প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরে খোদা টরিক : ট্রাম্প রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে, সর্বাধিক ক্ষমতাবান হয়েও নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনকে নিজের স্বার্থের পক্ষে কাজে লাগাতে পারেননি, এটাই মার্কিন গণতন্ত্রের শক্তি ও সৌন্দর্য

মঞ্জুরে খোদা টরিক : [১] ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে তছনছ করায় অনেকেই বলছেন, আমেরিকা শেষ, সে দেশের গণতন্ত্র শেষ। যে দেশের গণতন্ত্র-নির্বাচনের এই অবস্থা তারা আবার দুনিয়াকে গণতন্ত্র শেখায়, ইত্যাদি বলে ভৎসনা করছেন! ভাইরে, সত্য কেবল ততোটুকো নয়, যতোটুকু দেখা যায়, জানার বাইরেও জগত আছে! আপনারা কি বলতে পারেন কেন এমন হয়েছে? এর অন্তর্গত কারণ-দর্শন কি? সেটাও গণতন্ত্রের জন্যই হয়েছে। কেন বলছি এমন কথা? গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মার্কিন সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বহু জাতি-সংস্কৃতির লক্ষ লক্ষ অভিবাসিদের সে দেশে বসবাস ও উন্নত জীবনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। সেটাই আজ বুমেরাং হয়েছে। মূল আমেরিকান ও সাদাদের একটি বড় অংশ সেটা আর মানতে পারছেন না। অভিবাসির প্রশ্নে বিগত দিনগুলোতে মার্কিন জনগণের মনোভাবের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনীতি ও অর্থনীতির নামেই-প্রয়োজনেই সেগুলো হয়ে আসছে, হচ্ছে।

[২] আপনারা যাদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর করতে দেখছেন এটাই এখন এ দেশের নতুন প্রবনতা। এদেশে এখন এক বিশাল অতিরক্ষণশীল ও উগ্রজাতীয়বাদী অংশ গড়ে উঠেছে। ১০ বছর আগেও এ প্রবণতা ছিলো না। তারাই এখন আমেরিকার অর্ধেক জনগোষ্ঠী। যারা মনে করেন মার্কিন দেশের নীতিকে আর উদার হতে দেয়া যাবে না। দেশে স্বেতাঙ্গদের প্রাধান্য রাখতে হবে। অন্য জাতিগোষ্ঠী বা অভিবাসীদের আর সুযোগ-সুবিধা দেয়া যাবে না। ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজকর্মে, শাসন-প্রশাসনে সাদাদের ও মূলমার্কিনীদের একক কতৃত্ব-নেতৃত্ব বজায় রাখতে হবে। এর পক্ষের প্রচার-সংগ্রাম-সংগঠন প্রবল জোড়দার হচ্ছে। এ অবস্থা আমেরিকানদের জন্য যেমন তেমনি গণতন্ত্রমনা সকলেও জন্যই ভয়াবহ উদ্বেগের।

[৩] মার্কিন দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি ট্রাম্পকে এতোকিছুর পরও জনগণের ভোটের নির্ভর করতে হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে, সর্বাধিক ক্ষমতাবান হয়েও নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনকে নিজের স্বার্থের পক্ষে কাজে লাগাতে পারেননি। এটাই মার্কিন গণতন্ত্রের শক্তি ও সৌন্দর্যের দিক। তিনি মার্কিন ব্যবস্থায় কোনো ক্যরিক্যচার করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও দুই-চার লাখ নয়, দুই চার-হাজার বাড়তি ভোট নিজের পক্ষে যোগাড় করতে পারেননি, ইধার-উধার করতে পারেননি। দুই-চারটা ভোটও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধভাবে নিজের বাক্সে ভরতে পারেননি। আইন-আদালতকে প্রভাবিত করতে পারেননি। সে সুযোগ-ব্যবস্থা সেখানে নেই। একেই বলে গণতন্ত্রের ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকতা। মার্কিন গণতন্ত্র নিয়ে যারা মশকরা করছেন, তারা একটু নিজের দেশের দিকে তাকান, যেখানে রাতের বেলা ভোট হয়ে যায়!

[৪] এই উগ্রবাদ শুধু মার্কিন দেশে নয়, বিশ্বের সব দেশেই বাড়ছে। অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ সভ্য-উন্নত দেশগুলোর সমাজ-সংস্কৃতি-মূল্যবোধের বিপরীতে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ উগ্রভাবে চর্চা-পালন-প্রতিষ্ঠার নামে সমাজে বিরোধ-বিভাজন-উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থার জন্য এটা একটা বড় কারণ, তার সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতির নানা কারণ-সমীকরণ তো আছেই। ভারতের দিকে তাকান, বাংলাদেশে কোথায় গেছে, যাচ্ছে, সেদিকে তাকান! ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ধেয়ে আসছে উগ্র জাতীয়তাবাদের ঝড়! ৯০ ভাগ মুসলমানের কথা বলে বাংলাদেশেও মোল্লাতন্ত্র ইসলামী শাসন কায়েমের কথা বলছেন। মূর্তি, মন্দির ভাঙছে সেখানে চোখ পড়ে না? দেশে সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন কি আপনাদের চোখে পড়ে না? অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয় না।

[৫] এটা কেবল ট্রাম্প ও বাইডেনের ক্ষমতার বিরোধ-ঝগড়া নয়। এখানে ট্রাম্প একটি প্রতীক মাত্র। তার মাধ্যমেই এই উগ্রবাদের ভিন্নপর্বের শুরু। এটি নিছক গণতন্ত্র ও শাসনতন্ত্রের বিরোধ নয়, প্রায় বিপরীতমূখী রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত-বিরোধ। আমেরিকাতেও আওয়াজ উঠেছে ‘আমাদের আমেরিকা’, ‘আমেরিকাই শ্রেষ্ঠ’ পৃথিবীর সব দেশের, সব উগ্রবাদের চেহারই এক রকম বিভৎস, বিকট। ট্রাম্পের পরাজয়ের মধ্যদিয়ে উগ্রজাতীয়তাবাদ নিশ্বেস হয়ে যায়নি। এটা তার শেষের শুরু মাত্র। এতে আপনাদের খুশি হবার, আহলদিত হবার কিছু নেই। এটা মার্কিনীদের জন্য যেমন বিপদ আমাদের জন্যও বড় সংকট তৈরি করেছে। হিটলারের শ্রেষ্টত্ববাদ, নাজিবাদ শুধু জার্মানেই বিপদ ডেকে আনেনি, সারা বিশ্বে কি অবস্থা করেছিলো, সে ইতিহাস নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। তেমনি আরেকটি বড় বিপদের আশংকায় সতর্ক হোন, চিন্তিত হোন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত