শিরোনাম
◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে ◈ ট্রাম্পের 'পাগলামি' ও বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাকীত্ব  ◈ কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫ ◈ ঈদে জাতীয় ঈদগাহে থাকছেন তারেক রহমান, নিজ নিজ এলাকায় নামাজ পড়বেন মন্ত্রীরা

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ০৯:০৩ সকাল
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ০৯:০৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়: ম্যারাডোনা মানে চিরায়ত কৈশোর, আঠারো বছর বয়সের চির জয়

উদয় বন্দ্যোপাধ্যায় : ১৯৮৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর জামাইবাবু দিদির বোকারোর কোয়ার্টারে এক মাসের নির্বাসনে আমার একমাত্র আলো ছিলো মাঝরাতের বিশ্বকাপ দর্শন। দিদিদের কোয়ার্টারের ওপরতলায় সোমনাথদার ঘরে ছোট্ট সাদাকালো টিভিতেই এতোদিন নামে চেনা মানুষটাকে ভার্চুয়ালি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। তবে সে মানুষটা দেবতায় পর্যবসিত হলেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় গোলটার পর।

‘রেড ডেভিলস্’ বেলজিয়ামের সঙ্গে সেমিফাইনালে আরেকটা শিল্পময় গোল সে দেবতার মন্দির গড়ে তুলেছিলো এই হৃদয়ে। আর ফাইনালে বেকেনবাওয়ার রুমেনিগের পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে দু’গোলে এগিয়েও দুই দুই হয়ে যাওয়ার পর সেই ডিফেন্স চেরা পাস আর ৮৪’র নেহেরু কাপে ইডেনে দেখা বুরুচাগার গোল...বুকে আঁকড়ে বেঁচে আছি চৌত্রিশ বছর।

১৯৯০ সালের প্রতিটা খেলা, প্রতিটা ওঠা পড়া, পুম্পিদোর আহত হয়ে গাইকোচিয়ার ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভাব, ব্রাজিলের সঙ্গে সেই থ্রু আর ক্যানিজিয়ার গোল, যুগোস্লাভিয়ার সাথে টাই ব্রেকে মিস, ইতালির সঙ্গে টাইব্রেকে গোল, আর ফাইনালে জার্মানির সঙ্গে রেফারি কোদেসালের বিতর্কিত পেনাল্টির পর আমাদের দেবতার চোখের জলে মিশে গেছে আমাদের চোখের জল।

ঘুমহারা বাকি রাতে আমি আর আমার মামাতো ভাই লাল্টু ভেজা চোখে প্রতিজ্ঞা করেছি এই হারের বদলা নেওয়ার জন্যআমরা বেঁচে থাকবো। তারপর, ১৯৯৪। ঈশ্বরের প্রত্যাবর্তন, ঈশ্বরের অবিশ্বাস্য নির্বাসন... একটা ব্যক্তিগত আশাভঙ্গ হয়ে মিশে গেছে এ তুচ্ছ জীবনে। বারবার ফিরে এসেছে বিশ্বকাপ।

বারবার মাঠে নেমেছে আমাদের ঈশ্বরের দেশ আর্জেন্টিনা। এসেছেন বাতিস্তুতা, এসেছেন ওর্তেগা, এসেছেন ক্রেসপো, এসেছেন তেভেজ, এসেছেন প্রচারালোকোদ্ভাসিত লিওনেল মেসি। দেশের আরেকটা বিশ্বকাপ জয় চেয়ে গ্যালারিতে বসে থেকেছেন আমাদের ঈশ্বর, আমরা বসে থেকেছি হাজার হাজার মাইল দূরের একটা দেশকে নিজেদের আর এক স্বদেশ মেনে তার জয় দেখবো বলে।

সে দিন আর ফিরে এলোনা জীবনে। আমাদের প্রাণের দেবতা হয়তো ফিরে গেলেন কোনো স্বপ্নের দেবলোকে। আবার আসবে বিশ্বকাপ। সবুজ মাঠে নামবে প্রিয় নীল সাদা। ঈশ্বর কি ফিরে আসবেন অন্য কোনো রূপে, অন্য কোন নামে? সে উত্তর পাওয়ার জন্য আমরাও কজন জেগে থাকবো, তাও অবশ্য তথাকথিত ঈশ্বরেরই জানা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়