প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে হচ্ছেন দুদক চেয়ারম্যান?

ডেস্ক রিপোর্ট: ঘনিয়ে আসছে ১৪ মার্চ। এর মধ্যেই শেষ হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই কমিশনারের কার্যকাল। তাদের স্থলে নিয়োগ দিতে হবে নতুন দু’জনকে। তিন সদস্যের কমিশন থেকে প্রেসিডেন্ট একজনকে ‘চেয়ারম্যান’ নিয়োগ দেবেন। কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে গত ২৮ জানুয়ারি পাঁচ সদস্যের ‘বাছাই কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। এ কমিটি এখন কাজ করছে।

দুদক সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ, দুই কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এএফএম আমিনুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হকের সমন্বয়ে বর্তমান কমিশন গঠিত। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে থাকা ইকবাল মাহমুদ এবং এএফএম আমিনুল ইসলামের কার্যকাল শেষ হবে আগামী ১৩ মার্চ। দু’জন চলে গেলে কমিশনার হিসেবে থাকছেন ড. মোজাম্মেল হক। বিদায়ী দুই কমিশনারের স্থলাভিষিক্ত হবেন সার্চ কমিটির বাছাইকৃত নামের মধ্য থেকে যে কোনো দু’জন।

নতুন দু’জনকে নিয়োগের পর তিন কমিশনারের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট দুদক আইন-২০০৪ এর ৫(১) ধারায় যে কোনো একজনকে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে নিয়োগ দেবেন। চেয়ারম্যানের মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান। দুর্নীতিবিরোধী একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুদক। স্বশাসিত স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যান পদে কে নিয়োগ পাচ্ছেন- এ প্রশ্ন তাই এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে কাকে বসানো হচ্ছে- এ নিয়ে কৌতুহল রয়েছে সব মহলে।

দুদক আইনে কমিশনার পদে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। আইনটির ৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যুন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি কমিশনার হইবার যোগ্য হইবেন।’

‘অযোগ্যতা’র প্রশ্নে ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষিত বা চিহ্নিত, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দেউলিয়াত্বের দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করা, নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতিজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক কারাদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তি, সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকা, দৈহিক বা মানসিক বৈকল্যের কারণে কমিশনের দায়িত্ব পালনে অক্ষম, বিভাগীয় মামলায় গুরুদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি। আইনে বেঁধে দেয়া এ যোগ্যতা-অযোগ্যতার নিরিখে বাছাই কমিটি সুপারিশ করবে যোগ্য কমিশনারদের নাম।

বাছাই কমিটির বিধি মতে কমিটির একেজন সদস্য একটি পদের বিপরীতে দু’জনের নাম প্রস্তাব করবেন। সেখান থেকে বাছাই কমিটি একেকটি পদের বিপরীতে প্রেসিডেন্টের কাছে দু’জনের নাম প্রস্তাব করবেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত বাছাই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিম, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন এবং মন্ত্রিপরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভুইঞা। এ কমিটি চলতি সপ্তাহেই সম্ভাব্য নাম নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

বাছাই কমিটির চলমান কার্যক্রমের মধ্যেই দুদক কমিশনার হিসেবে ‘নিয়োগযোগ্য’ কিছু নাম হাওয়ায় ভাসছে। এর মধ্যে রয়েছেন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুইয়া, এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত আইজি জাবেদ পাটোয়ারি, অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক বিমান সচিব মহিবুল হক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব এম.এ.করিম এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. এম আসলাম আলম। বাছাই কমিটি তাদের কারো কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র।

তবে বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এ দুই পদে নিয়োগ দেবেন। নিয়োগকৃত কমিশনারদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেয়া হবে চেয়ারম্যান পদে। এ পদে কে নিয়োগ পেতে পারেন- এ নিয়েও রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দুদকের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান কমিশনার ড. মোজাম্মেল হকই এ পদে নিয়োগ লাভের সম্ভাবনা বেশি। কারণ নবনিযুক্ত দুই সদস্যসহ তিন কমিশনারের মধ্যে তিনি সিনিয়র। প্রশাসন ক্যাডার থেকে কাউকে সদস্য নিয়োগ দেয়া হলে তাদের মধ্যে তিনি সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ।

কমিশনকে প্রশাসন ক্যাডারের প্রভাবমুক্ত করার পরিকল্পনা থেকে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে দিয়েও চেয়ারম্যান পদটি অলঙ্কৃত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি হবেন দুদকের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। সংস্থাটির কার্যক্রম স্বচ্ছ, গতিশীল এবং দুর্নীতিমুক্ত করার পরিকল্পনা থেকে ভাবা হতে পারে সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভুইয়াকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়ার কথা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে নিয়োগপত্রে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। সূত্র: ইনকিলাব

সর্বাধিক পঠিত