শিরোনাম
◈ সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার যে ৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয় ◈ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শান্তিতে আছি, প্রধানমন্ত্রীকে বললেন হিন্দু নেতারা ◈ ডি মারিয়ার জোড়া গোল, রোসারিওর সহজ জয় ◈ আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ইনিংস ঘোষণা, লিটনের সেঞ্চুরি, জয় দেখ‌ছে টাইগাররা ◈ ২৫ বছরের ক্ষমতার পর মোদির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ◈ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় ১০ নেত্রী ◈ মেয়ের নিখোঁজে বাবা-মায়ের উদ্বেগহীনতা সমাজের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ◈ রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ, বিকল্প হিসেবে দাম্মাম ও মদিনায় পাঠানো হবে যাত্রীদের: বিমানমন্ত্রী ◈ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর চেয়েও বেশি আয় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রদের ◈ যে কারণে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের দোকান বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ০৯:০৩ সকাল
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ০৯:০৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়: ম্যারাডোনা মানে চিরায়ত কৈশোর, আঠারো বছর বয়সের চির জয়

উদয় বন্দ্যোপাধ্যায় : ১৯৮৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর জামাইবাবু দিদির বোকারোর কোয়ার্টারে এক মাসের নির্বাসনে আমার একমাত্র আলো ছিলো মাঝরাতের বিশ্বকাপ দর্শন। দিদিদের কোয়ার্টারের ওপরতলায় সোমনাথদার ঘরে ছোট্ট সাদাকালো টিভিতেই এতোদিন নামে চেনা মানুষটাকে ভার্চুয়ালি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। তবে সে মানুষটা দেবতায় পর্যবসিত হলেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় গোলটার পর।

‘রেড ডেভিলস্’ বেলজিয়ামের সঙ্গে সেমিফাইনালে আরেকটা শিল্পময় গোল সে দেবতার মন্দির গড়ে তুলেছিলো এই হৃদয়ে। আর ফাইনালে বেকেনবাওয়ার রুমেনিগের পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে দু’গোলে এগিয়েও দুই দুই হয়ে যাওয়ার পর সেই ডিফেন্স চেরা পাস আর ৮৪’র নেহেরু কাপে ইডেনে দেখা বুরুচাগার গোল...বুকে আঁকড়ে বেঁচে আছি চৌত্রিশ বছর।

১৯৯০ সালের প্রতিটা খেলা, প্রতিটা ওঠা পড়া, পুম্পিদোর আহত হয়ে গাইকোচিয়ার ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভাব, ব্রাজিলের সঙ্গে সেই থ্রু আর ক্যানিজিয়ার গোল, যুগোস্লাভিয়ার সাথে টাই ব্রেকে মিস, ইতালির সঙ্গে টাইব্রেকে গোল, আর ফাইনালে জার্মানির সঙ্গে রেফারি কোদেসালের বিতর্কিত পেনাল্টির পর আমাদের দেবতার চোখের জলে মিশে গেছে আমাদের চোখের জল।

ঘুমহারা বাকি রাতে আমি আর আমার মামাতো ভাই লাল্টু ভেজা চোখে প্রতিজ্ঞা করেছি এই হারের বদলা নেওয়ার জন্যআমরা বেঁচে থাকবো। তারপর, ১৯৯৪। ঈশ্বরের প্রত্যাবর্তন, ঈশ্বরের অবিশ্বাস্য নির্বাসন... একটা ব্যক্তিগত আশাভঙ্গ হয়ে মিশে গেছে এ তুচ্ছ জীবনে। বারবার ফিরে এসেছে বিশ্বকাপ।

বারবার মাঠে নেমেছে আমাদের ঈশ্বরের দেশ আর্জেন্টিনা। এসেছেন বাতিস্তুতা, এসেছেন ওর্তেগা, এসেছেন ক্রেসপো, এসেছেন তেভেজ, এসেছেন প্রচারালোকোদ্ভাসিত লিওনেল মেসি। দেশের আরেকটা বিশ্বকাপ জয় চেয়ে গ্যালারিতে বসে থেকেছেন আমাদের ঈশ্বর, আমরা বসে থেকেছি হাজার হাজার মাইল দূরের একটা দেশকে নিজেদের আর এক স্বদেশ মেনে তার জয় দেখবো বলে।

সে দিন আর ফিরে এলোনা জীবনে। আমাদের প্রাণের দেবতা হয়তো ফিরে গেলেন কোনো স্বপ্নের দেবলোকে। আবার আসবে বিশ্বকাপ। সবুজ মাঠে নামবে প্রিয় নীল সাদা। ঈশ্বর কি ফিরে আসবেন অন্য কোনো রূপে, অন্য কোন নামে? সে উত্তর পাওয়ার জন্য আমরাও কজন জেগে থাকবো, তাও অবশ্য তথাকথিত ঈশ্বরেরই জানা।

  • সর্বশেষ