প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর নামে মন্দির করুন, মূর্তি নয়: মাওলানা আতাউর

ডেস্ক রিপোর্ট : ভাস্কর্য ও মূর্তিকে আলাদা কিছু মনে করেন না ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান জানাতে চাইলে তাই তার নামে ভাস্কর্য স্থাপন নয়, প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভাস্কর্য ও মূর্তি একই জিনিস। মূর্তি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলামানের আপত্তি রয়েছে। তাই এর আগেও ভাস্কর্য ও মূর্তি স্থাপন নিয়ে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যদি সম্মান জানাতেই হয়, উনার নামে আরও প্রতিষ্ঠান করেন— স্কুল করেন, কলেজ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় করেন, মসজিদ করেন, মাদরাসা করেন। প্রয়োজনে মন্দিরও করেন, আমাদের আপত্তি নেই। তবে মূর্তি বা ভাস্কর্য নয়।

আলোচনায় যুক্ত হয়ে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ধোলাইপাড়ে যে ভাস্কর্য স্থাপন হতে যাচ্ছে, এই বিষয়ে আপত্তি কিন্তু একজন বা দু’জনের নয়— গোটা বাংলাদেশের যারা মুসলামান, ইসলামপন্থী জনশক্তি রয়েছে, আলেম-ওলামা রয়েছেন, ধর্মীয় যারা অভিভাবক রয়েছেন— তাদের সবার আপত্তি। সব মহলেরই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই মূর্তি নিয়ে এত আপত্তি কেন? বাংলাদেশের তো আরও অনেক যায়গায় অনেক মূর্তি রয়েছে। এটা অবশ্যই মূর্তি। ভাস্কর্যও বলতে পারেন। আপত্তি নেই। ভাস্কর্য ও মূর্তি দু’টি একই জিনিষ। কিন্তু স্থান-কাল পাত্রভেদে যেকোনো জিনিসের গুরুত্ব ভিন্ন হয়। বিমানবন্দরের সামনে যখন লালনের মূর্তি স্থাপনের কথা বলা হচ্ছিল, তখন আমরা আপত্তি জানিয়েছি, তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। সেখানে এখন সুন্দর একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে। হাইকোর্টের সামনে যখন গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, এ দেশের মুসলমানরা তীব্রভাবে আপত্তি জানিয়েছিলাম এবং পরে সেটা সেখান থেকে অপসারণ করা হয়। যেকোনো প্রাণীর প্রতিমূর্তি, ভাস্কর্যই বলেন আর মূর্তিই বলেন, সেটা যেকোনো জায়গায় নিন্দনীয়। এটা কোনো মুসলমান সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এখানকার গুরুত্বটা এই জন্যই বেশি যে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মাসেতু। পদ্মাসেতুটা আমাদের বিশাল অর্জন। পদ্মাসেতুর মাথায় একটি মূর্তি বসানো হবে— এটা দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না। যেখানে মূর্তিটা বসানোর জন্য জায়গা র্নিধারণ করা হয়েছে, এর দুই পাশে দু’টি মসজিদ রয়েছে। একটি মসজিদের মেহরাব থেকে খুব দূরে নয় এই মূর্তির জায়গাটি। স্থানীয় আলেম-ওলামারা প্রথমে এর প্রতিবাদে নেমেছেন। সেখানে ধর্মীয় আলেম-ওলামরা যখন নেমেছিলেন, তখন কোনো দলীয় ব্যানার ছিল না।

ইসলামী আন্দোলনের এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এই মূর্তি কেন আমাদের হবে? এটার সুবিধাটি কী? জনগণ এর থেকে কী পাবে? জনগণের কী কল্যাণ আছে এখানে মূর্তি বসালে? রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এখানে মূর্তি স্থাপন করা হবে কার স্বার্থে? কেন? কাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে? বঙ্গবন্ধু কি এজন্য কিছু পাবেন? বঙ্গবন্ধুর কি কোনো উপকার হবে? বা আওয়ামী লীগের কি কোনো উপকার হবে? জনগণের কোনো উপকার হবে? কোনো উপকার হবে না। কারও কোনো কল্যাণ নেই। অযথা একটি অপচয়। এক হচ্ছে ধর্মীয়ভাবে মূর্তি স্থাপন অবৈধ এবং সেটা গুনাহর কাজ। অন্য বিষয় হচ্ছে এতে জনগণের কোনো কল্যাণ নেই। সারাদেশে মূর্তি স্থাপন করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে— এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের কী ফায়দা?’

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, যখন কোনা কিছু প্রতিরূপ পূজা করা বা তার প্রার্থনার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়, সেটিকে বলে মূর্তি বা প্রতিমা। অন্যদিকে ভাস্কর্য তৈরি করা হয় কোনো ব্যক্তি বা কোনোকিছুকে সম্মাননা জানানোর জন্য। এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন মওলানা আতাউর রহমান। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে যেকোনো ব্যক্তির অবয়ব সংক্রান্ত স্থাপত্যকেই মূর্তি বলে অভিহিত করেন তিনি।

মওলানা আতাউর রহমান বলেন, ‘ভাস্কর্য ও মূর্তি একই জিনিস। এ পর্যন্ত যে উদাহরণ দিয়েছি, কারও কিন্তুই পূজা করা হয় না। লেলিনেরও পূজা করা হয় না, মহাত্মা গান্ধীরও পূজা করা হয় না, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারও পূজা করা হয় না, শ্রীদেবীরও পূজা করা হয় না। কিন্তু তাদের অবয়ব বা প্রতিকৃতিকে মূর্তি বলা হয়েছে। অতএব ভাস্কর্য ও মূর্তিকে যারা আলাদা করতে চায়, তারা হয়তো মূর্খ অথবা জ্ঞানপাপী।’

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, ‘জাতির জনককে যদি শ্রদ্ধাই জানাতে হয়, উনার নামে আরও প্রতিষ্ঠান করেন। স্কুল করেন, কলেজ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় করেন, মসজিদ করেন, মাদরাসা করেন, প্রয়োজনে মন্দিরও করেন। আমাদের আপত্তি নেই।’
সূত্র- সারাবাংলা

সর্বাধিক পঠিত