প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসছে শ্রমিকরা, ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত

নিউজ ডেস্ক : পুরনো শ্রমবাজারগুলোর দুর্দশা কিছুতেই কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর আগের ধারা ফিরছে না সহসাই। বরং মধ্যপ্রাচ্যের বড় বাজারগুলো থেকে প্রতিনিয়তই ফিরতে হচ্ছে হাজার হাজার কর্মীকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে ও বৈধ পথে বিদেশযাত্রা অব্যাহত রাখতে নতুন শ্রমবাজারকে টার্গেট করা হয়েছে। অবশ্য কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত চেষ্টা চলছে এ ধরনের বাজার খোঁজার। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই দক্ষ শ্রমিকের কোনো বিকল্প দেখা যাচ্ছে না।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, নতুন শ্রমবাজার হিসেবে জাপান, ইউরোপের বেশ কিছু গন্তব্য যেমন ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উজবেকিস্তান থেকে বেশ কিছু চাহিদাপত্র আসায় কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের কেয়ারগিভার হিসেবে জাপান, জার্মানি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ড থেকেও এ খাতে কর্মীর চাহিদাপত্র এসেছে। জানা যায়, এরই মধ্যে উজবেকিস্তানে ১ হাজারের বেশি কর্মী যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। ২৩৯ জন বাংলাদেশি কর্মী ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৫০ জন কর্মী সেখানে যাবেন। এদের সবাই দক্ষ কর্মী হিসেবে উজবেকিস্তানের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র বলছেন, জন্মহার কম ও কর্মক্ষম জনশক্তি দিন দিন কমে আসছে এমন ৫৩টি দেশে শ্রমবাজার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আগেই। যার ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে সেশেলস ও মরিশাসে জনশক্তি পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির লক্ষ্যে পোল্যান্ড, আলজেরিয়া ও জাপানে যোগাযোগ বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে এসব দেশের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য। নতুন শ্রমবাজার হিসেবে ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও সাড়া পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে ছয়টি নতুন দেশে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। দেশগুলো হলো কম্বোডিয়া, পোল্যান্ড, চীন, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সেশেলস।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কর্মীর চাহিদা কমে আসছিল। এখন অর্থনৈতিক মন্দা, বৈশ্বিক রাজনীতি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার লোভের কারণে পরিস্থিতি সংকুচিত হয়ে এসেছে। গত বছর বিভিন্ন দেশে কর্মী গেছেন প্রায় ৭ লাখ। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই গেছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার। একই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৩ হাজার ৩১৮, ওমানে ৭২ হাজার ৬৫৪, কাতারে ৫০ হাজার ২৯২, কুয়েতে ১২ হাজার ২৯৯, বাহরাইনে ১৩৩, লেবাননে ৪ হাজার ৮৬৩ ও মিসরে একজন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। আর চলতি বছর বিভিন্ন দেশে গেছেন ১ লাখ ৮১ হাজার কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার; যা মোট কর্মী রপ্তানির ৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া ওমানে ১৭ হাজার ৩৯৮, কাতারে ৩ হাজার ৫০৩, ইউএইতে ৮৫৩, কুয়েতে ১ হাজার ৭৪১ ও বাহরাইনে একজন কর্মী গেছেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে দেশভিত্তিক জনশক্তি রপ্তানি পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৯ সালে মোট জনশক্তি রপ্তানির সিংহভাগ ৫৪ শতাংশ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরতে। অথচ ২০১৯ সালে এ হার হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশে। অন্যদিকে সৌদি আরবে ২০০৯ সালে জনশক্তি রপ্তানি মোট জনশক্তির মাত্র ৩ শতাংশ হলেও ২০১৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে ২০১৮ সালে তা হ্রাস পেয়ে ৩৫ শতাংশ হলেও ২০১৯ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাহরাইনে ২০০৯ সালে ৬ শতাংশ জনশক্তি রপ্তানি হলেও ২০১৯ সালে তা হ্রাস পেয়ে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সিঙ্গাপুরে জনশক্তি রপ্তানি ২০০৯ সালের তুনলায় ২০১৯ সালে হ্রাস পেয়ে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালে বিদেশগামী নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ২২৪। ২০১৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ জনে দাঁড়ায়, যা আগের বছরগুলোর মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে ২০১৯ সালে নারী কর্মী গমনের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৬-তে নেমে আসে। যা মোট কর্মী গমনের প্রায় ১৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

করোনাকালেই ফিরল প্রায় ৩ লাখ, অর্ধেকই সৌদি-আমিরাতের : চলমান করোনাভাইরাস মহামারীতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসছে প্রবাসী কর্মীরা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ফিরেছে ২ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ জন। এর অর্ধেকের বেশিই ফিরেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সর্বোচ্চসংখ্যক ৭৬ হাজার ৯২২ কর্মী সৌদি আরব থেকে ফিরেছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭১ হাজার ৯০৩, মালদ্বীপ থেকে ১৩ হাজার ২২৪, সিঙ্গাপুর থেকে ৫ হাজার ৩১১, ওমান থেকে ১৬ হাজার ৯৫, কুয়েত থেকে ১১ হাজার ৯৫২, বাহরাইন থেকে ২ হাজার ২৩, কাতার থেকে ২৯ হাজার ৬৫৫, মালয়েশিয়া থেকে ১২ হাজার ৩৬৮, জর্ডান থেকে ২ হাজার ২০৪, ইরাক থেকে ১০ হাজার ১৬৯, তুরস্ক থেকে ১০ হাজার ৪৫৩ এবং লেবানন থেকে ফিরেছেন ৭ হাজার ১৬৯ জন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সূত্রের খবর, ফিরে আসা শ্রমিকের অধিকাংশই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন প্রবাসে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাজ না থাকা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, প্রতারিত হওয়া এবং ভিসার মেয়াদ শেষ বা আকামা (কাজের অনুমতি) না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ফেরত আসতে হয়েছে তাদের। এর সিংহভাগেরই ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত। বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক পঠিত