প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান মোরশেদ: খেতাব হচ্ছে রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মানজনক স্বীকৃতি, রাষ্ট্র যদি মনে করে পরবর্তী সময়ে কেউ সেই সম্মান ধরে রাখার যোগ্য নন, নিশ্চয়ই সেটা প্রত্যাহার করতে পারে

হাসান মোরশেদ : সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ‘বীরোত্তম’ খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে যারা দুঃখিত ও ক্ষুব্দ তাদের বলি, আপনাদের দুঃখ ও ক্ষোভ মূলত রাজনৈতিক। এর আগে বলে নেই, আপনার মতো আমিও ধরে নিচ্ছি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার প্রতিটি অপারেশন কেন কোনো সাফল্য ছাড়া মুক্তিবাহিনীর বিরাট ক্ষতি দিয়ে শেষ হয়েছিলো সে প্রশ্ন না হয় আমি তুলবো না। আসি মুল আলাপে

[১] মুক্তিযুদ্ধে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী কিংবা মেজর জলিলের অবদান কী মেজর জিয়ার থেকে কম ছিলো? এই দুই সেক্টর কমান্ডার কিন্তু বীরোত্তম বা অন্য কোনো খেতাবে ভ‚ষিত হননি। এটা নিয়ে আপনি কখনো দুঃখিত হননি। কেন?

[২] বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মেজর ডালিমও কিন্তু বীরোত্তম। ডালিমের বীরোত্তম খেতাব প্রত্যাহারে কি আপনি দুঃখিত? যদি না হয়ে থাকেন তবে জিয়ার বেলা আপনি দুঃখিত কেন? এই খুনিদের স্বীকারোক্তিতে এবং ইতিহাসের বহু চিহ্ন রয়ে গেছে- জিয়াউর রহমান এই খুনিদের আশ্রয়দাতাই শুধু ছিলো না, তাদের ভরসাও ছিলো। জিয়ার অপরাধ ডালিমের চেয়ে কম কোথায়?

ডালিম তবুও তখন বহিস্কৃত মেজর, জিয়া ছিলো উপ-সেনাপ্রধান।

[৩] জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, আছেন, থাকবেন। এটা ইতিহাসের অংশ। খুনি হলেও ইতিহাসের এই সত্য মুছে দেওয়া যাবে না। কিন্তু খেতাব হচ্ছে রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মানজনক স্বীকৃতি। রাষ্ট্র যদি মনে করে পরবর্তী সময়ে কেউ সেই সম্মান ধরে রাখার যোগ্য নয়, নিশ্চয়ই সেটা প্রত্যাহার করতে পারে।

[৪] মডারেট কেউ কেউ ভাবছেন এটা সরকারের ‘স্থু’ কাজ। বিএনপি ক্ষমতায় এসে যদি বঙ্গবন্ধুর ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়? এই প্রতিহিংসার রাজনীতি কি চলতেই থাকবে? ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট যারা ঘটাতে পারে তাদের  রাজনীতির মাঠে শেষ করে দেওয়া প্রতিহিংসা নয়, বরং এটাই ন্যায়বিচার। আর বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশে টিকে থাকতে হবে না জিয়াউর রহমানের সাথে ‘মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ’ হয়ে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও সম্মান বাংলাদেশকেই টিকিয়ে রাখতে হবে নিজে টিকে থাকার প্রয়োজনে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত