প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চালের দাম লাগামহীন, পণ্য কিনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় পণ্যগুলোর দাম হাতের নাগালে চলে এলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় চালের দাম বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল, খোলা ভোজ্য তেল ও ডালের দামও। ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। আর ভোক্তাদের এসব পণ্য কিনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানবজমিন

এদিকে চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, শাক-সবজির দাম আগের চেয়ে কমেছে। মাছ, মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আগের মতোই। তবে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে সরু চালের দাম খুচরায় ৫০ কেজির বস্তায় সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা অর্থাৎ কেজিতে ৮ টাকা বেড়েছে। পুরনো স্বর্ণা, পাইজাম ও বিআর-২৮ চালের দামও কেজিতে ১-২ টাকা করে বেড়েছে। আর সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১০ টাকার মতো করে বেড়েছে।

টিসিবি’র হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাজারে এখন সরু চাল ৬.৩৬ শতাংশ, মাঝারি চাল ১০.২০ শতাংশ এবং মোটা চাল ৩০.১৪ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া টিসিবি’র তথ্য মতে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ২৩.৬৪ শতাংশ, এক লিটারের বোতলের দাম বেড়েছে ১২.২০ শতাংশ, ৫ লিটারের বোতলের দাম বেড়েছে ১০.২২ শতাংশ। আর গত এক মাসে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৫.৭০ শতাংশ। এ ছাড়া বোতলজাত ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ৬.৯৮ শতাংশ। এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতিলিটার লুজ পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৫.১৭ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩২.৬১ শতাংশ।

অন্যদিকে টিসিবি’র তথ্যমতে, বছরের ব্যবধানে বড় দানার মসুরের ডাল প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ১৭.৩৯ শতাংশ। মাঝারি দানার প্রতিকেজিতে বেড়েছে ২১.৪৩ শতাংশ।

মগবাজার মধুবাগের খুচরা দোকান ‘মায়ের দোয়া’ স্টোরের বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম কয়েক দফায় বস্তায় প্রায় ৪০০ টাকা বেড়েছে। রশিদের মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা এখন ৩১০০ টাকা, ডলফিন, সাহারা, সালাম ব্র্যান্ডের বস্তার দাম ৩০০০ টাকা। পাইজাম এখন ২৪৫০ টাকা, গুটি স্বর্ণা ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নতুন ধানের বিআর-২৮ চালের দাম ২৪৫০ টাকা। সাধারণত পাইজামের দাম বিআর-২৮ চালের চেয়ে ১৫০ টাকা কম থাকে।

কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মানিক জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০-১০০ টাকা করে পুরনো চালের দাম বাড়ছে। তীর ব্র্যান্ডের মিনিকেট প্রতি বস্তা এখন ২৯০০ টাকা। এ ছাড়া নতুন আমন ধানের গুটি স্বর্ণা, পাইজাম, বিআর-২৮ চাল বাজারে রয়েছে। পাইকারিতে এসব চালের দাম প্রতি বস্তা ২৩৫০ টাকা। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পুরনো ধানের মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দাম বেড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

পাইকারি চাল বিক্রেতা তারিকুল বলেন, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে, যা গত ৩-৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মিনিকেট ২৯৫০ আর নাজির ২৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমন মওসুমের নতুন ধান থেকে আসা মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। পাইজাম যেটা ২৩৫০ টাকা ছিল সেটা এখন ২২০০ টাকায় নেমেছে। মূল বিষয়টি হচ্ছে মোটা চালের দাম কমেছে আর গত মওসুমের চালের দাম বেড়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন দাম পড়তির দিকে থাকা সুগন্ধি চালের দামও সম্প্রতি বাড়া শুরু করেছে। কেজিতে গড়ে ৫ টাকা করে বেড়ে প্রকারভেদে ৭৩ টাকা থেকে ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি চাল।
জানা গেছে, চলতি আমন মওসুমে সরকার ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল ও ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই দামে চাল দিলে লাভের পরিবর্তে উল্টো লোকসান হবে জানিয়ে চাল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মিল মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের বাজার থেকে প্রতি কেজি ৩৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে এক লাখ টন চাল আমদানি শুরু করছে সরকার।

এদিকে মুদি দোকানে দেখা গেছে, এক লিটার সয়াবিন তেলের গায়ে দাম দেয়া আছে ১২৫ টাকা। দোকানি জানান, এর কোনোটা ১১০ টাকা এবং কোনোটা এক ১১৫ টাকায় কিনতে পারছি। বিক্রি করছি গায়ের লেখা খুচরা মূল্য অনুযায়ী। রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ৫ লিটারের বোতল কেনা পড়ছে ৫৬৭ টাকা, বিক্রি ৬৩০ টাকায়। এক মাস আগে এই বোতল কিনতে লাগতো ৪৫৫ টাকা। তীর ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের তেল কেনা পড়ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৫৫৫ টাকা, বিক্রি করছি ৬২৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজির ক্রয়মূল্য ১০৮ টাকা, বিক্রি ১১৫ টাকা। ১০ দিনের ব্যবধানে এই তেলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

খুচরায় কিছু মুদি দোকানে এখনো প্রতি লিটার ১১৫ টাকা এমআরপি’র বসুন্ধরা ও তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। বোতলজাত তেলের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি পাম অয়েল লুজ প্রতিলিটার বিক্রি হয়েছে ৯৬ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৯৩ টাকা ও এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ৭৫ টাকায়।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, দেশে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ৫ থেকে ৬টি কোম্পানি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে মিল মালিকরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি তেলের দাম প্রতি মণে ১০০ টাকা করে কমলেও আবার ২০ টাকা করে বেড়ে গেছে। এই তেল ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৯৩ টাকা ১৭ পয়সা।

ডালের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি বড় দানার মসুরের ডাল বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৭০-৭৫ টাকা ও এক বছর আগে একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬০ টাকায়।

ওদিকে বাজারে ভরপুর শীতের শাক-সবজি আসায় গত দুই সপ্তাহ ধরে এসব খাদ্যপণ্যের দাম কমের দিকে। লাল শাক, পালং শাক, মুলা শাক, সরিষা শাক, লাউ শাকের আঁটি কেনা যাচ্ছে প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকায়। ১৫ দিন আগেও এসব শাকের আঁটি বিক্রি হতো ১৫ থেকে ২০ টাকায়। শীতের সবজি মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, গাজর, বরবটির দামও কমে এসেছে। প্রতিটি ১৫ টাকায় মিলছে ফুলকপি-বাঁধাকপি। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে শিম, বরবটি। মাঝারি আকারের হৃষ্টপুষ্ট লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকায়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা মাইদুল বলেন, আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে একটা পণ্যের কমলে আরেকটার দাম বাড়ে। বেতন তো আর বাড়ে না। তাই বাধ্য হয়েই সংসারের অনেক খরচ কমিয়ে আনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত