প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেফাজত বিভক্ত হচ্ছে, সরকারের মদদেই পাল্টা কমিটির প্রস্তুতি চলছে

আজহার আলী সরকার: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিভক্ত হচ্ছে ।এই নামেই সংগঠনটির আরো একটি নুতন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে। হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নেতা আল্লামা শফীপুত্র হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী ও তাঁর বাবার কয়েকশত অনুসারীরাই হচ্ছেন সম্ভব্য এই নুতন কমিটির উদ্যোক্তা । ইতোমধ্যেই তারা সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে সব ধরনের আলোপ-আলোচনা শেষ । বর্তমানে তারা সম্ভব্য কমিটি গঠনের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তার সাথে সারাদেশে নেতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্ম তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

আজ বেলা ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর ( একাংশের ) এক সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রয়াত নেতা আল্লামা শফীর মৃত্যূ এবং নুতন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি বর্তমান হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের নানান ধরনের নেগেটিভ তথ্যসহ কৌশলে সরকারের সমর্থনে কিছু দিক নির্দেশনামুলক কর্মকান্ড তুলে ধরবে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে ।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নব গঠিত কমিটিতে যাদের রাখা হয়নি বা হেফাজতের কমিটিতে বাদ পড়েছেন তাদেরকেই এই নুতন কমিটিতে রাখার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছে হেফাজতের এই অংশ।

গত ১৭ নভেম্বর হেফাজতের দূর্গ বলে খ্যাত হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত হেফাজতের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে গঠিত দেড়’শতাধিক ওই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আল্লামা শফী অনুসারী বলে পরিচিত ৪০/৫০ নেতা বাদ দিয়েছে বলে দাবী করেছেন আনাস মাদানী ও তাঁর বাবার অনুসারীরা।

বাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন- আল্লামা শফীর জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ মাদানী ও তার ভাই মাওলানা আনাস মাদানী, ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আমিনী, হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি ওয়াক্কাস, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ ও মাওলানা আলতাফ হোসেন, ইসলামী ঐক্যজোটের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহী। এছাড়া আল্লামা শফীর বিশস্ত হিসেবে পরিচিত বেফাকের সাবেক কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুসকে হেফাজতের নায়েবে আমীর থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

চট্টগামের ঐতিহ্যবাহী নাজিহাট মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সলিমুল্লাহও নব গঠিত কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।

হেফাজতের নেতা মুফতি ওয়াক্কাস ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে জানিয়েছেন,আল্লামা শফীর অবর্তমানে এখন একজন আমীর নিযুক্ত করাই ছিল প্রধান কাজ। কিন্তু তা না করে পুরো কমিটি বিলুপ্ত করা হল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাবে একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এটি করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। যারা চায় না দেশের আলেমরা এক থাকুক।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী মারা যান। এরপর থেকেই আমীর নির্বাচন নিয়ে সংগঠনটির মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।

ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তোলে আল্লামা শফীপুত্র আনাস অনুসারী একটি অংশ। এছাড়া একই অজুহাতে চট্টপ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রয়াত আল্লামা শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন।

আর ওই সময় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। ওই সময় মুফতি ফয়জুল্লাহ সদ্য সমাপ্ত হেফাজতের কাউন্সিল অবৈধ দাবী করে স্থগিত চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দেশব্যাপী তাদের কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটি গঠন অব্যাহত রেখেছে।

ঢাকা মহানগর কমিটিতে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সভাপতি ও মাওলানা মামুনুল হককে সেক্রেটারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে মাওলানা তাজুল ইসলামকে সভাপতি ও মাওলানা লোকমান হাকীমকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে

https://www.facebook.com/azaharali.sarkar/posts/1783062118529035

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত