায়েলে অস্বাভাবিক উপায়ে প্রবেশ অসম্ভব। এইসব হুড়োহুড়ির মধ্যেই অত্যন্ত সাদামাটা ভাবে নামলেন জন মেককেইন এবং ফেডারেল ব্যাংক অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ( যেখানে বিশ্বের প্রায় সকল রিজার্ভ লিকুইড থাকে এবং যা ব্যাক্তি মালিকানাধীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর যুদ্ধ ব্যায়ের সিংহভাগ বহন করে এই ব্যাংকটি এবং বিনিময় হিসেবে চায় ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র্ব্র জন্ম। আজ সেই মাহেন্দ্রের পঁচাত্তর তম বার্ষিকী। বিশেষ এই দুজনকে তুলে নেয়া বুলেট এবং মাইন প্রটেক্টেড গাড়িটি বের হবার জন্য মুল এক্সিটের দিকে না গিয়ে, শাটার খোলা একটি রুমে ঢুকে পড়ল। জন মেককেইন, ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান যখন মিনিট কুড়ি পরে আন্ডারগ্রাউন্ডের বিশেষ নিউক্লিয়ার প্রটেক্টেড শিল্ড বসানো সেই ঘরটিতে প্রবেশ করেন তার মাত্র এক মিনিটেরও কম সময় আগে বাংলাদেশী বংসদ্ভুত চায়নিজ সেই ছেলেটিকে এখানে নিয়ে আসেন মোসাদের সেই ডেপুটি চিফ।

কনফারেন্স রুম-
——————-

এ রুমে ছারপোকা জাতীয় কোন ডিভাইস নেই এটা নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং মোসাদ চিফ। ম্যাককেইনকে দুরের চেয়ারটি দেখিয়ে রোজ নিজে এসে বসলেন আকাশের পাশে। তীব্র মমতা আর ভালোবাসা যেন ঠিকরে বের হচ্ছে তার চোখ মুখ থেকে। ইজেলই কথা শুরু করলেন-

– তোমার মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য গত পাচ বছর ধরে আমি শুধু বাংলা শিখেছি। এর সাহিত্য পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ নজরুল সহ প্রায় সবার বই পড়েছি। কিছু কিছু লেখকের জন্যে বড় কষ্ট পেয়েছি। তারা বেচে থাকলেই রবীন্দ্রনাথ চোর হয়েও অমর হতে পারতেন না। হাজার হাজার ডকুমেন্টারি দেখেছি। খুলনা, সুন্দরবন, মাদারিপুর, চাঁদপুর আর তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটা গ্রাম আমার মুখস্ত। আরে ছেলে ! তোমার সাথে পরিচিত হবার আগেই দেখি বকবক করতে শুরু করে দিয়েছি…… কি লজ্জার কথা। ছি ছি… আমি ইজেল। ইজেল রোজ।

: আপনি ফেডারেল রিজার্ভ চিফের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আজ প্রায় পনের বছর ধরে। গত পাচ বছর আপনি নিয়মিত অফিস করে গেছেন ঠিকই, ব্যাংকের যাবতীয় কাজ সামলেছেন আপনার সাবেক স্ত্রী। ইসরাইল আর আমেরিকার স্যাটেলাইট গুলোর নজরে ছিল উত্তর কোরিয়া, ভারত-পাকিস্তান বর্ডার, চায়না-ভারত-পাকিস্তান বর্ডার আর বাংলাদেশ। খুলনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত একটা কাল্পনিক রেখা টেনে কিছু একটা করার কথা ভাবছেন। আরাকানকেও সেজন্য খালি করেছেন। …… মুলত রোহিঙ্গা মুসলিমদের।

– এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে খুব সাদামাটা একটা এ্যাপস গুগল’কে গছিয়ে বিড়ালের মত নিঃশব্দে যেদিন উধাও হয়ে গেলে; সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত পাচ বিলিয়ন ডলার খরচ করে কোন ভুলই করিনি দেখছি। শুধু তোমার নিরাপত্তায় আমি আকাশ বাতাস এক করে ফেলেছি। তুমি আমাদের প্রতিটা স্যাটেলাইটের অর্বিটাল কোর্স এবং গতিবিধি জানো। মাত্র এক ঘন্টার নোটিশে সেসব ফেলে দেয়ার ক্ষমতা রাখো। আর। এগুলো ছাড়া আমরা অন্ধ। অথচ বেচে থাকার অধিকার আমাদেরও আছে। ছেলে, তুমি একজন বাংলাদেশী ?

:চায়নীজ। আকাশের নিষ্পলক জবাব।

-গুড। প্রফেশনাল উত্তর। খুলনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে ইহুদিরা অনেক নিরাপদ আর স্বস্তিতে থাকবে। সবচে বড় কথা এ অঞ্চলকে খালি করতে আমরা বায়ু দুষন হয় এমন কোন উইপন্স ব্যাবহার করতে দেব না, আফটার অল ইজরাইলী বনেদী লোকেরাই তো থাকবে। তাদের পরিবাশগত একটা স্ট্যান্ডার্ডের দরকার আছে, তাইনা ? মায়ানমার চুক্তি অনুযায়ী তারা আরাকান খালি করার শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। তোমাদের চায়নার সাথে বাংলাদেশের কোন সীমান্ত নেই। আলোচনা না করলেও পারতাম…

নর্থ কোরিয়ার আশ পাশে চায়না এবং রাশান অবস্থান স্ট্র্যাটেজিক। লাদাখ থেকে সিকিম, অরুনাচলের বেশ কিছুটা করিডোর ভারত জোর করে ধরে রেখেছে। স্বাধীন সিকিমকেও ছেড়ে দিতে হবে তাদের। ভুটান সীমান্ত ভারতের নয়। আমরা অবশ্য তোমাদের স্যাটেলাইট গুলোর ব্যাপারে আগ্রহী নই। ইটস এ ডিল। আগামী সাত দিন সময় দিচ্ছি। প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কারের নামে তোমরা এখানে পুরো বিশ্বকে টিভির সামনে ধরে রেখেছ। এটা চলবে সাতদিন। আশা করি যথেষ্ট সময় তোমরা পাবে।

কাকতালে যাদের বিশ্বাস মোটামুটি মানের তাদেরকে এটা জানিয়ে রাখা ভাল যে, আমস্টারডাম ঘটনাকে নিছক ডিনারপার্টি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ‘এ গ্লোবাল ট্রেন – ১’ প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিশ্ব সামরিক ব্যাবস্থায় কিছু অস্বাভাবিক মুভমেন্ট স্বাধীন থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান গুলোর ভুরু কুঁচকে একেবারে কপালে নিয়ে ঠেকাতে এক প্রকার বাধ্য করে। চায়না অন্য বেশিরভাগ সময়ের মত চুপই থেকেছে তবে কয়েক ঘন্টার নোটিশে তারা প্রায় তিন ব্রিগেড সেনা ও যুদ্ধ উপকরন পাকিস্তানে মোতায়েন করে ফেলেছে। এ বিষয়ে জোড়ালো এবং স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মোড়ল দেশগুলো থেকে আসার কোন খবর অনলাইন কিংবা প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আমস্টারডাম ডিনারপার্টি যখন তুঙ্গে,ঠিক সে সময় কালো রংয়ের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট ছোট একটি শিপ অবস্থান করছিল তেলআবিব বন্দর থেকে সোয়া দু’শো নট দুরে ইসরাইলী নৌ-সীমানায়। নাম পরিচয় বিহীন ছোট্র এ শিপে রয়েছে অতি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন রাডার আর জ্যামারের মত হাই ক্লাসিফায়েড কিছু ইনস্টলেশন আর হোয়াটস আ্যাপের চেয়েও কয়েকগুন উন্নত ভার্সনের কয়েকটা কমিউনিকেশন এ্যাপস। এরা ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে প্রাচীন সংস্কৃতের আঞ্চলিক কোনও ধারাকে, যেখানে প্রাচীন সংস্কৃকে পিএনজি তে কনভার্ট করে পাঠানো হয়। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন মুডে চলা মাত্র চারটা পিসিতে এটি সচল। কোন এ্যাপ স্টোরে বিক্রির জন্য এসব এ্যাপ বানানো হয় না জেনেও গুগল নাছোড়বান্দার মত এর পেছনে লেগেছিল। যেসব পিসিতে এটি কাজ করে সেখানকার প্রতিটি কি বাটনে আছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর এবং লিভিং রেটিনা স্ক্যানার। গুগল প্লে ষ্টোর একজন অখ্যাত অচেনা বেকুব যুবক থেকে এই এ্যাপটি কিনে নিয়েছিল বিলিয়ন ডলার লাভের আশায়। দুনিয়াজুড়ে যত কম্পিউটার, ট্যাব আর এ্যান্ড্রয়েড পরিচালিত অপারেটিং সিস্টেম, উইন্ডোজ কিংবা আইওএস ভার্সনে এটি ডাউনলোড করেছিল সেসব ডিভাইস গুলো চিরস্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যায়। ঢাকঢোল পিটিয়ে এমন একটি এ্যাপ বাজারে আনা গুগল খেয়াল করে যে বা যিনিই এটি ডাউনলোড করেছে, গুগলে থাকা তার সকল ফ্রেন্ডের কাছে একটা করে ইনভাইটেশন মেইল অটো সেন্ড হয়েছে। এ্যাপসের এমন স্মার্ট ফিচার গুগলকে অনেক বেশি প্রলুব্ধ করেছিল। সেইসব মেইল যে-ই ওপেন করেছে সে-ই তার উইন্ডোজ বা এ্যান্ড্রোয়েড হারিয়েছে চিরতরে। জরিমানা দিতে দিতে গুগল প্রায় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। তারা একে বর্ননা করেছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মেধার নিকৃষ্ট বিনিয়োগ হিসেবে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে অনার্স ড্রপ আউট আকাশ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে মনিটরের দিকে। গুগলকে ঘোল খাইয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া অচেনা এই চায়নিজ যুবক ছোট্র শিপটির ক্যাপ্টেন। ভোর হবার আগেই তেল আবিব বন্দরে নোঙর ফেলার কথা রয়েছে রয়েছে এই দলটির। সর্বসাকুল্যে চারজনের একটা দলের নেত্রীত্ব দিচ্ছে আকাশ যে নিজেই কোনদিন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে পারেনি। অথচ বাকি যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই পুরাতত্ত্ববিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তেল আবিবের আমন্ত্রনে একটা খননকার্যে অংশ নিতে এসেছে। যত্তসব অদ্ভুতকান্ড আর উদ্ভট গোপনীয়তার কারনে তারা প্রত্যেকেই চরম বিরক্ত। আকাশকেই বা কেন ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেউ কিচ্ছু জানে না। ডেলিকেটদের এভাবে পাঠানো হলো কেন জানেনা কেউ। তিনজনের নাম উল্লেখ করে তেল আবিবের চিঠির উত্তরে চায়না জানিয়েছিল, উল্লেখ্য তিন বিজ্ঞানী তেল আবিবের কাছে চায়নিজ একটা রিসার্চ শিপে আছে। সেখান থেকে তাদেরকে তেল আবিব বন্দরে নামিয়ে দেয়া হবে। তার পরের কাজ যেন ইসরাইল করে। চায়না এমন এক দেশ যার জনকও চায়নার জন্ম ইতিহাস কিচ্ছু জানেনা। রাষ্ট্রীয় হুকুম না মানার একমাত্র শাস্তি ফায়ারিং স্কোয়াড।

ইসরাইলি অবরোধে এক যুগেরও বেশি সময় আটকে থাকা গাজার বস্তিগুলো থেকে যখন ফজরের আজানের ধ্বনি অব্যাহতভাবে বারুদ আর গোলার গন্ধ চিড়ে বেড়িয়ে যাচ্ছিল ঠিক সে সময় তেল আবিব বন্দরের জেটিতে অলস দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন আমলের অকেজো প্রায় চল্লিশ চাকার একটি ট্রেইলর। ড্রাইভারের আসনে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে ময়লা, ঝুরঝুরে কাপড়ে আবৃত এক ভবঘুরে বৃদ্ধ। তার দায়িত্ব আকাশ ওয়াহিদকে নিয়ে একটা সেফ হাউজে রাখা। ঠিক এক ঘন্টা বসিয়ে রেখে কালো টিন্টেড গ্লাসে ঢাকা একটা জিপে তুলে শুধুমাত্র আকাশকে জেরুজালেমের নির্দিষ্ট একটি আন্ডারগ্রাউন্ড অফিসে পৌছে দেয়া এবং তা অবশ্যই ভোরের আলো ফুটবার আগে সারতে হবে। যিনি এ কাজটি করছেন তিনি আর কারো উপর ভরসা করতে পারেনি। তিনি মোসাদের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যাক্তি। চায়না আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অংশগ্রহনের কথা গোপন রাখতে এবং তাদের বিজ্ঞানীদের কে পোর্ট থেকে যেন মোসাদ তুলে নেয়। মোসাদের ২য় শীর্ষ ব্যাক্তি জানেন চীন থেকে একজন আসবে যাকে তিনি এসকর্ট করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানে তিনজন ব্যাক্তি সকাল আটটার দিকে পোর্টে নোংগর করবেন। ফলে এদেরকে তুলে নেয়ার জন্য স্থানীয় অফিসের একটা টিম আসবে ঠিক আটটায়।

ফুটনোট : ১. এ পর্বটি লেখা হয় ২৬/০৮/১৭ ইং, ট্রাম্পের নির্বাচিত হবার পুর্বে এবং সেখানে স্পষ্ট করা হয় তিনি কিভাবে নির্বাচিত হবেন। এবং তখন এটি প্রকাশিত হলে অনেকে-ই হেসেছিল।

২. খুলনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত ম্যাপের উপর একটা স্কেল রেখে বাংলাদেশকে ভাগ করার প্রস্তাব উঠে এ লেখাতে । হ্যা সে প্রস্তাব উঠেছে সপ্তা দুই আগে হিন্দুস্থানী সাংসদ সুব্রানিয়াম স্বোয়ামীর মুখ দিয়ে।

৩. আর তেল আবিব থেকে রাজধানী জেরুজালেমের স্থানান্তরের কথা লেখা হয়েছিল এর কোন একটা পর্বে।

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: ডেন্টাল সার্জন, কলামিস্ট

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত