প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সমাজভাবনাকে পাল্টাবে অসমীয়া ছবি ‘গড অন দ্য ব্যালকনি’, প্রদর্শিত হয়েছে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবে

মাছুম বিল্লাহ: [২] গত কয়েক বছর ধরে ভারতের আসামের কয়েকটি চলচ্চিত্র লাইম লাইটে এসেছে। ২০১৭ সালে ‘ভিলেজ রকস্টারস’ নামের অসমীয়া ছবি ভারতের হয়ে অস্কারে মনোয়ন পেয়েছিল। সম্প্রতি আরেকটি চলচ্চিত্র প্রশংসিত হয়েছে। নাম ‘গড অন দ্য ব্যালকনি’। চলচ্চিত্রটির পরিচালক বিশ্বজিৎ বোরা। প্রযোজনা করেছেন নুরুল সুলতান।

[৩] এই ছবিটির জন্য সম্প্রীতি শেষ হওয়া কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বজিৎ বোরা। ছবিটি ‘ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১’ গত ১৭ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হয়েছে।

[৪] আসামের সমাজ জীবনের গল্প ছবিটির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন পরিচালক। গল্পটি এমন- আসামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক দম্পতি থাকে সন্তানকে নিয়ে। দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। একদিন রাসলীলায় অংশ নিতে যায় স্বামী। সেদিনই হাতির আক্রমণে মারাত্মক আহত হয় স্ত্রী। আহত স্ত্রীকে সাইকেলে নিয়ে কীভাবে হাসপাতাল যান স্বামী এবং তারপর কী হয়, সেটাই ছবির মূল গল্প।

[৫] গল্প প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ জানান, ‘আমি একটা ঘটনা পড়েছিলাম। ওড়িশার এক বাসিন্দা ১০ কিলোমিটার হেটে তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। পড়ে শোকাহত হই। এটা তো আমাদের দেশেরই চিত্র। আমার ছবিতেও নদী একটি অঞ্চলকে দু-ভাগ করে। একদিকে উন্নয়নের হাওয়া বইছে। কিন্তু অন্য প্রান্তের মানুষদের হাসপাতালে পৌঁছতে গেলেও ভয়ঙ্কর লড়াই করতে হয়। আমার ছবির প্রেক্ষাপট আসাম। আসলে বেঁচে থাকার নূন্যতম প্রয়োজনের জন্য প্রান্তিক মানুষকে আজও লড়তে হয়। আমার মনে হয়েছিল, এই চিত্রটা একটা ছবির মাধ্যমে উঠে আসা দরকার’।

[৬] বিশ্বজিৎ ২০১৫ সালে একটি হিন্দি ছবি বানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার দু’ তিনটা কাজ করার পর মনে হয় এমন গল্প বলতে হবে, যা সমাজ ভাবনায় বদল আনতে পারে।

[৭] ২০১৬ তে ‘বহিৃমান’ নামে একটি সুপারহিট ছবি তৈরি করেছিলেন পরিচালক। আসামের ছবি কি ভাবনায় বাংলা বা হিন্দি ছবির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে? বিশ্বজিতের জবাব, ‘দু’টা জিনিস মাথায় রাখি। প্রথমত ছবির বিষয়বস্তু নজরকাড়া আর প্রাসঙ্গিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আসামের ছবি দেখে যেন মনে না হয়, বাংলা বা বলিউডের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আসামের অনেক ছবিই তেমন। আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসামের ছবি চর্চিত হওয়ার জন্যও দ্বিতীয়টি প্রয়োজনীয়। তাই ‘গড় অন দ্য ব্যালকনি’ এমনভাবে বানিয়েছি, যাতে ছবিটির মান প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকার মতো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত