প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা উসকে দিচ্ছে ক্যান্সার

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ক্যান্সারে নাজুক রোগীদের সংক্রমিত করে কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। করোনা উসকে দিচ্ছে কেমোথেরাপি-ওষুধে নিয়ন্ত্রণে রাখা ক্যান্সারের জীবাণুকে। দেশে প্রতিবছর বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যু হার।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক, রক্ত রোগ ও রক্ত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘ক্যান্সার রোগীদের আমরা যখন কেমোথেরাপি দেই, তখন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিকিৎসা চলাকালীন অনেক রোগীই কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছেন। বাড়ি থেকে কিংবা হাসপাতালে থেকেও সংক্রমিত হচ্ছেন। এতে অনেক রোগীকে হারিয়ে ফেলছি আমরা। তারা হয়তো আরও বেশিদিন বাঁচতেন কিন্তু করোনাভাইরাস তাদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। পরিবার হারাচ্ছে আপনজনদের। এ রকম অনেক রোগীই আমরা পাচ্ছি। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ফুসফুস ক্যান্সারের রোগী বেশি। পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, ক্লোন ক্যান্সারের রোগী বেশি। অন্যদিকে নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হার বাড়ছে।’

ক্যান্সার ও করোনা কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য জীবন। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও করোনার সংক্রমণ তাদের নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দুয়ারে। উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয়েছে ক্যান্সার-করোনার সম্মিলিত আঘাতে। প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনার জীবাণু উসকে দেয় সুপ্ত ক্যান্সারকে। নতুন করে ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও মূত্রথলিতে ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার। জীবনাসান ঘটে ৮৫ বছর বয়সী প্রখ্যাত এই অভিনেতার। ক্যান্সার-করোনার যৌথ আক্রমণে খসে পড়েছে আরেক নক্ষত্র। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের। দেশে এবং ভারতের চেন্নাই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। কিন্তু করোনায় সংক্রমিত হলে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে তার। কেমোথেরাপিতে নাজুক শরীর করোনার বিরুদ্ধে গড়তে পারেনি প্রতিরোধ। নিভে যায় মেধাবী এই প্রাণ। বেসরকারি টেলিভিশনের কর্মী সুলতানা পারভীন (৩৮) কিছুদিন ধরেই বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। মাকে টেস্ট করাতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজের কিছু টেস্ট করান তিনি। রিপোর্ট দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পুরো পরিবারের। ডাক্তার জানান, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। আরও কিছু টেস্ট করিয়ে জানা যায়, ক্যান্সারের দ্বিতীয় স্টেজে রয়েছেন তিনি। তার স্বামী জানান, কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়েছে তার। প্রয়োজনীয় কিছু টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট দেখে কেমোথেরাপি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু চিকিৎসক বারবার সতর্ক করেছেন কোনোভাবেই যেন রোগী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত না হন। তাহলে তাকে সুস্থ করে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। কভিড-১৯ নেগেটিভ ছাড়া চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি ও হাসপাতালে এসে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে দেশে ক্যান্সার রোগীরা হাসপাতালবিমুখ হয়েছিলেন। তাই অন্যান্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার রোগী অনেক বেড়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অ্যাডভান্স স্টেজের ক্যান্সার রোগী বাড়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইসস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম চার থেকে পাঁচ মাস হাসপাতালে তেমন কোনো রোগী আসেনি। এখন রোগীর চাপ অনেক বেশি। আগামী তিন-চার মাস সেবা নিতে আসা রোগীরা অধিকাংশ অ্যাডভ্যান্স স্টেজে আসবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’ দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। সচেতন না হলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সিরাক-বাংলাদেশ ও কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। ক্যান্সার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস। আলোচনা সভায় ক্যান্সার রোগতত্ত্ববিদ ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সরকারি সমন্বিত বিশেষায়িত ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা সেবা পাওয়ার আরেকটি অন্তরায়। তাই চিকিৎসা সুবিধা মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শুধু চিকিৎসা দিয়ে ক্যান্সার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় ও চিকিৎসা এবং প্রশমন সেবা বা পেলিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করতে হবে। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত