প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভর্তুকির জালে আটকে গেছে পিডিবি

ডেস্ক রিপোর্ট: মদফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ভর্তুকির বেড়াজাল থেকে বের হতে পারছে না। বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করে প্রায় প্রতি মাসেই সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে পিডিবিকে হাজার হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বরাবরের মতোই চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসের প্রকৃত ট্যারিফ ঘাটতি বাবদ ৭৫২ দশমিক ১৫ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে পিডিবি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় পিডিবি ট্যারিফ ঘাটতির মধ্যে পড়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নির্ভর করে জ্বালানির ওপর। বর্তমানে ব্যয়বহুল জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসের মূল্য বেশি হওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন এবং দেশে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা অনুযায়ী চাহিদা না থাকার কারণে ইউনিটপ্রতি স্থায়ী ব্যয় বেড়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, দেশের বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির দাম যথাসময়ে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় পিডিবি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৪৫ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে। এ ছাড়া অক্টোবর-নভেম্বরে প্রকৃত ট্যারিফ ঘাটতি বাবদ ১ হাজার ৪২৬ দশমিক ৭২ কোটি টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন। একই বছরের ডিসেম্বরের ঘাটতি বাবদ আরও ৭৫২ দশমিক ১৫ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেছে পিডিবি।

প্রসঙ্গত, কোভিডকালীন পিডিবির বিদ্যুৎ বিক্রির ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা। সেই সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে সেই অর্থ ভর্তুকি বাবদ আর্থিক সহায়তা চায় পিডিবি। এ ছাড়া এতদিন পিডিবিকে ঋণ হিসেবে দেওয়া অর্থ ভর্তুকি বা সাবসিডিয়ারি হিসেবে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আইন অনুযায়ী পিডিবিকে দেওয়া ঋণকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার দাবি করে সংস্থাটি।

গত বছর বেসরকারি খাতের ভাড়াভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করা বিদ্যুতের ভর্তুকি মূল্য পরিশোধ বাবদ ২ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা ভর্তুকি সহায়তা চেয়েছিল পিডিবি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) দেশি আইপিপি এবং ভারতে আমদানি করা বিদ্যুৎ পাইকারি কিনে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি করে।

এ ছাড়া পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি তেল সরবরাহে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) অগ্রিম টাকা পরিশোধ করে। প্রসঙ্গত, দেশে এখনো সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে উৎপাদন মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারছে না সরকার। এ ছাড়া বেইসলোড বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বড় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গত ১০ বছরেও পুরোদমে উৎপাদনে নিয়ে আসতে না পারায় উচ্চমূল্যে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের অক্টোবরে আইপিপি খাতে ভর্তুকি বা ক্ষতি হয়েছে ৫৯৬ দশমিক ৯১ কোটি, রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টে ভর্তুকি ১৬ দশমিক ৩৩ কোটি, কুইক রেন্টাল খাতে ১৪২ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি বাবদ ক্ষতি ২৯ দশমিক ২২ কোটি টাকা । সূত্র: আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত