প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ম্যারাডোনার সাবেক বান্ধবীকে শেষ দেখা করতে দেননি সাবেক বউ!

ডেস্ক রিপোর্ট: ডিয়েগো ম্যারাডোনার জীবনে এসেছেন একাধিক নারী। রোসিও অলিভা কি সর্বশেষ? অন্তত তাঁর নিজের দাবি এমনই। বয়সে ৩০ বছরের ছোট হয়েও ম্যারাডোনার জীবনের শেষ দিকে এসেছিলেন তিনি। দুজনের সম্পর্ক পরে ভেঙেও যায়।

কিন্তু ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর অলিভা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ছুটে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদায়। সেখানে রাখা ছিল ম্যারাডোনার কফিন।

কিংবদন্তির পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের একজন হিসেবে কাসা রোসাদার ভেতরে ঢুকে ম্যারাডোনাকে শেষবিদায় জানাতে চেয়েছিলেন অলিভা। তাতে বাধে বিপত্তি। সে জন্য এখন ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিয়াফানের দিকে আঙুল তুলছেন অলিভা।

আর্জেন্টাইন সময় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কাসা রোসাদায় রাখা ছিল ম্যারাডোনাকে বহনকারী কফিন। বুয়েনস এইরেসে সময় সকাল ছয়টা থেকে সবার জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল কাসা রোসাদার মূল ফটক।

সাধারণ মানুষকে শেষ দেখার সুযোগ দেওয়ার আগে ম্যারাডোনার পরিবার ও কাছের মানুষকে আলাদাভাবে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো দেখে যান তাঁর সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিয়াফানে, দুই দুই দালমা ও জিয়ান্নিনা। দেখতে আসেন ভেরোনিকা ওজেদাও। অনেকের চোখে তিনি ম্যারাডোনার সাবেক বান্ধবী, কেউ মনে করেন সাবেক স্ত্রী।

ভেরোনিকার সঙ্গে ছিলেন ম্যারাডোনার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ফার্নান্দো ম্যারাডোনা ওজেদা। এই দলের অংশ হয়ে কাসা রোসাদায় ঢুকতে চেয়েছিলেন অলিভা।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়, দেরি করে আসায় অলিভাকে ঢুকতে দেওয়া যায়নি। যদিও তখন অলিভা দাবি করেছিলেন, তাঁকে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল, পরিবারের একজন হিসেবে যেটা খুব আপত্তিকর।

অর্থাৎ ৬০ বছর বয়সী ম্যারাডোনার ঘনিষ্ঠজনদের একজন হিসেবে তাঁকে শেষবিদায় জানাতে পারেননি অলিভা। এ নিয়ে তিনি পরে মুখ খুলেছেন সংবাদমাধ্যমে।

ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিয়াফানের ইচ্ছায় তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে কেঁদে ফেলেন অলিভা।

এমন ব্যবহারকে ‘অপমান’ বলেই মনে করছেন তিনি। এর আগে ম্যারাডোনাকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে যাঁদের ঢুকতে দেওয়া হবে, তাঁদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

এই তালিকা থেকে অলিভার নাম ভিয়াফানের কথায় তুলে নেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ, ‘কে ঢুকবে তা ভিয়াফানের ওপর নির্ভর করে। জানি না ওরা আমার সঙ্গে কেন এমন করছে। শুধু শেষবিদায় জানাতে চেয়েছিলাম। আমি ছিলাম তাঁর শেষ সঙ্গী। বাকিদের তাঁর ওপর যতটা অধিকার, আমারও তা-ই। তাঁদের ডিয়েগোকে নিয়ে একটু ভাবা উচিত, যে এখন মৃত। সৃষ্টিকর্তা সব দেখছেন, একদিন এর মূল্য দিতে হবে।’

২০১৮ সালে বিচ্ছেদের আগে ছয় বছর অলিভার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ‘নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’ বলেছেন অলিভা, ‘আমরা একে অন্যকে ভালোবেসেছিলাম, তাঁকে ইতিবাচকভাবেই সব সময় মনে রাখব।’

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ সময় গত বুধবার রাতে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। বাংলাদেশ সময় কাল তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। প্রথম আলো

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত