প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেহেরপুরে সবজির বাম্পার ফলন হলেও চাষীরা হতাশ, নেই সংরক্ষণাগার

মেহেরপুর প্রতিনিধি: [২] সবজী হিসেবে খ্যাত মেহেরপুরে বাজারে উঠেছে শীতকালীন সবজি। এই মৌসুমে ব্যাপক ফলন হয়েছে শীতকালীন সবজির। তবে বাজারে একেবারেই দাম কম এসব সবজির। এতে ক্রেতারা কিছুটা খুশি হলেও সবজির দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষীরা। দাম কম হওয়ায় উঠছে না উৎপাদন খরচ। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে সবজি উৎপাদনে খ্য্যত মেহেরপুর জেলার চাষীরা।

[৩] সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের কৃষক আইজ উদ্দিন আড়াই বিঘা জমিতে ফুল কপি চাষ করেন। বীজ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়েছে তার জমির ফুলকপি। করোনা কালীন সময়ে সবজির দাম পেলেও এখন বিশাল লোকশানের মুখে পড়েছেন তিনি।

[৪] একই গ্রামের সবজি চাষী রুহুল আমিন ১.৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করে দাম না পাওয়ায় সময় হওয়ার স্বত্বেও ফসল কাটেননি। তিনি বলেন, ভাল দাম পাওয়ার আশায় ১.৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও ১৫ কাটা জমিতে বিটকপি চাষ করেছি। ফুলকপি ঘরে তোলার সময় হলেও দাম না পাওয়ায় এখনো ফসল কাটিনি। ফুলকপি চাষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি পাওয়ার আশা নেই। সেই সাথে বিটকপি কাটছি না। কারণ ৭ থেকে ৮ হাজারের বেশি দামে বেচতে পারবো।

[৫] এমন অবস্থা জেলার অন্যান্য সবজি চাষীদের। ফুলকপি বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় ও বিটকপি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করছে কৃষক। পাইকারী বাজারে মূলা, শীম ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ টাকা কেজি দরে। টমেটো, পালংশাক, মিষ্টিকুমড়া, ধনে পাতারও। চলতি মৌসুমে সবজির ব্যপক চাষ ও ফলন হয়েছে। এক সাথে অনেক ফসল ওঠায় দাম পাচ্ছেনা চাষীরা। জেলায় আলু ছাড়া অন্য কোন কাচা সবজি সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। সংরক্ষণের অভাবে অল্প দামেই বেঁচতে হচ্ছে কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল।

[৬] চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। গত বছর ৩ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয় শীতকালীন সবজির। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ৫১০ হেক্টর বেশি জমিতে হয়েছে সবজির চাষ। একসাথে বেশি পরিমান সবজির চাষ-উৎপাদন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সকল ফসল বাজারে তুলতে হচ্ছে । ফলে পাওয়া যাচ্ছেনা কাঙ্খিত দাম।

[৭] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খা বলেন, এ বছর অনেক বেশি সবজির চাষ হয়েছে। একসাথে অনেক সবজি বাজারে ওঠায় দাম কমেছে। যদি সবজিগুলো ১০ থেকে ১৫ দিন সংরক্ষণ করা যেত তাহলে কৃষক সবজির কাঙ্খিত দাম পেতে পারতো।

[৮] যেহেতু জেলায় কোন সংরক্ষণাগার নেই সেহেতু সেটা সম্ভব হয়নি। তবে মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলায় সবজির সংরক্ষণাগার তৈরী করবে। এতে কৃষকরা তাদের সবজি সংরক্ষণ করতে পারবে এবং পর্যাপ্ত দাম পাবে। এছাড়া মেহেরপুর রেল লাইনের আওতায় আসলে মেহেরপুরের সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরী হবে। ফলে কৃষকভালো দাম পাবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত