প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আব্দুল হাই সঞ্জু : নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে চাকরি না পেয়ে উচ্চ আদালতে করা করা রিটে শেষ পর্যন্ত ঠিকই জিতবেন আয়েশা সিদ্দিকা

আব্দুল হাই সঞ্জু : নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে চাকরি না পেয়ে উচ্চ আদালতে করা করা রিটে শেষ পর্যন্ত ঠিকই জিতবেন আয়েশা সিদ্দিকা। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর সুপ্রিমকোর্টের আদেশ তার পক্ষেই আসার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু আয়েশা সিদ্দিকার এই কেসটিকে ঘিরে অতি উৎসাহী নারীবাদী এবং অতিহুজুররা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। কারণ এই দুই ধরনের লোকেরা আলোচ্য কেসের মুল জায়গাতে আলোকপাত না করে অন্য জায়গার ওপর বেশি আলোকপাত করছেন। অতিহুজুর এবং অতিউৎসাহী নারীবাদীদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আয়েশা সিদ্দিকা নিজে একজন মাদ্রাসা ছাত্রী। তিনি বিয়ে পড়াতে চান না; তিনি নিবন্ধকের চাকরিটা চান। প্রথম আলোকে আয়েশা সিদ্দিকা বলেছেন, ‘আপনি নিকাহ নিবন্ধনের বালাম বই দেখেছেন? ওখানে বিয়ে কে পড়িয়েছেন তার স্বাক্ষরের জন্য একটি কলাম আছে, আর নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য আরেকটি কলাম। নিকাহ রেজিস্ট্রার তো বিয়ে পড়ান না, তিনি শুধু নিবন্ধন করেন। এখানে ধর্মীয় কাজে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন?’ আয়েশার এই কথা জানার পর মহিলাদের ‘মাসিক’ নিয়ে যারা মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন, তারা আয়েশাকে তাদের সাথে পাবেন না। কারণ আয়েশার ‘ফোকাস’ এক জায়গায়। আর তথাকথিত নারীবাদীদের ‘ফোকাস’ আয়েশার ওপর ভর করে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠা করা। আর হাইকোর্টের আপিল বিভাগ মহিলাদের মাসিকের আলোচনায় না গিয়ে কেবল বলে দেবে, চাকরির বিজ্ঞপ্তি এবং পরবর্তী ধাপগুলো সঠিক ছিলনা। আয়েশাকে তাঁর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি আরও কিছু পর্যবেক্ষণ জুড়ে দিতে পারে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার জন্য।
প্রথম আলোর জন্য আয়েশা সিদ্দিকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ সাবিহা আলম, আর বিবিসি বাংলার জন্য সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইয়েদা আক্তার। দুই সাক্ষাৎকারে দুই রকম তথ্য থাকার কারণে আয়েশার চাকরির শর্টলিস্ট সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি এবং আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার কারণও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে উল্লেখ আছে, ‘এই একটি পদে আমরা তিনজন প্রার্থী ছিলাম। আর তিনজনই ছিলাম নারী। আমি ফাজিল পাস করেছি। অন্য দুজন আমার নিচের ক্লাসে পড়ত।’ অথচ বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে : ‘আয়েশা হঠাৎ জানতে পারলেন, প্যানেলের প্রস্তাবিত তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি একজন পুরুষ এবং সম্পর্কে তার আত্মীয়। ‘এই ঘটনায় আমি খুবই আঘাত পাই মনে। আমার খুব অপমানও লাগে যখন জানতে পারি যে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও আমি নিয়োগ পাব না, কারণ আমি মহিলা’। বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে স্বামীর পরামর্শে আয়েশা আইনি প্রতিকার চাইতে ঢাকায় আসেন। বিবিসি বাংলার তথ্য সঠিক হলে বিষয়টি গুরুতর এ কারণে যে, প্রথম স্থান অধিকারী আয়েশাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় হওয়া সত্ত্বেও একজন পুরুষকে সেই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি ২০২১,লন্ডন। ফেসবুক থেকে

 

সর্বাধিক পঠিত