প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যশোরে গৃহবধূ ধর্ষনের ঘটনার মামলা এখনও কেউ আটক হয়নি

জাহিদুল কবির: যশোরে স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূ এক সন্তানের জননী মৌসুমি পারভিন ওরফে ময়না ওরফে সাদিয়া খাতুন (২৮) ধর্ষনের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষিত গৃহবধূ খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার খানজাহানপুর শেখবাড়ি বর্তমানে যশোরের অভয়নগর উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামের মৃত কাজি আকবর হোসেনের মেয়ে। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ধর্ষনের শিকার ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার তত্ত্বীপুর গ্রামের রসময় কুন্ডুর ছেলে মানিক কুন্ডু (৩৭) একই উপজেলার আলকা গ্রামের নব খাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) ও বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার হিজলা গ্রামের আসমত আলী কাজির ছেলে রিয়াজুল (৩৫)।

মামলায় ধর্ষনের শিকার গৃহবধূ উল্লেখ করেছেন, তিনি স্বামী পরিত্যক্তা, এক সন্তানের জননী। আসামিরা তার পূর্ব পরিচিত। আসামিদের সাথে ওই গৃহবধূর কয়েক বছর দেখা সাখাত ও কথা বার্তা হতো। আসামি মানিক কুন্ডু বিভিন্ন সময়  ওই গৃহবধূকে চাকুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। চাকুরি দেয়ার কথা বলে মানিক কুন্ডু ১২ ফেব্রয়ারি বিকাল সাড়ে ৩ টায় ওই গৃহবধূকে অভয়নগর থেকে যশোর মনিহার স্ট্যান্ডে নিয়ে আসে। ওই গৃহবধূ যখন মনিহার স্ট্যান্ডে পৌছে তখন সন্ধ্যা ৬ টা। মনিহার মোড়ে পৌছানোর পর ওই গৃহবধূর আরো দুই আসামির সাথে দেখা হয়। মনিহার মোড়ে চারজন এক সাথে নাস্তা করে। নাস্তা শেষে তিনজন আসামি চাকুরি দেয়ার কথা বলে গৃহবধূকে ইজিবাইক যোগে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পানি সম্পদ অফিসের বিপরীতে জনৈক খলিলের নির্মানাধীন ঘরের ভিতর নিয়ে যায়। ঘরের ভিতর নিয়ে আসামিরা তাদের সাথে মেলামেশা করার জন্য গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখায় ও জোর করতে থাকে।

রাজি না হওয়ায় আসামিরা জোর পূর্বক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মাটিতে শুইয়ে ধর্ষন করে। প্রথমে তাকে মানিক কুন্ডু ও পরে আনোয়ার ও রিয়াজ গৃহবধূকে মারপিট করে পর্যায়ক্রমে ধর্ষন করে। তিনজন আসামি প্রায় ৩০/৪০ মিনিট ধরে গৃবধূকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ওই গৃহবধূ চিৎকার দিলে আসামিরা তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গৃহবধূ বাইরে আসলে মনোয়ারা বেগম ও সবুরকাজি নামে দুজন গৃহবধূকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসাপাতালে ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ধর্ষনের ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা জানতে চেয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে ধীর্ঘ সময় ব্যস্ত পাওয়া যায়। কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর তাসমিম শেখের সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে ধর্ষনের সাথে জড়িত কেউ এখনো আটক হয়নি বলে কোতয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত