প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শারফিন শাহ্: মস্তিষ্কহীনরাই আজকের ছেলেমেয়েদের কাছে আইডল!

শারফিন শাহ্: যারা ৯০ দশক থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তারা ফেসবুক, ইউটিউবে মোটিভেশনাল স্পিকারের প্যানপ্যান, অনলাইন স্কুলিং ইত্যাদি থেকে আলোকবর্ষ দূরে ছিলেন। তার মানে কি তাদের কোনো মোটিভেশন দরকার পড়তো না? অবশ্যই পড়তো। তবে তারা যেসব বই পড়ে মোটিভেশন নিতেন তার সঙ্গে আজকের মোটিভেশনাল বইয়ের আকাশ-পাতাল তফাৎ। এ যুগের মোটিভেশনাল বইয়ের নাম ‘ভাল্লাগে না’! আজব এক নাম। বইয়ের নামই তো মনের জোর কমিয়ে দেয়। আর ভেতরের ভাষার কথা নাই বা বললাম। জীবনে একটা বই না পড়েও গুগলের সাহায্যে কিছু তথ্য সাজিয়ে গুরুচণ্ডালী একটা কিছু বানিয়ে বাজারে ছেড়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেওয়া। বই কেউ পড়লো কিনা, কারও উপকারে আসলো কিনা। বইয়ের মান ঠিক হলো কিনা তার কোনো হদিস নেই। অথচ একসময় যারা ডা. লুৎফর রহমানের উন্নত জীবন, মানবজীবন, ধর্ম জীবন, যুবক জীবন প্রভৃতি বই পড়েছে তারা আজও ওসব বইয়ের প্রতি ঋণী। বইগুলোর ভাষা, উপমা, উদাহরণ, চিন্তা, দর্শন কতোটা ব্যাপক ছিলো তা এগুলো না পড়লে বুঝা দায়।

আমার সবসময়ই মনে পড়ে, উন্নত জীবন বইটির কথা। এই বইটি এতো চমৎকার গদ্যে লেখা যে পড়তে শুরু করলে শেষ না করে উঠবার জো নেই। বাংলা সাহিত্যে এ বইটি ক্লাসিক হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। তিনি যা লিখেছেন তা কেবল অনুপ্রেরণাদায়ী নয়, জীবনদর্শনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কয়েকটি উক্তির থেকেই তা স্পষ্ট হয় : [১]. ‘কোনো সভ্য জাতিকে অসভ্য করার ইচ্ছা যদি তোমার থাকে তাহলে তাদের বইগুলো ধ্বংস করো, সকল পণ্ডিতকে হত্যা করো, তাহলে তোমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে।’ [২] জাতি যখন দৃষ্টিসম্পন্ন ও জ্ঞানী হয়, তখন জাগবার জন্য সে কারো আহবানের অপেক্ষা করে না, কারণ জাগরণই তার স্বভাব।’ [৩] ‘তুমি তোমার ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করে তোলো, কেউ তোমার উপর অন্যায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।’ এখনকার বইগুলোতে এরকম চিরন্তন মানবকল্যাণধর্মী কোনো কথা কি আদৌ থাকে? থাকবে কীভাবে?

একটি বই লিখতে যতোটুকু জানা দরকার, যতোটুকু সময় দরকার, যতোটুকু চিন্তার ক্ষমতা দরকার, যতোটুকু রুচি দরকার তার কিয়দংশও এসব ভাইরাল লেখকদের মস্তিস্কে নেই। আর এইসব মস্তিষ্কহীনরাই আজকের ছেলেমেয়েদের কাছে আইডল! জ্ঞানসূচকে পেছনে আমরা পড়বো না তো কারা পড়বে? আজকের ওয়াইফাই জেনারেশনের কজন জানে ডা. লুৎফর রহমান, আবদুল্লাহ আল মুতী, রোকনুজ্জামান দাদাভাই, লুৎফর রহমান রিটন এর নাম? শতকরা ১০ শতাংশও নয়। অনেকে আশার আলো দেখেন, কিন্তু দশ বছর পরে কি হবে আমি তা এখনই অনুভব করতে পারছি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত