প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুব্রত বিশ্বাস: অগণতান্ত্রিকতার ব্যাধি সর্বাঙ্গে ছড়িয়েছে!

সুব্রত বিশ্বাস: রাজনৈতিক চরিত্রের যে ধর্মটির কথা বহুচর্চিত, তার নাম গণতান্ত্রিকতা। ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সক্রিয় দায়বদ্ধতা সেই গণতান্ত্রিকতার শর্ত। অনেক দূর অবধি সেই শর্ত রক্ষা করলেই দেশে গণতন্ত্র বলবৎ হয়।

স্বাধীনতা কতোটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়া গণতন্ত্রের সার্থক অনুশীলন বহু ঘাটতি এবং বিকৃতি সত্তেও যে সার্থকতা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যই ছিল অনন্য এবং সেই সার্থকতার পেছনে লইয়া প্রধানমন্ত্রীর সকলকে চলবার স্বাভাবিক আগ্রহ কত বড় ভ‚মিকা পালন করিয়াছিল, আজ, ছয়-সাত দশকের দূরত্ব হতে তার মর্ম হয়তো কিছুটা অনুধাবন করা যায়। এই প্রসঙ্গে একটি কথা সযতেœ লক্ষ্য করা দরকার। গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত বিপন্নতা সম্পর্কে সচেতন… গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হয়, রক্ষা করবার জন্য সতত সচেতন এবং তৎপর থাকতে হয়, নচেৎ তা বিপন্ন হতে পারে।

বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের সঙ্কট ও সর্বনাশের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক বিবর্তনও এই সত্যের স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক, বিশেষ করিয়া দেশের সমাজ ও রাজনীতির অন্দরমহলেই যে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিকতার বিবিধ দুর্বলতার আকর নিহিত রহিয়াছে, অভিজ্ঞতা তাঁকে সেই বিষয়ে দ্রুত নূতন নূতন শিক্ষা দান করিয়াছিল। এক দিকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অন্য দিকে রাজনীতিক ও প্রশাসকদের গণতান্ত্রিকতার মানসিকতা, এই দুই বিষয়েই উত্তরোত্তর গুরুত্ব দিয়া রাষ্ট্রনীতির পরিচালনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সে ভূমিকাকে সম্পূর্ণ রক্ষা করতে পা… অত্যন্ত সঙ্গত। কিন্তু অগণতান্ত্রিকতার ব্যাধির লক্ষণ চিনতে যেন ভুল না হয়।

অগণতান্ত্রিকতার ব্যাধি সর্বাঙ্গে ছড়াইয়াছে। বিপন্ন গণতন্ত্র উদ্বেগজনক, ভয়ঙ্কর উদাহরণ হিসাবে নানা দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও এক নিশ্বাসে উচ্চারিত হইতেছে। লক্ষ করবার বিষয়, এই বিপদ বাহির হতে আসে নাই, আসছে ভিতর হতেই। এবং তা আক্রমণ করছে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের প্রধান রক্ষাকবচ, তাদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে ব্যাধিগ্রস্ত, দুর্বল, ক্ষমতাবানের অন্যায়ের নীরব দর্শক অথবা সক্রিয় সহায়ক। বিচারবিভাগের উপর সম্পূর্ণ ভরসা হারাবার মতো পরিস্থিতি হয়তো এখনও হয় নাই, কিন্তু তা খুব বড় আশ্বাস হতে পারে না। বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় আদালতের ভূমিকা লইয়া নানা উদ্বেগের কারণ ঘটছে, ঘটিয়া চলছে। তদুপরি বলতেই হয়— দুর্ভাগা সেই গণতন্ত্র, যার সমস্ত ভরসা আদালতের উপর সমর্পিত হয়। তেমন দুর্ভাগ্যের বিরুদ্ধে একমাত্র লড়াই করতে পারে জনসমাজ। সামাজিক আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং মানবাধিকার রক্ষায় ব্রতী বিবিধ সংগঠনের কর্মকান্ডে তেমন লড়ায়ের কিছু কিছু নমুনা দেখা যাইতেছে। সকল প্রদীপ এখনও নির্বাপিত হয় নাই। শেষরক্ষার জন্য হয়তো সাধারণ মানুষের চেতনা এবং উদ্যমের উপরেই আস্থা রাখ

সর্বাধিক পঠিত