প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিদিন গোসল কতটা জরুরি?

ডেস্ক রিপোর্ট: যারা ঘরে থাকেন বা ঘরে থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন তাদের প্রতিদিন গোসলের প্রয়োজন হয় না। কারণ ত্বক স্বাভাবিক হলে, ঘাম কম হয়, শরীরে ময়লা জমে কম এবং দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঝুঁকিও কম। অন্যদিকে যারা বাইরে যান, অনেক মানুষের সাথে মেশেন, শরীরে ঘাম জমে, ময়লা হয়, তাদের গোসলের প্রয়োজন ঘরে থাকাদের চেয়ে বেশি। এটা আমাদের সাধারণ জ্ঞান।

এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা আসলে কি বলছেন? প্রতিদিন গোসলের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? নিচে এসব নিয়েই আলোচনা।

‘শুধু শরীরের ত্বক পরিস্কারের জন্য প্রতিদিন বা বার বার গোসল করা ভালো কিছু নয়। প্রতিদিন গোসল করলে হয়তো শরীর থেকে সজীব ঘ্রাণ পাওয়া যায়; তবে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে এটি আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে’, বলেছেন চিকিৎসকরা।

দেখা যাচ্ছে, বয়স্ক যাদের শুষ্ক ত্বক, তারা যদি নিয়মিত গোসল না করেন, এটা তাদের জন্য ভালো হচ্ছে।

নিয়মিত গোসল না করার পক্ষে যারা, তারা বলেছেন, প্রতিদিন গোসল করলে ত্বকে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া সাবানের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়।

জনস হপকিন্স সেন্টারের হেলথ সিকিউরিটি বিভাগের সিনিয়র স্কলার আমেশ আদালজা বলেন, অধিকাংশ তরুণের প্রতিদিন গোসলের একটি বড় কারণ হলো, তারা অনেক মানুষের ভিড়ে চলাফেরা করেন, অনেকের সঙ্গে তাদের ওঠাবসা, এ কারণে শরীর ঘামে বেশি। মূলত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য তারা নিয়মিত গোসল করেন।

সংক্রমণব্যাধির উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিয়মিত গোসলের কারণে তরুণদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্য পূর্ণ হলেও, বেশিরভাগ সময় গোসল তাদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে না।

ডা. আদালজা বলেন, সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রতিদিন গোসল করতে হবে; এমন শক্তিশালী কোনো তথ্য নেই। গোসলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ত্বকের মাইক্রোবায়োম বা ত্বকে থাকা অণুজীবগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

তিনি বলেন, ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ডায়াবেটিস রোগী এবং মোটা মানুষের ত্বকের ভাঁজে ছত্রাকের সংক্রমণের শঙ্কার কারণে প্রতিদিন গোসলের ক্ষেত্রে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। সংক্রমণরোধে শিশুদের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নার্সিং স্কুলের এমিরেটাস অধ্যাপক এলেন লারসন বলেন, যারা ঘরে থাকেন তাদের জন্য প্রতিদিন গোসল না করা ভালো একটা উদ্যোগ। কারণ এতে ত্বকের উপরিভাগে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া রক্ষা পাবে। তরুণদের বয়স এবং কাজের ক্ষেত্র বিবেচনায়, প্রতি তিন থেকে সাতদিনে একবার গোসল করতে পারে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ত্বক এমনিতে শুষ্ক। এক্ষেত্রে তারা যদি প্রতিদিন গোসল করে তাহলে জীবাণুর আক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। নিজেকে অপরিচ্ছন্ন মনে হলে গোসল করতে পারেন। তার মানে এই না প্রতিদিন গোসল করতে হবে।

‘দ্যা ডার্টি অন ক্লিন: অ্যান আনস্যানেটাইজড হিস্ট্রিরি’ বইয়ের লেখক ক্যাথেরিন আশেনবার্গ বলেন, উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যগত কারণের চেয়ে মানসিক কারণে বার বার গোসল করে। সে ‍তুলনায় ইউরোপের মানুষজন অনেক কম গোসল করে। তবে উত্তর আমেরকিার লোকজন এখনো গোসলে সাবান কম ব্যবহারে বিশ্বাসী। আসলে গোসল কিছু ক্ষেত্রে বংশগত অভ্যাসও বলা চলে।সময়টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত